সংগৃহীত ছবি
রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কারের মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হলে দেশে আবারও চব্বিশের মতো গণ-অভ্যুত্থান ঘটবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ‘ভয়েস ফর রিফর্ম’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। ‘আবারও হুমকির মুখে মানবাধিকার ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা’ শীর্ষক এই সভায় তিনি বর্তমান সরকারের কার্যক্রমে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “সিজন ও চেয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সরকারের মেন্টালিটি বা মানসিকতা বদলে গেছে। সরকারকে স্ট্রাকচারাল বা কাঠামোগত সংস্কারের জায়গায় একনিষ্ঠ হতে হবে। যদি এই লক্ষ্য থেকে সরকার সরে আসে, তবে চব্বিশের মতো জনবিস্ফোরণ আবারও ঘটবে। কোনো না কোনোভাবে হয়তো সেই প্রস্তুতিই চলছে।
জনস্রোতকে কেবল মেজরিটি বা সংখ্যাধিক্য দিয়ে আটকানোর সুযোগ নেই।” তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, চব্বিশের আন্দোলনে যারা রাজপথে রক্ত দিয়েছিল, তারা কাউকে এমপি বা উপদেষ্টা বানানোর জন্য নামেনি; বরং তারা নেমেছিল রাষ্ট্রব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের জন্য।
ফ্যাসিবাদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা কেবল কোনো একক ব্যক্তি নন, বরং তিনি ছিলেন অনেকগুলো ফ্যাসিবাদী আইডিয়ার সমষ্টি। যদি রাষ্ট্রের বর্তমান সিস্টেম বা কাঠামো অপরিবর্তিত রাখা হয়, তবে যেকোনো ব্যক্তিই পরবর্তীতে আবার ‘হাসিনা’ হয়ে উঠতে পারেন।” তিনি সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে সংসদে সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের বিরোধিতার তীব্র সমালোচনা করেন।
বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ যারা অতীতে ভুক্তভোগী ছিলেন, তাদের বর্তমান অবস্থানের নিন্দা জানিয়ে একে অত্যন্ত ‘অসম্মানজনক’ বলে অভিহিত করেন।
নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, “দিন শেষে আমরা যারা ক্ষমতায় বা সংসদে আছি, তারা সবাই কোনো না কোনোভাবে সুবিধাভোগী হয়েছি। কিন্তু সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
তারা এই নির্বাচনের পর কিছুই পায়নি।” জনগণের ক্রমবর্ধমান হতাশা দূর করতে এবং রাষ্ট্রকে সঠিক পথে ফেরাতে দ্রুত কাঠামোগত পরিবর্তনের আহ্বান জানান তিনি। হাসনাত আব্দুল্লাহর এই বক্তব্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে, যা সরকারের ভেতরে-বাইরে সংস্কারের চাপ আরও বাড়িয়ে দিল।

অনলাইন ডেস্ক 
























