সংগৃহীত ছবি
বাংলা চলচ্চিত্রের ধ্রুবতারা ও কালজয়ী নায়ক সালমান শাহের আকস্মিক প্রয়াণের পর প্রায় তিন দশক অতিক্রম হতে চললেও তাঁকে ঘিরে দর্শক-ভক্তদের ভালোবাসা ও আবেগ আজও অটুট। ১৯৯৬ সালে তৎকালীন ঢাকাই সিনেমার শীর্ষ এই অভিনেতার মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও, ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—সেই বিতর্ক ও রহস্য সময়ের সঙ্গে যেন আরও ঘনীভূত হয়েছে।
সালমান শাহের মৃত্যুর কারণ নিয়ে বিভিন্ন সময় তৈরি হওয়া সামাজিক ও আইনি আলোচনার মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছিল একটি বিতর্কিত বই, যা প্রকাশের অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই আদালতের কঠোর নির্দেশনায় নিষিদ্ধ ও বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করা হয়।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই বইটির নাম ‘সালমান শাহ, নক্ষত্রের আত্মহত্যা’। পূর্ণিমা ম্যাগাজিনের তৎকালীন প্রধান প্রতিবেদক রবি আরমানের লেখা বইটি ১৯৯৭ সালে বাজারজাতকরণের পরপরই তীব্র বিতর্কের মুখে পড়ে। লেখক এই গ্রন্থে সালমান শাহের মৃত্যুকে সরাসরি ‘আত্মহত্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন, যা মূলত সর্বমহলে চরম আপত্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী বইটিতে দেওয়া তথ্যকে ভিত্তিহীন, মানহানিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে লেখক ও প্রকাশকের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হন। মামলা পর্যালোচনার পর আদালত বাজার থেকে বইটি অবিলম্বে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেন এবং একই সঙ্গে এর বিক্রি ও বিতরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।
সিনেমাপাড়ার প্রবীণ সাংবাদিকদের তথ্য মতে, নীলা চৌধুরী শুরু থেকেই দাবি করে আসছিলেন যে তাঁর ছেলেকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ফলে মামলার রায় ও আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে বইটি প্রকাশের কিছুদিন পরেই একটি বিরল ও দুর্লভ গ্রন্থে পরিণত হয়।
প্রচ্ছদ ও প্রচারণায় চলচ্চিত্রটির অকালপ্রয়াণ নিয়ে নানা আবেগঘন ও গোপন অধ্যায়ের কথা বলা হলেও, আইনি বাধ্যবাধকতায় এর স্বাভাবিক প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে লেখক রবি আরমানের মৃত্যু হলেও সালমান শাহ হত্যা/আত্মহত্যা বিতর্ক এবং এই নিষিদ্ধ বইটি নিয়ে পাঠক ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যকার কৌতূহল আজও ইতিহাস হয়ে টিকে আছে।

















