সংগৃহীত ছবি
ইরানে পরিচালিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র প্রথম ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিরসনে তাঁর হাতে এখন একাধিক ‘অপশন’ বা পথ রয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প দাবি করেন, এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল মার্কিন নাগরিকদের সুরক্ষা এবং ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা চিরতরে ধ্বংস করা। তবে সামরিক অভিযানের এই চরম উত্তেজনার মাঝেও তিনি কূটনীতির একটি সরু জানালা খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে দুই ধরণের বিকল্প বা ‘অফ-র্যাম্প’-এর কথা উল্লেখ করেন। প্রথমত, তিনি ইরানি সশস্ত্র বাহিনী বিশেষ করে আইআরজিসি সদস্যদের প্রতি অস্ত্র জমা দেওয়ার এবং ‘সারেন্ডার’ করার আহ্বান জানান। ট্রাম্প বলেন, “যারা অস্ত্র ত্যাগ করবে তাদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও দায়মুক্তি (Immunity) দেওয়া হবে। আর যারা তা করবে না, তাদের জন্য কেবল নিশ্চিত মৃত্যু অপেক্ষা করছে।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ইরানের অভ্যন্তরে একটি প্রশাসনিক ও সামরিক ধসের সম্ভাবনা উসকে দিয়েছেন।
দ্বিতীয় বিকল্প হিসেবে ট্রাম্প একটি ‘নতুন ও স্থায়ী’ চুক্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি সবসময় কূটনীতি পছন্দ করি, কিন্তু তা হতে হবে আমাদের শর্তে। ইরানকে অবশ্যই পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করতে হবে এবং সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া বন্ধ করতে হবে।” বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প ইরানি জনগণের প্রতি ‘মুক্তির’ ডাক দিয়ে মূলত একটি শাসন পরিবর্তনের (Regime Change) পথ প্রশস্ত করতে চাইছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ইরান যদি আলোচনায় ফিরতে চায়, তবে আগের চেয়েও কঠোর শর্তাবলি মেনে নিতে হবে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন যে, মার্কিন-ইসরায়েলি এই সুনির্দিষ্ট হামলার পর ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের একটি বড় অংশ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। ফলে এখন নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার পরিবেশ তৈরি হওয়া সম্ভব। যদিও আন্তর্জাতিক মহলে এই অভিযান নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে, ট্রাম্পের এই ‘অপশন’ সম্বলিত বার্তা মূলত তেহরানকে চূড়ান্ত আত্মসমর্পণের দিকে ঠেলে দেওয়ার একটি কৌশলগত চাল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 






















