ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
দুই দশক পর মহাজাগতিক দৃশ্য, সঙ্গে উল্কাবৃষ্টির চমক

দুই দশক পর মহাজাগতিক বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ: দেখবে লাখ লাখ মানুষ

সংগৃহীত ছবি

 

পৃথিবী সাক্ষী হতে যাচ্ছে এক বিরল ও মনোমুগ্ধকর মহাজাগতিক দৃশ্যের। বুধবার (১২ আগস্ট) এক বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের প্রত্যক্ষদর্শী হবেন লাখ লাখ মানুষ। ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে প্রায় দুই দশকের মধ্যে এটিই প্রথম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ, যা পর্যবেক্ষণ করার জন্য মুখিয়ে আছেন বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও সাধারণ কৌতূহলী মানুষ।

 

 

চাঁদ যখন পৃথিবী ও সূর্যের ঠিক মাঝখানে সরাসরি অবস্থান নেয় এবং সূর্যের আলো পৃথিবীতে পৌঁছাতে সম্পূর্ণ বাধা দেয়, তখনই ঘটে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। এ সময় চাঁদের প্রচ্ছায়ায় (উম্ব্রা) থাকা মানুষ পূর্ণগ্রাস এবং উপচ্ছায়ায় (পেনামব্রা) থাকা মানুষ আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখতে পান। পৃথিবীর একটি নির্দিষ্ট ও সরু পথ ধরে চাঁদের ছায়া অগ্রসর হওয়ায় সব অঞ্চল থেকে একই সঙ্গে এই পূর্ণগ্রাস দেখা যায় না।

 

 

বিজ্ঞানীদের মতে, আজ স্পেনের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা, পর্তুগালের একটি অংশ, গ্রিনল্যান্ড এবং আইসল্যান্ড থেকে এই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ স্পষ্টভাবে উপভোগ করা যাবে। এছাড়া পশ্চিম ইউরোপের যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড এবং উত্তর ইতালির বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। যুক্তরাজ্যে সর্বশেষ ১৯৯৯ সালে পূর্ণগ্রাস গ্রহণ দেখা গেলেও পরবর্তী পূর্ণগ্রাস দেখা যাবে ২০৯০ সালে। তবে আজ দেশটিতে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে, যেখানে কর্নওয়ালে সূর্যের প্রায় ৯৬ শতাংশ এবং লন্ডনে ৯২ শতাংশ পর্যন্ত চাঁদের আড়ালে ঢাকা পড়বে।

 

 

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, খালি চোখে কিংবা সাধারণ সানগ্লাস পরেন সূর্যগ্রহণ দেখা অত্যন্ত বিপজ্জনক, যা চোখের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। তাই বিশেষ নিরাপত্তা চশমা (এক্লিপস গ্লাস) বা পিনহোল প্রজেক্টরের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে গ্রহণের রূপ উপভোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

 

বিজ্ঞানীদের কাছে এই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ কেবল এক নয়নাভিরাম দৃশ্য নয়, বরং সৌর বায়ুমণ্ডলের রাসায়নিক গঠন ও ১১ বছরের সৌরচক্র নিয়ে গবেষণার এক অনন্য সুযোগ। উল্লেখ্য, শত বছর আগে ১৯১৯ সালের সূর্যগ্রহণের সময় মহাজাগতিক নক্ষত্রের অবস্থান মেপে বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্ব প্রমাণ করা হয়েছিল। তদুপরি, এই সূর্যগ্রহণের পরপরই ১২-১৩ আগস্ট রাতে আকাশে ‘পারসেইড’ উল্কাবৃষ্টির সর্বোচ্চ পর্যায় দেখা যাবে, যা আজকের রাতটিকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলবে।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

দুই দশক পর মহাজাগতিক দৃশ্য, সঙ্গে উল্কাবৃষ্টির চমক

দুই দশক পর মহাজাগতিক বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ: দেখবে লাখ লাখ মানুষ

Update Time : ০৫:২১:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

পৃথিবী সাক্ষী হতে যাচ্ছে এক বিরল ও মনোমুগ্ধকর মহাজাগতিক দৃশ্যের। বুধবার (১২ আগস্ট) এক বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের প্রত্যক্ষদর্শী হবেন লাখ লাখ মানুষ। ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে প্রায় দুই দশকের মধ্যে এটিই প্রথম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ, যা পর্যবেক্ষণ করার জন্য মুখিয়ে আছেন বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও সাধারণ কৌতূহলী মানুষ।

 

 

চাঁদ যখন পৃথিবী ও সূর্যের ঠিক মাঝখানে সরাসরি অবস্থান নেয় এবং সূর্যের আলো পৃথিবীতে পৌঁছাতে সম্পূর্ণ বাধা দেয়, তখনই ঘটে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। এ সময় চাঁদের প্রচ্ছায়ায় (উম্ব্রা) থাকা মানুষ পূর্ণগ্রাস এবং উপচ্ছায়ায় (পেনামব্রা) থাকা মানুষ আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখতে পান। পৃথিবীর একটি নির্দিষ্ট ও সরু পথ ধরে চাঁদের ছায়া অগ্রসর হওয়ায় সব অঞ্চল থেকে একই সঙ্গে এই পূর্ণগ্রাস দেখা যায় না।

 

 

বিজ্ঞানীদের মতে, আজ স্পেনের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা, পর্তুগালের একটি অংশ, গ্রিনল্যান্ড এবং আইসল্যান্ড থেকে এই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ স্পষ্টভাবে উপভোগ করা যাবে। এছাড়া পশ্চিম ইউরোপের যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড এবং উত্তর ইতালির বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। যুক্তরাজ্যে সর্বশেষ ১৯৯৯ সালে পূর্ণগ্রাস গ্রহণ দেখা গেলেও পরবর্তী পূর্ণগ্রাস দেখা যাবে ২০৯০ সালে। তবে আজ দেশটিতে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে, যেখানে কর্নওয়ালে সূর্যের প্রায় ৯৬ শতাংশ এবং লন্ডনে ৯২ শতাংশ পর্যন্ত চাঁদের আড়ালে ঢাকা পড়বে।

 

 

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, খালি চোখে কিংবা সাধারণ সানগ্লাস পরেন সূর্যগ্রহণ দেখা অত্যন্ত বিপজ্জনক, যা চোখের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। তাই বিশেষ নিরাপত্তা চশমা (এক্লিপস গ্লাস) বা পিনহোল প্রজেক্টরের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে গ্রহণের রূপ উপভোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

 

বিজ্ঞানীদের কাছে এই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ কেবল এক নয়নাভিরাম দৃশ্য নয়, বরং সৌর বায়ুমণ্ডলের রাসায়নিক গঠন ও ১১ বছরের সৌরচক্র নিয়ে গবেষণার এক অনন্য সুযোগ। উল্লেখ্য, শত বছর আগে ১৯১৯ সালের সূর্যগ্রহণের সময় মহাজাগতিক নক্ষত্রের অবস্থান মেপে বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্ব প্রমাণ করা হয়েছিল। তদুপরি, এই সূর্যগ্রহণের পরপরই ১২-১৩ আগস্ট রাতে আকাশে ‘পারসেইড’ উল্কাবৃষ্টির সর্বোচ্চ পর্যায় দেখা যাবে, যা আজকের রাতটিকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলবে।