ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
পরমাণু সংলাপ ব্যর্থতার পরই উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য; গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে হেলিপ্যাড

ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে ২৪ ঘণ্টায় ৮ বার হামলা

ছবি : রয়টার্স

 

ইরাকে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৮ বার বড় ধরনের হামলা চালানো হয়েছে। শুক্রবার ভোর থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত দফায় দফায় এই হামলা চালায় ইরাকের ইরানপন্থী সশস্ত্র রাজনৈতিক দলগুলোর জোট ‘দ্য ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স’। শনিবার (১৪ মার্চ) এক বিবৃতিতে জোটটি এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।

 

হামলার লক্ষ্যবস্তু ও ক্ষয়ক্ষতি
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরাকের আল-হারির এবং আল-আসাদ বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। সশস্ত্র জোটটি দাবি করেছে, তাদের যোদ্ধারা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। মার্কিন বিমানঘাঁটির পাশাপাশি বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। ইরাকের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দূতাবাসের হেলিপ্যাডটি এই হামলায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

 

নীরবতা পালন করছে পেন্টাগন
নজিরবিহীন এই হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (পেন্টাগন) বা ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক কমান্ড থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। আল-আসাদ ও আল-হারির ঘাঁটিতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহত হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও রহস্যের ঘেরাটোপে রয়েছে।

 

পেছনের কারণ: ব্যর্থ সংলাপ ও নতুন সামরিক অপারেশন
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে সম্প্রতি তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার পরমাণু প্রকল্পের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার মাধ্যমে। গত ৬ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলা ওই সংলাপ কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। এর ঠিক পরপরই ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইসরায়েল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে।

 

ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর ওপর এই ধারাবাহিক হামলাকে সেই সামরিক অভিযানেরই পাল্টা জবাব হিসেবে দেখছে দ্য ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স। এই সংঘাতের ফলে পুরো অঞ্চল একটি বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কায় রয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

পরমাণু সংলাপ ব্যর্থতার পরই উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য; গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে হেলিপ্যাড

ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে ২৪ ঘণ্টায় ৮ বার হামলা

Update Time : ০৬:৫৬:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

ছবি : রয়টার্স

 

ইরাকে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৮ বার বড় ধরনের হামলা চালানো হয়েছে। শুক্রবার ভোর থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত দফায় দফায় এই হামলা চালায় ইরাকের ইরানপন্থী সশস্ত্র রাজনৈতিক দলগুলোর জোট ‘দ্য ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স’। শনিবার (১৪ মার্চ) এক বিবৃতিতে জোটটি এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।

 

হামলার লক্ষ্যবস্তু ও ক্ষয়ক্ষতি
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরাকের আল-হারির এবং আল-আসাদ বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। সশস্ত্র জোটটি দাবি করেছে, তাদের যোদ্ধারা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। মার্কিন বিমানঘাঁটির পাশাপাশি বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। ইরাকের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দূতাবাসের হেলিপ্যাডটি এই হামলায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

 

নীরবতা পালন করছে পেন্টাগন
নজিরবিহীন এই হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (পেন্টাগন) বা ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক কমান্ড থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। আল-আসাদ ও আল-হারির ঘাঁটিতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহত হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও রহস্যের ঘেরাটোপে রয়েছে।

 

পেছনের কারণ: ব্যর্থ সংলাপ ও নতুন সামরিক অপারেশন
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে সম্প্রতি তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার পরমাণু প্রকল্পের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার মাধ্যমে। গত ৬ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলা ওই সংলাপ কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। এর ঠিক পরপরই ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইসরায়েল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে।

 

ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর ওপর এই ধারাবাহিক হামলাকে সেই সামরিক অভিযানেরই পাল্টা জবাব হিসেবে দেখছে দ্য ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স। এই সংঘাতের ফলে পুরো অঞ্চল একটি বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কায় রয়েছে।