ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
থানায় হস্তান্তরের পর কোনো মামলা না থাকায় স্বজনদের জিম্মায় মুক্তি

এনসিপির সাবেক নেতা গণপিটুনির শিকার, পরে পুলিশের হাতে সোপর্দ

সংগৃহীত ছবি

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্যকে নিয়ে সমালোচনামূলক মন্তব্য করার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেতা ও অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য আসাদ খোকন। পরে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় থানা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে নাসিরনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী হরিপুর ইউনিয়নের জমিদার বাড়ি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

 

 

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিগৃহীত আসাদ খোকন উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের অধিবাসী। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর সক্রিয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। তৎকালীন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য বি এম ফরহাদ হোসেন সংগ্রামের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে যুবলীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নতুন গঠিত দল এনসিপিতে যোগ দেন। অবশ্য বিতর্কিত আচরণের কারণে পরবর্তী সময়ে এনসিপি থেকেও তাকে বহিষ্কার করা হয়।

 

 

দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও আসাদ খোকন নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ব্যক্তিগত পেজ থেকে বর্তমান সরকার, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য এম এ হান্নানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সমালোচনামূলক লেখালেখি করে আসছিলেন। শুক্রবার বিকেলে তিনি হরিপুর জমিদার বাড়ি এলাকায় গেলে হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতা তাকে ঘিরে ফেলে। একপর্যায়ে তার ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং পরবর্তীতে তাকে গণধোলাই দেওয়া হয়।

 

 

সংবাদ পেয়ে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে স্থানীয়রা আসাদ খোকনকে নাসিরনগর থানায় নিয়ে যান এবং পুলিশ হেফাজতে সোপর্দ করেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম জানান, “বিকেলের দিকে কিছু লোক আসাদ খোকন নামে ওই ব্যক্তিকে আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় থানায় নিয়ে আসে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখেছি। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বর্তমানে থানায় সুনির্দিষ্ট কোনো মামলা বা পরোয়ানা নেই। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

থানায় হস্তান্তরের পর কোনো মামলা না থাকায় স্বজনদের জিম্মায় মুক্তি

এনসিপির সাবেক নেতা গণপিটুনির শিকার, পরে পুলিশের হাতে সোপর্দ

Update Time : ০৯:০৮:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্যকে নিয়ে সমালোচনামূলক মন্তব্য করার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেতা ও অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য আসাদ খোকন। পরে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় থানা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে নাসিরনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী হরিপুর ইউনিয়নের জমিদার বাড়ি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

 

 

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিগৃহীত আসাদ খোকন উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের অধিবাসী। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর সক্রিয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। তৎকালীন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য বি এম ফরহাদ হোসেন সংগ্রামের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে যুবলীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নতুন গঠিত দল এনসিপিতে যোগ দেন। অবশ্য বিতর্কিত আচরণের কারণে পরবর্তী সময়ে এনসিপি থেকেও তাকে বহিষ্কার করা হয়।

 

 

দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও আসাদ খোকন নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ব্যক্তিগত পেজ থেকে বর্তমান সরকার, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য এম এ হান্নানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সমালোচনামূলক লেখালেখি করে আসছিলেন। শুক্রবার বিকেলে তিনি হরিপুর জমিদার বাড়ি এলাকায় গেলে হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতা তাকে ঘিরে ফেলে। একপর্যায়ে তার ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং পরবর্তীতে তাকে গণধোলাই দেওয়া হয়।

 

 

সংবাদ পেয়ে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে স্থানীয়রা আসাদ খোকনকে নাসিরনগর থানায় নিয়ে যান এবং পুলিশ হেফাজতে সোপর্দ করেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম জানান, “বিকেলের দিকে কিছু লোক আসাদ খোকন নামে ওই ব্যক্তিকে আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় থানায় নিয়ে আসে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখেছি। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বর্তমানে থানায় সুনির্দিষ্ট কোনো মামলা বা পরোয়ানা নেই। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”