ঢাকা , মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নবীনগরে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার: স্বামীসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নবীনগরে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার: স্বামীসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নাহিদা আক্তার। ছবি : সংগৃহীত

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার লাউর ফতেহপুর গ্রামে নাহিদা আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় নিহতের মা মিনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে স্বামীসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে গত রবিবার (৩০ মার্চ) নবীনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।

 

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে নবীনগর উপজেলার লাউর ফতেহপুর গ্রামের শিশু মিয়ার ছেলে তানভীর আহমেদের সঙ্গে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার গাঙ্গেরকোট গ্রামের খলিল মিয়ার মেয়ে নাহিদা আক্তারের বিয়ে হয়। বর্তমানে এই দম্পতির চার বছর বয়সী একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের বছরখানেক পর থেকেই তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে নাহিদাকে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করত। পারিবারিক কলহের এক পর্যায়ে স্বামী তানভীর তিন বছর আগে প্রবাসে চলে যান। সম্প্রতি তিনি দেশে ফিরে এলে পুনরায় সংসারে ঝগড়া-বিবাদ চরম আকার ধারণ করে। এমনকি মৃত্যুর ঠিক আগেও নাহিদাকে মারধর করা হয়েছিল বলে প্রতিবেশীরা অভিযোগ করেছেন।

 

পুলিশ জানায়, গত শনিবার (২৯ মার্চ) রাতে গৃহবধূ নাহিদার মরদেহ ঘরের ভেতরে রশিতে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। নাহিদার মৃত্যু নিয়ে বর্তমানে দুই পরিবারের মধ্যে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। স্বামীর পরিবার বিষয়টিকে ‘আত্মহত্যা’ বলে দাবি করলেও নিহতের বাবার বাড়ির লোকজনের অভিযোগ—দীর্ঘদিন নির্যাতনের পর তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

 

নবীনগর থানার ওসি (তদন্ত) রাজীব কান্তি নাথ জানান, এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে মৃতের মা বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেছেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছেন। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে এবং পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

দুপুরের মধ্যে ঢাকায় বজ্রবৃষ্টির আভাস

নবীনগরে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার: স্বামীসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নবীনগরে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার: স্বামীসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

Update Time : ০১:১৮:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

নাহিদা আক্তার। ছবি : সংগৃহীত

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার লাউর ফতেহপুর গ্রামে নাহিদা আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় নিহতের মা মিনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে স্বামীসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে গত রবিবার (৩০ মার্চ) নবীনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।

 

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে নবীনগর উপজেলার লাউর ফতেহপুর গ্রামের শিশু মিয়ার ছেলে তানভীর আহমেদের সঙ্গে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার গাঙ্গেরকোট গ্রামের খলিল মিয়ার মেয়ে নাহিদা আক্তারের বিয়ে হয়। বর্তমানে এই দম্পতির চার বছর বয়সী একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের বছরখানেক পর থেকেই তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে নাহিদাকে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করত। পারিবারিক কলহের এক পর্যায়ে স্বামী তানভীর তিন বছর আগে প্রবাসে চলে যান। সম্প্রতি তিনি দেশে ফিরে এলে পুনরায় সংসারে ঝগড়া-বিবাদ চরম আকার ধারণ করে। এমনকি মৃত্যুর ঠিক আগেও নাহিদাকে মারধর করা হয়েছিল বলে প্রতিবেশীরা অভিযোগ করেছেন।

 

পুলিশ জানায়, গত শনিবার (২৯ মার্চ) রাতে গৃহবধূ নাহিদার মরদেহ ঘরের ভেতরে রশিতে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। নাহিদার মৃত্যু নিয়ে বর্তমানে দুই পরিবারের মধ্যে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। স্বামীর পরিবার বিষয়টিকে ‘আত্মহত্যা’ বলে দাবি করলেও নিহতের বাবার বাড়ির লোকজনের অভিযোগ—দীর্ঘদিন নির্যাতনের পর তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

 

নবীনগর থানার ওসি (তদন্ত) রাজীব কান্তি নাথ জানান, এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে মৃতের মা বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেছেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছেন। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে এবং পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।