ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এমপির সফর ঘিরে উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি অভিযোগে থমথমে এলাকা

মেহেরপুর হাসপাতালে জামায়াত-বিএনপি হাতাহাতি, পুলিশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ

বুধবার দুপুরে দুপক্ষের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে

 

মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে স্থানীয় সংসদ সদস্যের পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হাতাহাতির অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সৃষ্ট এই ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

 

 

হাসপাতাল ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ১১টার দিকে মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা তাজউদ্দিন খান দলীয় নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের সঙ্গে নিয়ে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা পর্যবেক্ষণ করতে যান। পরিদর্শন চলাকালে দালাল সন্দেহে এক ব্যক্তিকে সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী চড়-থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ ওঠে।

 

 

উক্ত ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা দ্রুত হাসপাতালে এসে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান। পরবর্তীতে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সেখানে উপস্থিত জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা এবং সরাসরি হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতেই হাসপাতাল প্রাঙ্গণে হট্টগোল ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্যরা পৌঁছে উভয় পক্ষকে স্রেফ হটিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

 

 

ঘটনা নিয়ে দুই দলের দায়িত্বশীলদের কাছ থেকে উঠে এসেছে ভিন্ন ভিন্ন দাবি। জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ইকবাল হোসেনের দাবি, হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় এক দালালকে চিহ্নিত করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে উল্টো গালাগালি শুরু করে। পরবর্তীতে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা এসে তাদের ওপর অন্যায্যভাবে চড়াও হন।

 

 

অন্যদিকে মেহেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতেই জামায়াতের নেতাকর্মীরা হাসপাতালের এক নিরপরাধ স্টাফের গায়ে হাত তোলেন। সাধারণ মানুষ ও স্থানীয়রা তা প্রতিহত করতে গেলে বিএনপি নেতারা মূলত মধ্যস্থতা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন।

 

 

 

ঘটনাকে কেন্দ্র করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল এলাকায় কিছু সময়ের জন্য তীব্র আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করলেও বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

এমপির সফর ঘিরে উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি অভিযোগে থমথমে এলাকা

মেহেরপুর হাসপাতালে জামায়াত-বিএনপি হাতাহাতি, পুলিশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ

Update Time : ০৯:২০:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

বুধবার দুপুরে দুপক্ষের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে

 

মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে স্থানীয় সংসদ সদস্যের পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হাতাহাতির অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সৃষ্ট এই ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

 

 

হাসপাতাল ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ১১টার দিকে মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা তাজউদ্দিন খান দলীয় নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের সঙ্গে নিয়ে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা পর্যবেক্ষণ করতে যান। পরিদর্শন চলাকালে দালাল সন্দেহে এক ব্যক্তিকে সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী চড়-থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ ওঠে।

 

 

উক্ত ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা দ্রুত হাসপাতালে এসে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান। পরবর্তীতে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সেখানে উপস্থিত জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা এবং সরাসরি হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতেই হাসপাতাল প্রাঙ্গণে হট্টগোল ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্যরা পৌঁছে উভয় পক্ষকে স্রেফ হটিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

 

 

ঘটনা নিয়ে দুই দলের দায়িত্বশীলদের কাছ থেকে উঠে এসেছে ভিন্ন ভিন্ন দাবি। জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ইকবাল হোসেনের দাবি, হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় এক দালালকে চিহ্নিত করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে উল্টো গালাগালি শুরু করে। পরবর্তীতে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা এসে তাদের ওপর অন্যায্যভাবে চড়াও হন।

 

 

অন্যদিকে মেহেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতেই জামায়াতের নেতাকর্মীরা হাসপাতালের এক নিরপরাধ স্টাফের গায়ে হাত তোলেন। সাধারণ মানুষ ও স্থানীয়রা তা প্রতিহত করতে গেলে বিএনপি নেতারা মূলত মধ্যস্থতা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন।

 

 

 

ঘটনাকে কেন্দ্র করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল এলাকায় কিছু সময়ের জন্য তীব্র আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করলেও বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে।