ঢাকা , বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বদলি বাণিজ্যের অভিযোগে মুখোমুখি দুদক ও সাবেক উপদেষ্টা

দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের তদন্ত, প্রমাণ প্রকাশের দাবি আসিফের

অন্তবর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ছবি: সংগৃহীত

 

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পদায়ন ও বদলি বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রাথমিক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। দুদক কর্তৃক দুর্নীতির ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার দাবির মুখে তা জনসম্মুখে উন্মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এই প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।

 

 

সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া ওই পোস্টে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ লেখেন, “১৮৮ জন উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা থেকে ১ লাখ ৪৬ হাজার টাকা করে ২ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকার দুর্নীতি করেছেন একজন উপদেষ্টা, একজন সচিব, একজন যুগ্মসচিব এবং একজন উপসচিবসহ আরও অনেকে মিলে। দুদক বলছে, প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রমাণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত করুন প্লিজ।” একই সঙ্গে এই সম্পূর্ণ বিষয়টি নিয়ে খুব শীঘ্রই বিস্তারিত বক্তব্য নিয়ে হাজির হবেন বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

 

এর আগে বুধবার দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মুখপাত্র আকতারুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়োগ, পদোন্নতি ও পছন্দের স্থানে বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তথ্যানুসন্ধানে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিল পাওয়ায় কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

 

 

দুদকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই অভিযোগে অভিযুক্ত অন্য তিন কর্মকর্তা হলেন—যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বর্তমান সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন এবং যুব-১ শাখার উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ। অভিযোগটিতে বলা হয়েছে, তাঁরা পরস্পরের যোগসাজশে ১৮৮ জন কর্মকর্তার বদলি ও পদায়নের বিনিময়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন করেছেন। বিষয়টি বিস্তারিত অনুসন্ধানের জন্য উপ-পরিচালক জাহিদ কালামের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

 

 

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বদলি বাণিজ্যের অভিযোগে মুখোমুখি দুদক ও সাবেক উপদেষ্টা

দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের তদন্ত, প্রমাণ প্রকাশের দাবি আসিফের

Update Time : ০৮:২৭:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অন্তবর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ছবি: সংগৃহীত

 

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পদায়ন ও বদলি বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রাথমিক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। দুদক কর্তৃক দুর্নীতির ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার দাবির মুখে তা জনসম্মুখে উন্মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এই প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।

 

 

সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া ওই পোস্টে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ লেখেন, “১৮৮ জন উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা থেকে ১ লাখ ৪৬ হাজার টাকা করে ২ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকার দুর্নীতি করেছেন একজন উপদেষ্টা, একজন সচিব, একজন যুগ্মসচিব এবং একজন উপসচিবসহ আরও অনেকে মিলে। দুদক বলছে, প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রমাণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত করুন প্লিজ।” একই সঙ্গে এই সম্পূর্ণ বিষয়টি নিয়ে খুব শীঘ্রই বিস্তারিত বক্তব্য নিয়ে হাজির হবেন বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

 

এর আগে বুধবার দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মুখপাত্র আকতারুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়োগ, পদোন্নতি ও পছন্দের স্থানে বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তথ্যানুসন্ধানে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিল পাওয়ায় কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

 

 

দুদকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই অভিযোগে অভিযুক্ত অন্য তিন কর্মকর্তা হলেন—যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বর্তমান সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন এবং যুব-১ শাখার উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ। অভিযোগটিতে বলা হয়েছে, তাঁরা পরস্পরের যোগসাজশে ১৮৮ জন কর্মকর্তার বদলি ও পদায়নের বিনিময়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন করেছেন। বিষয়টি বিস্তারিত অনুসন্ধানের জন্য উপ-পরিচালক জাহিদ কালামের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।