সংগৃহীত ছবি
রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে কুপ্রস্তাব দেওয়ার গুরুতর অভিযোগে মনিগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুস সামাদের বিরুদ্ধে তুমুল বিক্ষোভ ও আন্দোলন করেছেন শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের প্রবল চাপের মুখে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে পুলিশি পাহারায় বিদ্যালয় ত্যাগ করতে বাধ্য হন অভিযুক্ত ওই শিক্ষক।
রবিবার (৯ আগস্ট) উপজেলার মনিগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ নজিরবিহীন ও উত্তপ্ত ঘটনার সূত্রপাত হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র মনিগ্রাম এলাকা ও বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বাঘা থানা পুলিশ।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুস সামাদ বেশ কিছু দিন ধরে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব বা কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। ওই ছাত্রী এতে কোনোভাবেই রাজি না হয়ে বিষয়টি তার সহপাঠীদের অবহিত করে। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি বিদ্যালয়ের অন্যান্য কয়েকজন শিক্ষকের নজরে আনলেও তারা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।
শিক্ষকদের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষুব্ধ হয়ে রবিবার শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আবদুস সামাদের কঠোর শাস্তির দাবিতে বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হঠাৎ বিক্ষোভ ও স্লোগান দেওয়া শুরু করে। উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা দ্রুত বাঘা থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত পুরো বিদ্যালয় চত্বরে থমথমে ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
শিক্ষার্থীদের লাগাতার ও তীব্র আন্দোলনের মুখে একপর্যায়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুস সামাদ বিদ্যালয়ের সভাপতি বরাবর নিজের হাতে লেখা পদত্যাগপত্র জমা দিতে বাধ্য হন। পদত্যাগপত্রে তিনি স্পষ্ট লেখেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে পদত্যাগ করলাম।’
পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর পুলিশি নিরাপত্তায় তাঁকে বিদ্যালয় থেকে বের করে নেওয়া হয়। এ সময় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাঁর পিছু নিলে পুলিশ সদস্যরা কড়া কর্ডন তৈরি করে দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করেন এবং বাঘার আমোদপুর গ্রামে তাঁর নিজ বাসভবনে পৌঁছে দেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেরাজুল হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিশৃঙ্খলা এড়াতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছে। তবে এ ঘটনায় রাত পর্যন্ত কোনো ভুক্তভোগী বা অভিভাবকের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুযায়ী তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।














