ঢাকা , বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সিলেটে চিকিৎসক ছেলের শোক সইতে না পেরে আত্মহত্যা

ছেলে মৃত্যুর ১১ দিন পর বাবার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

পূর্ণেন্দ্র চক্রবর্তী ও পদ্মজিৎ চক্রবর্তী প্রান্ত। ছবি : সংগৃহীত

 

সিলেটে তরুণ চিকিৎসক পদ্মজিৎ চক্রবর্তী প্রান্তের (৩১) আত্মহত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই নেমে এলো আরও এক মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি। চিকিৎসাধীন একমাত্র ছেলেকে হারানোর মাত্র ১১ দিনের মাথায় এবার তার বাবা পূর্ণেন্দ্র চক্রবর্তীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) মৌলভীবাজার শহরের এম সাইফুর রহমান সড়কে অবস্থিত পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘ভটের ফার্মেসি’র দ্বিতীয় তলার বাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

 

 

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে স্ত্রী মারা যাওয়ার পর একমাত্র ছেলে ডা. পদ্মজিৎকে নিয়েই বেঁচে ছিলেন পূর্ণেন্দ্র চক্রবর্তী। কিন্তু গত ৭ সেপ্টেম্বর সিলেট নগরের মির্জাজাঙ্গাল এলাকার একটি বাসা থেকে ওই চিকিৎসকের রহস্যজনক ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একমাত্র সন্তানকে হারানোর পর থেকেই গভীর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং চরম বিষণ্নতায় ভুগছিলেন তিনি।

 

 

শুক্রবার সকালে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে স্থানীয় থানা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভেতর থেকে বন্ধ থাকা দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।

 

 

মৌলভীবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, একমাত্র ছেলের অকালমৃত্যু সইতে না পেরে গভীর শোক থেকেই পূর্ণেন্দ্র চক্রবর্তী আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিক সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার রাতেই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই পরিবারে অল্প দিনের ব্যবধানে মা, ছেলে ও বাবার এমন করুণ পরিণতিতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

 

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সিলেটে চিকিৎসক ছেলের শোক সইতে না পেরে আত্মহত্যা

ছেলে মৃত্যুর ১১ দিন পর বাবার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

Update Time : ০৮:৪২:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পূর্ণেন্দ্র চক্রবর্তী ও পদ্মজিৎ চক্রবর্তী প্রান্ত। ছবি : সংগৃহীত

 

সিলেটে তরুণ চিকিৎসক পদ্মজিৎ চক্রবর্তী প্রান্তের (৩১) আত্মহত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই নেমে এলো আরও এক মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি। চিকিৎসাধীন একমাত্র ছেলেকে হারানোর মাত্র ১১ দিনের মাথায় এবার তার বাবা পূর্ণেন্দ্র চক্রবর্তীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) মৌলভীবাজার শহরের এম সাইফুর রহমান সড়কে অবস্থিত পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘ভটের ফার্মেসি’র দ্বিতীয় তলার বাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

 

 

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে স্ত্রী মারা যাওয়ার পর একমাত্র ছেলে ডা. পদ্মজিৎকে নিয়েই বেঁচে ছিলেন পূর্ণেন্দ্র চক্রবর্তী। কিন্তু গত ৭ সেপ্টেম্বর সিলেট নগরের মির্জাজাঙ্গাল এলাকার একটি বাসা থেকে ওই চিকিৎসকের রহস্যজনক ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একমাত্র সন্তানকে হারানোর পর থেকেই গভীর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং চরম বিষণ্নতায় ভুগছিলেন তিনি।

 

 

শুক্রবার সকালে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে স্থানীয় থানা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভেতর থেকে বন্ধ থাকা দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।

 

 

মৌলভীবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, একমাত্র ছেলের অকালমৃত্যু সইতে না পেরে গভীর শোক থেকেই পূর্ণেন্দ্র চক্রবর্তী আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিক সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার রাতেই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই পরিবারে অল্প দিনের ব্যবধানে মা, ছেলে ও বাবার এমন করুণ পরিণতিতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।