ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ডাক্তার বদল ও অবহেলার দাবি স্বজনদের, পলাতক অভিযুক্ত

কোটালীপাড়ায় ক্লিনিকে প্রসূতির মৃত্যু, ভুল চিকিৎসার অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

 

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় এক বেসরকারি ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসা ও চরম অবহেলায় নিপা খন্দকার (১৯) নামের এক প্রসূতি মায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলা সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন ‘হেলথ কেয়ার জেনারেল হাসপাতাল (প্রাঃ লিঃ)’ নামের একটি ক্লিনিকে। নতুন অতিথি আগমনের খুশির মুহূর্ত মুহূর্তের মধ্যেই পুরো পরিবারে বিষাদের ছায়া ফেলে দিয়েছে।

 

 

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে প্রসূতি নিপা খন্দকারকে সিজারিয়ান সেকশনের জন্য ওই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। দুপুর দুইটার দিকে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয় এবং তিনি এক ফুটফুটে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। তবে নবজাতককে স্বজনদের কোলে তুলে দেওয়ার পরপরই চিকিৎসাকক্ষে শুরু হয় অস্বাভাবিক দৌড়াদৌড়ি ও অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে টানাটানি। পরবর্তীতে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ জানায় যে রোগী ‘স্ট্রোক’ করেছেন এবং তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা বা খুলনায় রেফার করা হচ্ছে।

 

 

স্বজনদের অভিযোগ, সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারটি পরিচালনা করার কথা ছিল অভিজ্ঞ সার্জন ডা. শ্যামল বাড়ৈ-এর। কিন্তু তাদের না জানিয়েই শেষ মুহূর্তে ডা. সোহাগ হাওলাদার নামের অন্য এক চিকিৎসক দিয়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ সিজার করানো হয়। ক্লিনিকে মৃত্যুর পর রেফার করার নাটক সাজানো হয়েছে বলে দাবি করেন নিহত প্রসূতির স্বজনরা। ঢাকা নেওয়ার পথে সন্দেহ হলে স্বজনরা নিপাকে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্বজনদের স্পষ্ট অভিযোগ, ক্লিনিকের ওটিতেই ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় নিপার মৃত্যু হয়েছিল, তবে আইনি দায় এড়াতে নিথর দেহ রেফার করার বাহানা করা হয়।

 

 

নিহত নিপা খন্দকার কোটালীপাড়া উপজেলার আটাশিবাড়ী গ্রামের মহিউদ্দিন খন্দকারের মেয়ে। দুই বছর আগে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ইছাইল ভাগজাম গ্রামের মেহেদী হাসানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। সদ্যোজাত কন্যাটি তাদের প্রথম সন্তান ছিল। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর পর অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. সোহাগ হাওলাদার আত্মগোপনে চলে গেছেন। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর অজুহাত দিলেও নিহত প্রসূতির পরিবার দায়ী চিকিৎসকের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

 

 

বিষয়টি নিশ্চিত করে গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন জানান, পুরো ঘটনাটির জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে চিকিৎসায় গাফিলতি বা কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ডাক্তার বদল ও অবহেলার দাবি স্বজনদের, পলাতক অভিযুক্ত

কোটালীপাড়ায় ক্লিনিকে প্রসূতির মৃত্যু, ভুল চিকিৎসার অভিযোগ

Update Time : ০১:০২:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত

 

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় এক বেসরকারি ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসা ও চরম অবহেলায় নিপা খন্দকার (১৯) নামের এক প্রসূতি মায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলা সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন ‘হেলথ কেয়ার জেনারেল হাসপাতাল (প্রাঃ লিঃ)’ নামের একটি ক্লিনিকে। নতুন অতিথি আগমনের খুশির মুহূর্ত মুহূর্তের মধ্যেই পুরো পরিবারে বিষাদের ছায়া ফেলে দিয়েছে।

 

 

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে প্রসূতি নিপা খন্দকারকে সিজারিয়ান সেকশনের জন্য ওই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। দুপুর দুইটার দিকে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয় এবং তিনি এক ফুটফুটে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। তবে নবজাতককে স্বজনদের কোলে তুলে দেওয়ার পরপরই চিকিৎসাকক্ষে শুরু হয় অস্বাভাবিক দৌড়াদৌড়ি ও অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে টানাটানি। পরবর্তীতে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ জানায় যে রোগী ‘স্ট্রোক’ করেছেন এবং তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা বা খুলনায় রেফার করা হচ্ছে।

 

 

স্বজনদের অভিযোগ, সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারটি পরিচালনা করার কথা ছিল অভিজ্ঞ সার্জন ডা. শ্যামল বাড়ৈ-এর। কিন্তু তাদের না জানিয়েই শেষ মুহূর্তে ডা. সোহাগ হাওলাদার নামের অন্য এক চিকিৎসক দিয়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ সিজার করানো হয়। ক্লিনিকে মৃত্যুর পর রেফার করার নাটক সাজানো হয়েছে বলে দাবি করেন নিহত প্রসূতির স্বজনরা। ঢাকা নেওয়ার পথে সন্দেহ হলে স্বজনরা নিপাকে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্বজনদের স্পষ্ট অভিযোগ, ক্লিনিকের ওটিতেই ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় নিপার মৃত্যু হয়েছিল, তবে আইনি দায় এড়াতে নিথর দেহ রেফার করার বাহানা করা হয়।

 

 

নিহত নিপা খন্দকার কোটালীপাড়া উপজেলার আটাশিবাড়ী গ্রামের মহিউদ্দিন খন্দকারের মেয়ে। দুই বছর আগে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ইছাইল ভাগজাম গ্রামের মেহেদী হাসানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। সদ্যোজাত কন্যাটি তাদের প্রথম সন্তান ছিল। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর পর অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. সোহাগ হাওলাদার আত্মগোপনে চলে গেছেন। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর অজুহাত দিলেও নিহত প্রসূতির পরিবার দায়ী চিকিৎসকের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

 

 

বিষয়টি নিশ্চিত করে গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন জানান, পুরো ঘটনাটির জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে চিকিৎসায় গাফিলতি বা কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।