সংগৃহীত ছবি
ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে ঘরে ঘরে পেটের সমস্যা লেগেই আছে। রাস্তার ধারের কাটা ফল, খোলা পানীয় কিংবা অস্বাস্থ্যকর বাইরের খাবার থেকে ছড়ানো ভাইরাস ‘স্টমাক ফ্লু’র মতো রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে কয়েক গুণ। চিকিৎসকদের মতে, এই সময়ে হজমশক্তি বাড়াতে এবং পেট সুস্থ রাখতে টক দই বা প্রোবায়োটিক হতে পারে আপনার সেরা প্রাকৃতিক প্রতিষেধক।
দইয়ে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া বা প্রোবায়োটিক সরাসরি অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়, যা ক্ষতিকর ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে শরীরকে ভেতর থেকে সতেজ রাখে। সাধারণ চিনির শরবতের বদলে দই দিয়ে তৈরি স্বাস্থ্যকর পানীয় নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে শরীর ঠান্ডা থাকার পাশাপাশি পানিশূন্যতাও দূর হয়।
নিচে দই দিয়ে তৈরি ৫টি কার্যকরী পানীয়র রেসিপি দেওয়া হলো:
১. দইয়ের মসলা ঘোল: টক দই, ঠান্ডা পানি, বিট লবণ, জিরা গুঁড়া এবং আদা কুচি মিশিয়ে তৈরি এই ঘোল দ্রুত হজমে সাহায্য করে এবং অ্যাসিডিটি কমায়।
২. পুদিনা ও দইয়ের শরবত: টক দইয়ের সাথে টাটকা পুদিনাপাতা, লেবুর রস ও বিট লবণ মিশিয়ে ব্লেন্ড করে নিন। এটি বিশেষ করে শিশুদের পেটের জন্য খুবই উপকারী এবং গরমে প্রশান্তি দেয়।
৩. শসা-পুদিনার কুলার: শরীরকে পানিশূন্যতা থেকে বাঁচাতে টক দইয়ের সাথে শসা কুচি ও সামান্য গোলমরিচ মিশিয়ে তৈরি করুন এই কুলার। এটি ওজন নিয়ন্ত্রণ ও ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য দারুণ কার্যকর।
৪. পুষ্টিকর লাচ্ছি: কৃত্রিম মিষ্টির বদলে স্ট্রবেরি বা বেদানার সাথে দই ও সামান্য মধু মিশিয়ে তৈরি করতে পারেন অত্যন্ত পুষ্টিকর ফ্রুট লাচ্ছি।
৫. জাফরানি বাদাম লাচ্ছি: অতিথি আপ্যায়নে বা বিশেষ দিনে টক দইয়ের সাথে ভেজানো কাঠবাদাম, পেস্তা ও জাফরান মিশিয়ে পরিবেশন করতে পারেন এই রাজকীয় পানীয়। এটি শরীরের শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি স্বাদেও অনন্য।
চিকিৎসকদের বিশেষ পরামর্শ:
সংক্রমণ এড়াতে রাস্তার ধারের আখের রস বা খোলা অবস্থায় বিক্রি হওয়া কাটা ফল এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। পেটের দীর্ঘমেয়াদী সংক্রমণ রোধে নিয়মিত খাবারে দই-চিঁড়া বা বাড়িতে তৈরি দইয়ের এই পানীয়গুলো রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।























