ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৭ দিনে ৩ বিস্ফোরণে আতঙ্ক; পুলিশের দাবি স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার

মাদারীপুরে মসজিদের ইমামের কক্ষে হাতবোমার বিস্ফোরণ, উড়ে গেল চাল

ছবি : কালের কণ্ঠ

 

মাদারীপুর সদর উপজেলার একটি জামে মসজিদের ইমামের থাকার কক্ষে আকস্মিক হাতবোমার বিকট বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে ইটের গাঁথুনি ও টিনশেড ঘরটির একাংশের চাল ও বেড়া উড়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ঘটনার সময় কক্ষটি তালাবদ্ধ থাকায় ভাগ্যক্রমে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

 

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের হোগলপাতিয়া গ্রামের মালেক আকনবাড়ি জামে মসজিদে এ বিপজ্জনক ঘটনাটি ঘটে। হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটলে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হন।

 

 

পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ওই মসজিদের নিয়মিত ইমাম আকাশ হাওলাদার শারীরিক চিকিৎসার জন‌্য দু’দিন আগে ছুটি নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। তিনি চলে যাওয়ার পর থেকে তাঁর থাকার রুমটি তালাবদ্ধ ছিল। ঘরটির চাবি মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. আলাউদ্দিন ওলিল আকনসহ স্থানীয় তিনটি দায়িত্বশীল পক্ষের কাছে সংরক্ষিত ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তালাবদ্ধ সেই ঘর থেকেই ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানা-পুলিশের একাধিক টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত ও আলামতের অবশিষ্টাংশ সংগ্রহ করে।

 

 

মসজিদ কমিটির সদস্য মালেক আকন চরম ক্ষোভ ও আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, “ইমামের থাকার কক্ষে কে বা কারা এই মারাত্মক বিস্ফোরক জমা করে রেখেছিল, তা আমাদের জানা নেই। নামাজের সময় যদি এই বোমাটি বিস্ফোরিত হতো, তবে অসংখ্য মানুষের প্রাণহানির মতো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। আল্লাহ্‌র রহমতে বড় বিপদ থেকে বেঁচে গেছি। যারা এই অপকর্মের সঙ্গে জড়িত, তাদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।” স্থানীয়দের অনেকের ধারণা, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও সামাজিক সংঘাতকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষকে দমনের প্রস্তুতি হিসেবেই হয়তো ইমামের অনুপস্থিতির সুযোগে গোপনে কক্ষটিতে বোমাটি জমা রাখা হয়েছিল।

 

 

সাম্প্রতিক সময়ে মাদারীপুর অঞ্চলে একের পর এক বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। গত ১৭ দিনের মধ্যে এটি ছিল জেলার তৃতীয় বিস্ফোরণ। এর আগে গত ২৬ আগস্ট সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের দক্ষিণ ঝিকরহাটি এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ঘরে হাতবোমা বিস্ফোরিত হয়। তারও আগে ১৫ আগস্ট কালকিনি পৌর এলাকার একটি মহিলা মাদরাসায় ককটেল বিস্ফোরণে পাঁচজন শিক্ষার্থী মারাত্মক আহত হয়। এসব ধারাবাহিকভাবে ঘটে যাওয়া ঘটনায় কোনো উগ্রবাদী বা জঙ্গি গোষ্ঠীর গোপন তৎপরতা রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

 

 

এ বিষয়ে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনা জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তথ্য ও আলামত জব্দ করেছে। ঘটনার প্রকৃত সত্যতা উদ্ঘাটনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বেশ কয়েকজনকে থানায় নিয়ে আসা হতে পারে। উগ্রবাদী সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই অঞ্চলে সামাজিক কোন্দল, শক্তি প্রদর্শন কিংবা আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘরে ঘরে ককটেল তৈরির একটি প্রবণতা রয়েছে। প্রাথমিক আলামতে মনে হচ্ছে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো কোনো উগ্রবাদী হামলা নয়, বরং স্থানীয় বিরোধের জেরে ঘটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। তবে সব দিক বিবেচনায় রেখেই তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

১৭ দিনে ৩ বিস্ফোরণে আতঙ্ক; পুলিশের দাবি স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার

মাদারীপুরে মসজিদের ইমামের কক্ষে হাতবোমার বিস্ফোরণ, উড়ে গেল চাল

Update Time : ১১:৩১:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছবি : কালের কণ্ঠ

 

মাদারীপুর সদর উপজেলার একটি জামে মসজিদের ইমামের থাকার কক্ষে আকস্মিক হাতবোমার বিকট বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে ইটের গাঁথুনি ও টিনশেড ঘরটির একাংশের চাল ও বেড়া উড়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ঘটনার সময় কক্ষটি তালাবদ্ধ থাকায় ভাগ্যক্রমে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

 

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের হোগলপাতিয়া গ্রামের মালেক আকনবাড়ি জামে মসজিদে এ বিপজ্জনক ঘটনাটি ঘটে। হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটলে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হন।

 

 

পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ওই মসজিদের নিয়মিত ইমাম আকাশ হাওলাদার শারীরিক চিকিৎসার জন‌্য দু’দিন আগে ছুটি নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। তিনি চলে যাওয়ার পর থেকে তাঁর থাকার রুমটি তালাবদ্ধ ছিল। ঘরটির চাবি মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. আলাউদ্দিন ওলিল আকনসহ স্থানীয় তিনটি দায়িত্বশীল পক্ষের কাছে সংরক্ষিত ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তালাবদ্ধ সেই ঘর থেকেই ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানা-পুলিশের একাধিক টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত ও আলামতের অবশিষ্টাংশ সংগ্রহ করে।

 

 

মসজিদ কমিটির সদস্য মালেক আকন চরম ক্ষোভ ও আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, “ইমামের থাকার কক্ষে কে বা কারা এই মারাত্মক বিস্ফোরক জমা করে রেখেছিল, তা আমাদের জানা নেই। নামাজের সময় যদি এই বোমাটি বিস্ফোরিত হতো, তবে অসংখ্য মানুষের প্রাণহানির মতো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। আল্লাহ্‌র রহমতে বড় বিপদ থেকে বেঁচে গেছি। যারা এই অপকর্মের সঙ্গে জড়িত, তাদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।” স্থানীয়দের অনেকের ধারণা, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও সামাজিক সংঘাতকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষকে দমনের প্রস্তুতি হিসেবেই হয়তো ইমামের অনুপস্থিতির সুযোগে গোপনে কক্ষটিতে বোমাটি জমা রাখা হয়েছিল।

 

 

সাম্প্রতিক সময়ে মাদারীপুর অঞ্চলে একের পর এক বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। গত ১৭ দিনের মধ্যে এটি ছিল জেলার তৃতীয় বিস্ফোরণ। এর আগে গত ২৬ আগস্ট সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের দক্ষিণ ঝিকরহাটি এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ঘরে হাতবোমা বিস্ফোরিত হয়। তারও আগে ১৫ আগস্ট কালকিনি পৌর এলাকার একটি মহিলা মাদরাসায় ককটেল বিস্ফোরণে পাঁচজন শিক্ষার্থী মারাত্মক আহত হয়। এসব ধারাবাহিকভাবে ঘটে যাওয়া ঘটনায় কোনো উগ্রবাদী বা জঙ্গি গোষ্ঠীর গোপন তৎপরতা রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

 

 

এ বিষয়ে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনা জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তথ্য ও আলামত জব্দ করেছে। ঘটনার প্রকৃত সত্যতা উদ্ঘাটনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বেশ কয়েকজনকে থানায় নিয়ে আসা হতে পারে। উগ্রবাদী সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই অঞ্চলে সামাজিক কোন্দল, শক্তি প্রদর্শন কিংবা আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘরে ঘরে ককটেল তৈরির একটি প্রবণতা রয়েছে। প্রাথমিক আলামতে মনে হচ্ছে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো কোনো উগ্রবাদী হামলা নয়, বরং স্থানীয় বিরোধের জেরে ঘটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। তবে সব দিক বিবেচনায় রেখেই তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।