ছবি : সংগৃহীত
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের প্রতিটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও যাচাই–বাছাই সম্পন্ন করেছে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। রোববার (২৯ মার্চ) রাতে সংসদ ভবনে কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, আগামী ২ এপ্রিল এই কমিটির চূড়ান্ত রিপোর্ট জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে। অনেকগুলো অধ্যাদেশ বর্তমান আকারেই পাসের সিদ্ধান্ত হলেও কিছু ক্ষেত্রে সংশোধনীর প্রস্তাব আনা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে এসব অধ্যাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ করতে হয়। তবে হাতে সময় অত্যন্ত কম থাকায় (আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে) সবকটি অধ্যাদেশকে বিল হিসেবে পাস করা সম্ভব নাও হতে পারে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “যেসব অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইনে পরিণত করা সম্ভব হবে না, সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘ল্যাপস’ বা বাতিল হয়ে যাবে। তবে এতে প্রশাসনিক কোনো জটিলতা হবে না; পরবর্তী অধিবেশনে সেগুলো নতুনভাবে বিল আকারে উত্থাপন করা হবে।” বিশেষ করে সীমানা নির্ধারণ বা আরপিও (RPO) সংক্রান্ত বিষয়গুলোর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব থাকায় এগুলোকে দ্রুত আইনে রূপান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
বৈঠকে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও ভিন্নমতের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বিশেষ কমিটির কয়েকজন সদস্য—যাদের মধ্যে বিরোধী দল ও সরকারি দলের সদস্যও রয়েছেন—কিছু অধ্যাদেশের ব্যাপারে ‘নোট অফ ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত দিয়েছেন। কমিটির চূড়ান্ত রিপোর্টে তাঁদের বক্তব্য হুবহু প্রতিফলিত হবে। তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা যখন সংসদে বিল উত্থাপন করবেন, তখন সকল সংসদ সদস্যই নিজ নিজ যৌক্তিক বক্তব্য পেশ করার সুযোগ পাবেন। পুলিশ অধ্যাদেশ এবং মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আইনমন্ত্রী বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গণভোট অধ্যাদেশ নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, “গণভোট অধ্যাদেশের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। যে উদ্দেশ্যে এটি জারি করা হয়েছিল, সেই গণভোট সম্পন্ন হয়েছে। তাই এটিকে নতুন করে বিল আকারে এনে আইন বানানোর কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। এটি সংবিধানের অংশ ছিল না, কেবল একটি বিশেষ উদ্দেশ্য সফল করার জন্য প্রণীত হয়েছিল।”
বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, এ. এম. মাহবুব উদ্দিন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীনসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। বিশেষ আমন্ত্রণে বৈঠকে অংশ নেন মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান। কমিটির এই রিপোর্ট সংসদের আগামী অধিবেশনে দেশের আইনি কাঠামোয় বড় ধরণের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা 























