ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২০২৬ আসরে ব্রাজিলের জার্সি গায়ে তুলতে ফিটনেস পুনরুদ্ধারে মরিয়া নেইমার

বিশ্বকাপ স্বপ্নে নেইমারের শেষ বাজি, পুনরায় অস্ত্রোপচার

ছবি : রয়টার্স

 

ফুটবল ক্যারিয়ারের গোধূলি লগ্নে এসে আরও একবার নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের লড়াইয়ে নেমেছেন ব্রাজিলিয়ান মহাতারকা নেইমার জুনিয়র। ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে এসে তার একমাত্র লক্ষ্য এখন ২০২৬ বিশ্বকাপ। আর সেই স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে নিজের শারীরিক ফিটনেস পুনরুদ্ধারে আবারও হাঁটুর অস্ত্রোপচার করিয়েছেন তিনি।

 

মূলত ব্রাজিল জাতীয় দলে নিজের জায়গা পুনরুদ্ধার এবং ইনজুরি কাটিয়ে শতভাগ ফিট হওয়ার লক্ষ্যেই আবারও অপারেশনের টেবিলে ফিরতে হয়েছে এই সান্তোস তারকাকে।

 

 

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এটিই নেইমারের ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার অন্তিম চেষ্টা। নিজের শেষ বিশ্বকাপ রাঙাতে এবং দলের প্রয়োজনে মাঠে থাকতে যা যা করা প্রয়োজন, তার সবকিছুই করছেন তিনি। স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক ‘মার্কা’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেইমার সম্প্রতি ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতি চলাকালীন এই বিশেষ অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেছেন। সান্তোস ম্যানেজার কুকা এক সংবাদ সম্মেলনে বিষিয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, অস্ত্রোপচারের পর নেইমার বেশ কিছু দিন অনুশীলনের বাইরে ছিলেন এবং প্রয়োজনীয় বিশ্রাম নিয়েছেন।

 

 

অস্ত্রোপচারের ধরন ও আধুনিক চিকিৎসা:

 

মার্কার তথ্যমতে, এবারের চিকিৎসা পদ্ধতিটি ছিল কিছুটা ভিন্নধর্মী। এটি মূলত একটি ‘রিজেনারেটিভ’ বা পুনরুত্পাদনশীল পদ্ধতি। যেখানে নেইমারের নিজস্ব রক্ত ব্যবহার করে হাঁটুর সূক্ষ্ম আঘাতগুলো নিরাময় এবং ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুগুলো মজবুত করার চেষ্টা করা হয়েছে। মূলত দীর্ঘমেয়াদী ইনজুরি থেকে মুক্তি পেতেই চিকিৎসকদের পরামর্শে ব্রাজিলিয়ান লিগের শেষ দিকে এই সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

 

 

কোচ আনচেলত্তির সুনজরে থাকার লড়াই:

 

বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। এর আগেই নিজেকে ফিট ঘোষণা করতে একটি বিশেষ চিকিৎসা কর্মসূচি বা রিহ্যাব সেশন হাতে নিয়েছেন নেইমার। তার মূল লক্ষ্য হলো, ব্রাজিল দলের বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে শতভাগ ফিটনেসের নিশ্চয়তা দেওয়া। যাতে করে বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের দলে তার নাম অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কোনো সংশয় না থাকে। ইনজুরি বারবার নেইমারের ক্যারিয়ারে বাধা হয়ে দাঁড়ালেও, এবার তিনি যেন হার মানতে নারাজ। এই শেষ চেষ্টা সফল হলে ২০২৬ সালে উত্তর আমেরিকায় আবারও দেখা যেতে পারে নেইমার-ম্যাজিক।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপ স্বপ্নে নেইমারের শেষ বাজি, পুনরায় অস্ত্রোপচার

২০২৬ আসরে ব্রাজিলের জার্সি গায়ে তুলতে ফিটনেস পুনরুদ্ধারে মরিয়া নেইমার

বিশ্বকাপ স্বপ্নে নেইমারের শেষ বাজি, পুনরায় অস্ত্রোপচার

Update Time : ০৫:১৪:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

ছবি : রয়টার্স

 

ফুটবল ক্যারিয়ারের গোধূলি লগ্নে এসে আরও একবার নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের লড়াইয়ে নেমেছেন ব্রাজিলিয়ান মহাতারকা নেইমার জুনিয়র। ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে এসে তার একমাত্র লক্ষ্য এখন ২০২৬ বিশ্বকাপ। আর সেই স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে নিজের শারীরিক ফিটনেস পুনরুদ্ধারে আবারও হাঁটুর অস্ত্রোপচার করিয়েছেন তিনি।

 

মূলত ব্রাজিল জাতীয় দলে নিজের জায়গা পুনরুদ্ধার এবং ইনজুরি কাটিয়ে শতভাগ ফিট হওয়ার লক্ষ্যেই আবারও অপারেশনের টেবিলে ফিরতে হয়েছে এই সান্তোস তারকাকে।

 

 

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এটিই নেইমারের ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার অন্তিম চেষ্টা। নিজের শেষ বিশ্বকাপ রাঙাতে এবং দলের প্রয়োজনে মাঠে থাকতে যা যা করা প্রয়োজন, তার সবকিছুই করছেন তিনি। স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক ‘মার্কা’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেইমার সম্প্রতি ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতি চলাকালীন এই বিশেষ অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেছেন। সান্তোস ম্যানেজার কুকা এক সংবাদ সম্মেলনে বিষিয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, অস্ত্রোপচারের পর নেইমার বেশ কিছু দিন অনুশীলনের বাইরে ছিলেন এবং প্রয়োজনীয় বিশ্রাম নিয়েছেন।

 

 

অস্ত্রোপচারের ধরন ও আধুনিক চিকিৎসা:

 

মার্কার তথ্যমতে, এবারের চিকিৎসা পদ্ধতিটি ছিল কিছুটা ভিন্নধর্মী। এটি মূলত একটি ‘রিজেনারেটিভ’ বা পুনরুত্পাদনশীল পদ্ধতি। যেখানে নেইমারের নিজস্ব রক্ত ব্যবহার করে হাঁটুর সূক্ষ্ম আঘাতগুলো নিরাময় এবং ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুগুলো মজবুত করার চেষ্টা করা হয়েছে। মূলত দীর্ঘমেয়াদী ইনজুরি থেকে মুক্তি পেতেই চিকিৎসকদের পরামর্শে ব্রাজিলিয়ান লিগের শেষ দিকে এই সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

 

 

কোচ আনচেলত্তির সুনজরে থাকার লড়াই:

 

বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। এর আগেই নিজেকে ফিট ঘোষণা করতে একটি বিশেষ চিকিৎসা কর্মসূচি বা রিহ্যাব সেশন হাতে নিয়েছেন নেইমার। তার মূল লক্ষ্য হলো, ব্রাজিল দলের বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে শতভাগ ফিটনেসের নিশ্চয়তা দেওয়া। যাতে করে বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের দলে তার নাম অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কোনো সংশয় না থাকে। ইনজুরি বারবার নেইমারের ক্যারিয়ারে বাধা হয়ে দাঁড়ালেও, এবার তিনি যেন হার মানতে নারাজ। এই শেষ চেষ্টা সফল হলে ২০২৬ সালে উত্তর আমেরিকায় আবারও দেখা যেতে পারে নেইমার-ম্যাজিক।