সংগৃহীত ছবি
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার বাণিজ্যিক কেন্দ্র চৌমুহনী বাজারের একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে অনৈতিক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আটজন নারী এবং চারজন পুরুষ রয়েছেন। বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে চৌমুহনী পৌরসভা এলাকার রিলাক্স আবাসিক হোটেলে এই ঝটিকা অভিযান চালানো হয়।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেলা পুলিশ সুপারের বিশেষ নির্দেশনা এবং ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সার্বিক তত্ত্বাবধানে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রিলাক্স আবাসিক হোটেলে পরিচ্ছন্নতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অংশ হিসেবে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে কক্ষগুলো থেকে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকা অবস্থায় হাতেনাতে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত চার পুরুষ হলেন—চাটখিলের তালতলা গ্রামের আবু নাছের শরীফ (৬৩), চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের মো. ইমন হোসেন (৩২), চৌমুহনী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপুর এলাকার মো. হানিফ (৩৫) এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাফায়েত হোসেন সাকিব (২৭)।
অন্যদিকে গ্রেপ্তার আট নারী হলেন—বরিশালের বড় জালিয়া গ্রামের রিনা বেগম (৩৪), সুনামগঞ্জের লালপুর গ্রামের স্নেহা আক্তার (২১), ঢাকার যাত্রাবাড়ীর মাইশা আক্তার (১৮), সুধারাম থানার সল্যা সোনাপুর এলাকার ইসরাত জাহান পূর্ণিমা (১৮), নোয়াখালী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ফাতেমা আক্তার নুসরাত (১৮), একই এলাকার জান্নাতুল ফেরদৌস মারিয়া (১৮), বেগমগঞ্জের হাজীপুর গ্রামের মরিয়ম আক্তার (৩০) এবং নওগাঁর বদলগাছি গ্রামের মিম আক্তার (২৮)।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহমেদ পেয়ার জানান, বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত কিছু আবাসিক হোটেলের ছদ্মবেশে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল একটি চক্র—এমন অভিযোগের ভিত্তিতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আটককৃত সবার বিরুদ্ধে অসামাজিক কার্যকলাপ নিরোধ আইনে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিচারিক আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। জেলা জুড়ে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।














