ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ সংশোধনের মাধ্যমে আসবে নিয়ন্ত্রিত বিপণন কাঠামো

ই-সিগারেট বিক্রির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করছে সরকার

সংগৃহীত ছবি

 

বাংলাদেশে ই-সিগারেট উৎপাদন ও বিক্রির ওপর আরোপিত দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে যাচ্ছে সরকার। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার জন্য গঠিত একটি সংসদীয় বিশেষ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ সংশোধনের মাধ্যমে ই-সিগারেটকে ‘সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা’র পরিবর্তে একটি ‘নিয়ন্ত্রিত বিপণন’ কাঠামোর আওতায় আনা হচ্ছে।

 

 

সূত্র মতে, সংসদীয় কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে একটি নতুন খসড়া তৈরি করছে, যেখানে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ সংক্রান্ত পূর্বের কঠোর বিধানগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে। এই খসড়াটি দ্রুতই লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগে পাঠানো হবে। এর ফলে ই-সিগারেট এখন অবৈধ পণ্য থেকে বৈধ কিন্তু নিয়ন্ত্রিত পণ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছে। সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন (বেন্ডস্টা)।

 

 

বেন্ডস্টা গত মাসে এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, বিশ্বব্যাপী ই-সিগারেট বা ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ইএনডিএস) এখন ‘তামাক ক্ষতি হ্রাস’ (Tobacco Harm Reduction) পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃত।

 

 

তারা যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) এবং ৪ জুলাই ২০২৫-এ প্রকাশিত ‘স্মোকিং অ্যান্ড টোবাকো: অ্যাপ্লাইং অল আওয়ার হেলথ’ শীর্ষক নির্দেশিকার উদাহরণ টেনে বলেন, ধূমপান ছাড়ার ক্ষেত্রে ই-সিগারেট সাধারণ নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপির চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ কার্যকর। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, এটি ধূমপায়ীদের ক্ষতিকর দহনযোগ্য তামাক থেকে দূরে সরাতে সাহায্য করে।

 

 

বেন্ডস্টার সভাপতি সুমন জামান এই সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত আখ্যা দিয়ে বলেন, “নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তরুণদের মধ্যে ই-সিগারেটের ব্যবহার বন্ধ হয়নি, বরং অবৈধ পথে নিম্নমানের পণ্য দেশে আসছে। এতে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে এবং কালোবাজারি বাড়ছে।” তিনি আরও জানান যে, যথাযথ বয়স যাচাই, লাইসেন্সভিত্তিক বিক্রয়, এবং বিজ্ঞাপনে কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপের মাধ্যমেই তরুণদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব।

 

সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বাজারকে অদৃশ্য করে দেয়, যেখানে কোনো তদারকি থাকে না। ফলে নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর মাধ্যমেই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের এই পণ্য থেকে দূরে রাখা অধিক কার্যকর ও টেকসই পথ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের ভাষণের পরপরই ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি

তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ সংশোধনের মাধ্যমে আসবে নিয়ন্ত্রিত বিপণন কাঠামো

ই-সিগারেট বিক্রির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করছে সরকার

Update Time : ০৫:২৭:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

বাংলাদেশে ই-সিগারেট উৎপাদন ও বিক্রির ওপর আরোপিত দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে যাচ্ছে সরকার। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার জন্য গঠিত একটি সংসদীয় বিশেষ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ সংশোধনের মাধ্যমে ই-সিগারেটকে ‘সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা’র পরিবর্তে একটি ‘নিয়ন্ত্রিত বিপণন’ কাঠামোর আওতায় আনা হচ্ছে।

 

 

সূত্র মতে, সংসদীয় কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে একটি নতুন খসড়া তৈরি করছে, যেখানে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ সংক্রান্ত পূর্বের কঠোর বিধানগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে। এই খসড়াটি দ্রুতই লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগে পাঠানো হবে। এর ফলে ই-সিগারেট এখন অবৈধ পণ্য থেকে বৈধ কিন্তু নিয়ন্ত্রিত পণ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছে। সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন (বেন্ডস্টা)।

 

 

বেন্ডস্টা গত মাসে এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, বিশ্বব্যাপী ই-সিগারেট বা ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ইএনডিএস) এখন ‘তামাক ক্ষতি হ্রাস’ (Tobacco Harm Reduction) পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃত।

 

 

তারা যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) এবং ৪ জুলাই ২০২৫-এ প্রকাশিত ‘স্মোকিং অ্যান্ড টোবাকো: অ্যাপ্লাইং অল আওয়ার হেলথ’ শীর্ষক নির্দেশিকার উদাহরণ টেনে বলেন, ধূমপান ছাড়ার ক্ষেত্রে ই-সিগারেট সাধারণ নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপির চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ কার্যকর। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, এটি ধূমপায়ীদের ক্ষতিকর দহনযোগ্য তামাক থেকে দূরে সরাতে সাহায্য করে।

 

 

বেন্ডস্টার সভাপতি সুমন জামান এই সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত আখ্যা দিয়ে বলেন, “নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তরুণদের মধ্যে ই-সিগারেটের ব্যবহার বন্ধ হয়নি, বরং অবৈধ পথে নিম্নমানের পণ্য দেশে আসছে। এতে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে এবং কালোবাজারি বাড়ছে।” তিনি আরও জানান যে, যথাযথ বয়স যাচাই, লাইসেন্সভিত্তিক বিক্রয়, এবং বিজ্ঞাপনে কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপের মাধ্যমেই তরুণদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব।

 

সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বাজারকে অদৃশ্য করে দেয়, যেখানে কোনো তদারকি থাকে না। ফলে নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর মাধ্যমেই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের এই পণ্য থেকে দূরে রাখা অধিক কার্যকর ও টেকসই পথ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।