ছবি: রয়টার্স
পিৎজা তৈরির যন্ত্রে পোড়া তেলের অবশিষ্টাংশ ও পোকা-মাকড়ের উপস্থিতি পাওয়ার দায়ে ভারতের মহারাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক জনপ্রিয় ফাস্টফুড চেইন শপ ‘ডমিনো’স’-এর ৪টি আউটলেটের লাইসেন্স স্থগিত করেছে রাজ্য খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা। একই সঙ্গে খাবারে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ উল্লেখ না থাকায় অপর বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড ‘পিৎজা হাট’-এরও একটি আউটলেটের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। শুক্রবার আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখার স্বার্থে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় খাদ্য বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের খাদ্য পরিদর্শকরা একযোগে শতাধিক রেস্তোরাঁ ও ফুড আউটলেটে ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানকালে মুম্বাইয়ের ৩টি এবং অন্য একটি শহরের ১টি ডমিনো’স আউটলেটে রান্নাঘরের চরম অপরিচ্ছন্নতা, পেস্ট কন্ট্রোল বা পোকা-মাকড় দমনে চরম অবহেলা এবং পিৎজা তৈরির যন্ত্রাংশে পোড়া তেল জমে থাকার বিষয়টি হাতেনাতে ধরে ফেলেন পরিদর্শকরা।
অন্যদিকে, পিৎজা হাটের একটি আউটলেটে প্রক্রিয়াজাত সামগ্রীর প্যাকেজিংয়ে মেয়াদের তারিখ উল্লেখ না করে গ্রাহকদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলার প্রমাণ মেলে। এর পর পরই তাৎক্ষণিকভাবে ৫টি আউটলেটের লাইসেন্স স্থগিতের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া পরিচালিত অভিযানে মানদণ্ড পূরণ করতে না পারা আরও ৯৫টি খাবারের দোকানকে কারণ দর্শানো ও সংশোধন নোটিশ দিয়েছে প্রশাসন।
উল্লেখ্য, মহারাষ্ট্রের খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান হিসেবে কর্মকর্তা তুকারাম মুন্ডে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে খাদ্য সচেতনতায় এই ঝটিকা ও আপসহীন অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সাধারণ রাস্তার ধারের দোকান থেকে শুরু করে বহুজাতিক ব্র্যান্ড—কারো ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্যবিধিতে কোনো ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। ভারতে বর্তমানে প্রায় ২,৪০০টি আউটলেট নিয়ে শীর্ষ ফাস্টফুড নেটওয়ার্ক চালিয়ে আসা ডমিনো’স এবং পিৎজা হাটের মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে এমন কঠোর পদক্ষেপে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ডমিনো’স কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
















