ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্রকেই বহিষ্কারের দাবি তেহরানের

যুক্তরাষ্ট্রকেই বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার দাবি ইরানের

ছবি : সংগৃহীত

 

মধ্যপ্রাচ্যের বারুদঠাসা পরিস্থিতির প্রভাব এবার পড়তে শুরু করেছে বিশ্বের বৃহত্তম ক্রীড়া আসর ফুটবল বিশ্বকাপে। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে চলমান ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের রেশ ধরে এবার বাকযুদ্ধে জড়িয়েছেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের জাতীয় ফুটবল দল। ট্রাম্পের পরোক্ষ হুমকির জবাবে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা একক দেশের ইচ্ছায় তারা বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াবে না। বরং আন্তর্জাতিক দলকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রকেই বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের দাবি তুলেছে তেহরান।

 

ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার, যখন ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে ইরানি ফুটবলারদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “বিশ্বকাপে ইরানের জাতীয় দলকে স্বাগতম। কিন্তু আমি মনে করি না, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের এখানে আসা উচিত হবে।” ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে বিশ্ব ফুটবল অঙ্গন ইরানের ওপর এক ধরনের মানসিক চাপ এবং পরোক্ষ হুমকি হিসেবেই দেখছে। বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেস এবং সিয়াটেলের মতো শহরে ইরানের ম্যাচগুলো হওয়ার কথা থাকায় নিরাপত্তা নিয়ে এক ধরণের ধোঁয়াশা তৈরি করা হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

ট্রাম্পের এই ‘জীবনের ঝুঁকি‘ সংক্রান্ত মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছে ইরান ফুটবল ফেডারেশন। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইরানি ফুটবলাররা বলেন, “বিশ্বকাপ কোনো ব্যক্তি বা বিশেষ দেশের সম্পত্তি নয়; এর নিয়ন্ত্রক সংস্থা হলো ফিফা। ইরান তার ফুটবলীয় শক্তিতে এবং যোগ্যতায় এই আসরে জায়গা করে নিয়েছে। ট্রাম্প বা অন্য কারো ইচ্ছা অনুযায়ী আমাদের বাদ দেওয়ার ক্ষমতা কারো নেই।” উল্টো যুক্তরাষ্ট্রকে তোপ দেগে তাঁরা আরও বলেন, “যদি কাউকে বাদ দিতেই হয়, তবে সেই দেশকে দেওয়া উচিত যারা আয়োজক হয়েও অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারে না।“

 

উল্লেখ্য, এশিয়ান অঞ্চলের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে ইরান বেশ আগেই ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে। সূচি অনুযায়ী গ্রুপ পর্বে ইরানের খেলাগুলো মার্কিন ভূখণ্ডে হওয়ার কথা। তবে দুই দেশের মধ্যে চলমান ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী বোমাবর্ষণ এবং পাল্টাপাল্টি ড্রোন হামলার প্রেক্ষাপটে ফুটবলারদের ভিসা এবং নিরাপত্তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফিফা এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না দিলেও ফুটবল বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে জুরিখের সদর দপ্তরের দিকে। যুদ্ধ আর ফুটবলের এই সংমিশ্রণ ক্রীড়াঙ্গনের নিরপেক্ষতাকে বড় ধরণের চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্রকেই বহিষ্কারের দাবি তেহরানের

যুক্তরাষ্ট্রকেই বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার দাবি ইরানের

Update Time : ১০:৩৪:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত

 

মধ্যপ্রাচ্যের বারুদঠাসা পরিস্থিতির প্রভাব এবার পড়তে শুরু করেছে বিশ্বের বৃহত্তম ক্রীড়া আসর ফুটবল বিশ্বকাপে। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে চলমান ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের রেশ ধরে এবার বাকযুদ্ধে জড়িয়েছেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের জাতীয় ফুটবল দল। ট্রাম্পের পরোক্ষ হুমকির জবাবে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা একক দেশের ইচ্ছায় তারা বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াবে না। বরং আন্তর্জাতিক দলকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রকেই বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের দাবি তুলেছে তেহরান।

 

ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার, যখন ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে ইরানি ফুটবলারদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “বিশ্বকাপে ইরানের জাতীয় দলকে স্বাগতম। কিন্তু আমি মনে করি না, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের এখানে আসা উচিত হবে।” ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে বিশ্ব ফুটবল অঙ্গন ইরানের ওপর এক ধরনের মানসিক চাপ এবং পরোক্ষ হুমকি হিসেবেই দেখছে। বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেস এবং সিয়াটেলের মতো শহরে ইরানের ম্যাচগুলো হওয়ার কথা থাকায় নিরাপত্তা নিয়ে এক ধরণের ধোঁয়াশা তৈরি করা হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

ট্রাম্পের এই ‘জীবনের ঝুঁকি‘ সংক্রান্ত মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছে ইরান ফুটবল ফেডারেশন। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইরানি ফুটবলাররা বলেন, “বিশ্বকাপ কোনো ব্যক্তি বা বিশেষ দেশের সম্পত্তি নয়; এর নিয়ন্ত্রক সংস্থা হলো ফিফা। ইরান তার ফুটবলীয় শক্তিতে এবং যোগ্যতায় এই আসরে জায়গা করে নিয়েছে। ট্রাম্প বা অন্য কারো ইচ্ছা অনুযায়ী আমাদের বাদ দেওয়ার ক্ষমতা কারো নেই।” উল্টো যুক্তরাষ্ট্রকে তোপ দেগে তাঁরা আরও বলেন, “যদি কাউকে বাদ দিতেই হয়, তবে সেই দেশকে দেওয়া উচিত যারা আয়োজক হয়েও অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারে না।“

 

উল্লেখ্য, এশিয়ান অঞ্চলের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে ইরান বেশ আগেই ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে। সূচি অনুযায়ী গ্রুপ পর্বে ইরানের খেলাগুলো মার্কিন ভূখণ্ডে হওয়ার কথা। তবে দুই দেশের মধ্যে চলমান ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী বোমাবর্ষণ এবং পাল্টাপাল্টি ড্রোন হামলার প্রেক্ষাপটে ফুটবলারদের ভিসা এবং নিরাপত্তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফিফা এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না দিলেও ফুটবল বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে জুরিখের সদর দপ্তরের দিকে। যুদ্ধ আর ফুটবলের এই সংমিশ্রণ ক্রীড়াঙ্গনের নিরপেক্ষতাকে বড় ধরণের চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।