ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ইসরায়েলি হামলায় ইরানি নেতার মৃত্যু; ‘উম্মাহ দিশাহারা’ বললেন আজহারী।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা, যা বললেন মিজানুর রহমান আজহারী

সংগৃহীত ছবি

 

মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ও রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের সূচনা হলো। রবিবার (১ মার্চ, ২০২৬) সকালে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি ও সিএনএন নিশ্চিত করেছে যে, মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন।

 

তেহরানের সুরক্ষিত বাংকারে চালানো সুনির্দিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এই মহাপ্রয়াণের খবর বিশ্বজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। এই মহান নেতার মৃত্যুতে ইরানে আজ থেকে ৪০ দিনের দীর্ঘ রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

 

ইরানের এই অস্থির পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক সংকটের মুখে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী। তিনি তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরেন। আজহারী লিখেছেন, ‘অস্থিরতার আগুনে পুড়ছে জনপদ; চক্রান্তে বিদীর্ণ উম্মাহ আজ দিশাহারা। হে আরশের মালিক! জুলুমের অবসান ঘটিয়ে পৃথিবীতে ন্যায়ের শান্তি প্রতিষ্ঠা করুন।’ তাঁর এই পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এবং কয়েক লক্ষ অনুসারী সেখানে শোক ও সংহতি প্রকাশ করেছেন।

 

এদিকে, খামেনির মৃত্যু পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরানে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠক চলছে। সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা কাউন্সিল পরবর্তী উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তেহরানের রাজপথে হাজার হাজার শোকার্ত মানুষের ঢল নেমেছে, যারা এই হামলার প্রতিবাদে ও নেতার স্মরণে বুক চাপড়ে বিলাপ করছেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির প্রস্থান শুধু ইরান নয়, বরং পুরো মুসলিম বিশ্বের ভূ-রাজনীতিতে এক বিশাল শূন্যতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি করল।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েলি হামলায় ইরানি নেতার মৃত্যু; ‘উম্মাহ দিশাহারা’ বললেন আজহারী।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা, যা বললেন মিজানুর রহমান আজহারী

Update Time : ০৩:৫৪:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ও রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের সূচনা হলো। রবিবার (১ মার্চ, ২০২৬) সকালে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি ও সিএনএন নিশ্চিত করেছে যে, মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন।

 

তেহরানের সুরক্ষিত বাংকারে চালানো সুনির্দিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এই মহাপ্রয়াণের খবর বিশ্বজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। এই মহান নেতার মৃত্যুতে ইরানে আজ থেকে ৪০ দিনের দীর্ঘ রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

 

ইরানের এই অস্থির পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক সংকটের মুখে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী। তিনি তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরেন। আজহারী লিখেছেন, ‘অস্থিরতার আগুনে পুড়ছে জনপদ; চক্রান্তে বিদীর্ণ উম্মাহ আজ দিশাহারা। হে আরশের মালিক! জুলুমের অবসান ঘটিয়ে পৃথিবীতে ন্যায়ের শান্তি প্রতিষ্ঠা করুন।’ তাঁর এই পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এবং কয়েক লক্ষ অনুসারী সেখানে শোক ও সংহতি প্রকাশ করেছেন।

 

এদিকে, খামেনির মৃত্যু পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরানে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠক চলছে। সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা কাউন্সিল পরবর্তী উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তেহরানের রাজপথে হাজার হাজার শোকার্ত মানুষের ঢল নেমেছে, যারা এই হামলার প্রতিবাদে ও নেতার স্মরণে বুক চাপড়ে বিলাপ করছেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির প্রস্থান শুধু ইরান নয়, বরং পুরো মুসলিম বিশ্বের ভূ-রাজনীতিতে এক বিশাল শূন্যতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি করল।