ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ক্যাম্পাস ছাড়িয়ে সংঘর্ষ হাসপাতালে, আতঙ্কিত সাধারণ রোগীরা

জবিতে ছাত্রদল-শিবির রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১৫

সংগৃহীত ছবি

 

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের কাছে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া উত্থাপনকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে তুমুল রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের এ ঘটনায় জবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফ এবং শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইয়াসিন সাইফসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

 

 

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বেলা পৌনে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ উপস্থিত হওয়ার পর সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

 

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টরের উপস্থিতিতে ইউজিসি চেয়ারম্যানের কাছে আবাসন সংকটসহ বিভিন্ন দাবি উপস্থাপন করা নিয়ে একপর্যায়ে ছাত্রদল ও শিবির নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর শিবির নেতাকর্মীদের ক্যাম্পাস থেকে হটিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নিজেদের দখলে নেন।

 

 

ক্যাম্পাসের এই উত্তাপ দুপুর ২টার দিকে ছড়িয়ে পড়ে নিকটস্থ ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও। আহত নেতাকর্মীদের চিকিৎসার জন্য সেখানে নেওয়া হলে দুই পক্ষ পুনর্গঠিত হয়ে হাসপাতালের মূল ফটক ও ভেতরে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়ায়। একপক্ষ অপর পক্ষকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং অনেকের হাতে দেশীয় অস্ত্রও দেখা যায়। এ সময় হাসপাতালের রোগী ও স্বজনদের মধ্যে মারাত্মক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

 

 

ঘটনার জন্য দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন অভিযোগ করেন, আবাসন সংকট নিরসনে ইউজিসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের গঠনমূলক আলোচনার সফলতা দেখে হিংসাবশত একটি গোষ্ঠী ‘মব’ সৃষ্টি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরাই তাদের প্রতিহত করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

 

 

অন্যদিকে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জবি ছাত্রশিবির সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফ দাবি করেন, আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে তিনি সভার দিকে যাচ্ছিলেন। দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর হাতে ন্যস্ত করা ও টেন্ডার বাণিজ্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তাদের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করার সময় ছাত্রদলের সশস্ত্র নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।

 

 

সার্বিক বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগের সহকারী কমিশনার ফজলুল হক এবং সূত্রাপুর থানার ওসি মতিউর রহমান জানান, দাবি-দাওয়া নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়েছিল। পরবর্তীতে হাসপাতালেও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বর্তমানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জে ৫ আগস্ট ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার

ক্যাম্পাস ছাড়িয়ে সংঘর্ষ হাসপাতালে, আতঙ্কিত সাধারণ রোগীরা

জবিতে ছাত্রদল-শিবির রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১৫

Update Time : ০৫:১৭:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের কাছে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া উত্থাপনকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে তুমুল রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের এ ঘটনায় জবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফ এবং শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইয়াসিন সাইফসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

 

 

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বেলা পৌনে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ উপস্থিত হওয়ার পর সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

 

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টরের উপস্থিতিতে ইউজিসি চেয়ারম্যানের কাছে আবাসন সংকটসহ বিভিন্ন দাবি উপস্থাপন করা নিয়ে একপর্যায়ে ছাত্রদল ও শিবির নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর শিবির নেতাকর্মীদের ক্যাম্পাস থেকে হটিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নিজেদের দখলে নেন।

 

 

ক্যাম্পাসের এই উত্তাপ দুপুর ২টার দিকে ছড়িয়ে পড়ে নিকটস্থ ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও। আহত নেতাকর্মীদের চিকিৎসার জন্য সেখানে নেওয়া হলে দুই পক্ষ পুনর্গঠিত হয়ে হাসপাতালের মূল ফটক ও ভেতরে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়ায়। একপক্ষ অপর পক্ষকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং অনেকের হাতে দেশীয় অস্ত্রও দেখা যায়। এ সময় হাসপাতালের রোগী ও স্বজনদের মধ্যে মারাত্মক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

 

 

ঘটনার জন্য দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন অভিযোগ করেন, আবাসন সংকট নিরসনে ইউজিসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের গঠনমূলক আলোচনার সফলতা দেখে হিংসাবশত একটি গোষ্ঠী ‘মব’ সৃষ্টি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরাই তাদের প্রতিহত করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

 

 

অন্যদিকে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জবি ছাত্রশিবির সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফ দাবি করেন, আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে তিনি সভার দিকে যাচ্ছিলেন। দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর হাতে ন্যস্ত করা ও টেন্ডার বাণিজ্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তাদের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করার সময় ছাত্রদলের সশস্ত্র নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।

 

 

সার্বিক বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগের সহকারী কমিশনার ফজলুল হক এবং সূত্রাপুর থানার ওসি মতিউর রহমান জানান, দাবি-দাওয়া নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়েছিল। পরবর্তীতে হাসপাতালেও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বর্তমানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।