সংগৃহীত ছবি
চট্টগ্রামে ডেঙ্গু পরিস্থিতির আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় নতুন করে ১৫০ জন ডেঙ্গু রোগী জেলার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে কেবল বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) একদিনেই ভর্তি হয়েছেন ৭৮ জন রোগী। পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে খালেদা বেগম (৪৭) নামের এক নারীর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ নিয়ে চলতি বছর চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৬ জনে (যদিও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এক পরিসংখ্যানে প্রাতিষ্ঠানিক মৃত্যু ৫ উল্লেখ থাকলেও নতুন প্রাণহানিসহ তা ছয়ে পৌঁছেছে), যাদের মধ্যে তিনজন নারী ও তিনজন পুরুষ।
বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ ডেঙ্গু সংক্রান্ত দৈনিক প্রতিবেদন থেকে এসব উদ্বেগজনক তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৮৬ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে বর্তমানে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ১৮৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকি চিকিৎসা শেষ করে সুস্থ হয়ে নিজ নিজ আবাসে ফিরে গেছেন।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সদ্য সমাপ্ত আগস্ট মাসেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে মারাত্মক রূপ ধারণ করেছিল। আগস্ট মাসে মোট ১ হাজার ২০২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন, যা মাসভিত্তিক হিসাবে চলতি বছরের সর্বোচ্চ। আগস্টজুড়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৯ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হতে দেখা গেছে। তবে চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতেই দৈনিক আক্রান্তের এই হার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, সেপ্টেম্বরের শুরুতেই যেভাবে ডেঙ্গুর সংক্রমণ লাফিয়ে বাড়ছে, তাতে এই চলতি মাসে আক্রান্ত ও ঝুঁকির মাত্রা আগস্টের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের বিস্তারিত তথ্য অনুযায়ী, মোট ২ হাজার ১৮৬ জন ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগর এলাকার বাসিন্দা ৯৩৬ জন, জেলার বিভিন্ন উপজেলার ৯৫৫ জন এবং বাকি ২৯৫ জন চট্টগ্রাম অঞ্চলের আশপাশের অন্যান্য জেলা থেকে এসে চট্টগ্রাম শহরের হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। আক্রান্তদের লিঙ্গভিত্তিক হিসেবে পুরুষ ১ হাজার ১৫১ জন, নারী ৬০২ জন এবং শিশুর সংখ্যা ৪৩৩ জন। এছাড়া মোট আক্রান্তদের মধ্যে সিংহভাগ অর্থাৎ ১ হাজার ৮৪৭ জন সরকারি হাসপাতালে এবং ৩৩৯ জন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগকে এখনই এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও সাধারণ জনগণকে সচেতন করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।














