ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
চাঁদপুরে আত্মগোপনের অভিযোগ, পাওনাদারদের থানায় ভিড় ও জিডি

খোঁজ নেই পিন্টু দাসসহ পরিবারের ৪ সদস্যের

সংগৃহীত ছবি

 

চাঁদপুর শহরের স্বনামধন্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘এসকে শিল্পালয়’-এর স্বত্বাধিকারী পিন্টু দাসসহ তার পরিবারের চার সদস্য রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন। বিপুল পরিমাণ ঋণের চাপ এবং পাওনাদারদের ক্রমাগত হুমকির মুখে তারা সপরিবারে আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে জোরালো অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) পিন্টু দাস ও তার পরিবারের নিখোঁজের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন চাঁদপুর জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ছাত্র ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক উপমা দে।

 

 

নিখোঁজ হওয়া পরিবারের অন্য সদস্যরা হলেন—পিন্টু দাসের স্ত্রী রিমি দাস, বড় ছেলে প্রিয়ম দাস এবং ছোট ছেলে রুপম দাস। পিন্টু দাসের মূল বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে হলেও তারা চাঁদপুর শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন।

 

 

স্থানীয় ও পাওনাদার সূত্রে জানা গেছে, পিন্টু দাস শহরের মদিনা মার্কেটের নিচতলায় ‘এসকে শিল্পালয়’ নামে দোকান ভাড়া নিয়ে স্বর্ণালংকার প্রস্তুত ও বন্ধকি ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। তবে সম্প্রতি তিনি ব্যবসাসূত্রে মারাত্মক ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। গ্রাহক রাসেল খান জানান, তিনি আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার ৫০ হাজার টাকায় পিন্টুর কাছে বন্ধক রেখেছিলেন। পরবর্তীতে ঋণের টাকা পরিশোধ করে অলংকার ফেরত চাইতে গেলে পিন্টু দাস পরদিন আসার কথা বলেন। কিন্তু পরদিন এসে তিনি পিন্টু দাসের দোকান বন্ধ ও সপরিবারে গা-ঢাকা দেওয়ার খবর পান। এই ঘটনায় তিনি চাঁদপুর সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

 

 

একইভাবে জাহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি ১২ আনা এবং শুভঙ্কর মজুমদার ১০ আনা স্বর্ণ পিন্টু দাসের কাছে গচ্ছিত রেখে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন। ভুক্তভোগীদের মতে, পাওনাদারদের চাপ সামলাতে না পেরেই পিন্টু দাস পরিবার নিয়ে আত্মগোপন করেছেন।

 

 

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ জানান, পিন্টু দাস ও তার পরিবারের চারজন নিখোঁজ হওয়ার খবর তারা পেয়েছেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন ব্যাংক ও ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল অংকের ঋণ নিয়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, ঋণের দেনা পরিশোধ এড়াতেই তিনি সপরিবারে স্থান পরিবর্তন বা আত্মগোপন করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

 

 

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদপুরে আত্মগোপনের অভিযোগ, পাওনাদারদের থানায় ভিড় ও জিডি

খোঁজ নেই পিন্টু দাসসহ পরিবারের ৪ সদস্যের

Update Time : ০৭:২৩:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

চাঁদপুর শহরের স্বনামধন্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘এসকে শিল্পালয়’-এর স্বত্বাধিকারী পিন্টু দাসসহ তার পরিবারের চার সদস্য রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন। বিপুল পরিমাণ ঋণের চাপ এবং পাওনাদারদের ক্রমাগত হুমকির মুখে তারা সপরিবারে আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে জোরালো অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) পিন্টু দাস ও তার পরিবারের নিখোঁজের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন চাঁদপুর জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ছাত্র ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক উপমা দে।

 

 

নিখোঁজ হওয়া পরিবারের অন্য সদস্যরা হলেন—পিন্টু দাসের স্ত্রী রিমি দাস, বড় ছেলে প্রিয়ম দাস এবং ছোট ছেলে রুপম দাস। পিন্টু দাসের মূল বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে হলেও তারা চাঁদপুর শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন।

 

 

স্থানীয় ও পাওনাদার সূত্রে জানা গেছে, পিন্টু দাস শহরের মদিনা মার্কেটের নিচতলায় ‘এসকে শিল্পালয়’ নামে দোকান ভাড়া নিয়ে স্বর্ণালংকার প্রস্তুত ও বন্ধকি ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। তবে সম্প্রতি তিনি ব্যবসাসূত্রে মারাত্মক ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। গ্রাহক রাসেল খান জানান, তিনি আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার ৫০ হাজার টাকায় পিন্টুর কাছে বন্ধক রেখেছিলেন। পরবর্তীতে ঋণের টাকা পরিশোধ করে অলংকার ফেরত চাইতে গেলে পিন্টু দাস পরদিন আসার কথা বলেন। কিন্তু পরদিন এসে তিনি পিন্টু দাসের দোকান বন্ধ ও সপরিবারে গা-ঢাকা দেওয়ার খবর পান। এই ঘটনায় তিনি চাঁদপুর সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

 

 

একইভাবে জাহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি ১২ আনা এবং শুভঙ্কর মজুমদার ১০ আনা স্বর্ণ পিন্টু দাসের কাছে গচ্ছিত রেখে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন। ভুক্তভোগীদের মতে, পাওনাদারদের চাপ সামলাতে না পেরেই পিন্টু দাস পরিবার নিয়ে আত্মগোপন করেছেন।

 

 

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ জানান, পিন্টু দাস ও তার পরিবারের চারজন নিখোঁজ হওয়ার খবর তারা পেয়েছেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন ব্যাংক ও ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল অংকের ঋণ নিয়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, ঋণের দেনা পরিশোধ এড়াতেই তিনি সপরিবারে স্থান পরিবর্তন বা আত্মগোপন করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।