ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার দুজন; পুলিশের অভিযান

হাটহাজারীতে অটোরিকশা ওয়ার্কশপের আড়ালে অস্ত্র কারখানার সন্ধান

ছবি : কালের কণ্ঠ

 

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সিএনজি অটোরিকশার গ্যারেজ বা ওয়ার্কশপের আড়ালে পরিচালিত একটি অবৈধ দেশীয় অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো অভিযানে একটি বিরল পেনগানসহ মোট পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২০ রাউন্ড গুলি উদ্ধারের পাশাপাশি এই চক্রের সঙ্গে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) হাটহাজারীর মির্জাপুর ইউনিয়নের মনসুরাবাদ কলোনি এলাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।

 

 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—অস্ত্র তৈরির মূল কারিগর মো. জামাল হোসেন ওরফে জামাল মিস্ত্রি (৪৪) এবং অটোরিকশাচালক মো. কবির (৪৭)। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তার দুজনের হেফাজত থেকে একটি আধুনিক পেনগান, চারটি দেশীয় তৈরি পিস্তল, পেনগানের ১৮টি গুলি এবং পিস্তলের দুই রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া অটোরিকশা ওয়ার্কশপটিতে তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের বিপুল পরিমাণ লোহালক্কড় ও আধুনিক সরঞ্জাম জব্দ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

 

 

পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম জানান, এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে অস্ত্র তৈরি ও বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের সঙ্গে জড়িত একটি সুনির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর থেকেই পুলিশের নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়। সংগৃহীত তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে পুলিশ সদস্যরা ওই ওয়ার্কশপে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে দুজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।

 

 

ঘটনার বিবরণ দিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেছেন যে অটোরিকশা মেরামতের বাহানায় রাতের অন্ধকারে তাঁরা অস্ত্র তৈরি করতেন। পরবর্তীতে মানভেদে প্রতি পিস অস্ত্র ২০ হাজার থেকে শুরু করে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অপরাধীদের কাছে বিক্রি করা হতো। এই চক্রের পেছনে অন্য কারোর ইন্ধন বা যোগসাজশ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

 

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার দুজন; পুলিশের অভিযান

হাটহাজারীতে অটোরিকশা ওয়ার্কশপের আড়ালে অস্ত্র কারখানার সন্ধান

Update Time : ০৭:৫৫:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছবি : কালের কণ্ঠ

 

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সিএনজি অটোরিকশার গ্যারেজ বা ওয়ার্কশপের আড়ালে পরিচালিত একটি অবৈধ দেশীয় অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো অভিযানে একটি বিরল পেনগানসহ মোট পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২০ রাউন্ড গুলি উদ্ধারের পাশাপাশি এই চক্রের সঙ্গে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) হাটহাজারীর মির্জাপুর ইউনিয়নের মনসুরাবাদ কলোনি এলাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।

 

 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—অস্ত্র তৈরির মূল কারিগর মো. জামাল হোসেন ওরফে জামাল মিস্ত্রি (৪৪) এবং অটোরিকশাচালক মো. কবির (৪৭)। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তার দুজনের হেফাজত থেকে একটি আধুনিক পেনগান, চারটি দেশীয় তৈরি পিস্তল, পেনগানের ১৮টি গুলি এবং পিস্তলের দুই রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া অটোরিকশা ওয়ার্কশপটিতে তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের বিপুল পরিমাণ লোহালক্কড় ও আধুনিক সরঞ্জাম জব্দ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

 

 

পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম জানান, এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে অস্ত্র তৈরি ও বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের সঙ্গে জড়িত একটি সুনির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর থেকেই পুলিশের নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়। সংগৃহীত তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে পুলিশ সদস্যরা ওই ওয়ার্কশপে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে দুজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।

 

 

ঘটনার বিবরণ দিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেছেন যে অটোরিকশা মেরামতের বাহানায় রাতের অন্ধকারে তাঁরা অস্ত্র তৈরি করতেন। পরবর্তীতে মানভেদে প্রতি পিস অস্ত্র ২০ হাজার থেকে শুরু করে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অপরাধীদের কাছে বিক্রি করা হতো। এই চক্রের পেছনে অন্য কারোর ইন্ধন বা যোগসাজশ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।