সংগৃহীত ছবি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নাজিমুদ্দিন (২৮) নামে এক যুবক প্রাণ হারিয়েছেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের বুড়িশ্বর বাজার সংলগ্ন নাসিরনগর-সরাইল-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত নাজিমুদ্দিন বুড়িশ্বর গ্রামের বাসিন্দা আবদুল আউয়ালের ছেলে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় ও এলাকা সূত্রে জানা গেছে, বুড়িশ্বর গ্রামের নয়াবাড়ির ফজলু হক এবং ডায়লাবাড়ির আবদুল আউয়ালের পরিবারের মধ্যে একটি জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধ নিষ্পত্তিতে গত আগস্ট মাসে আবদুল আউয়ালের পক্ষ থেকে আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। শুক্রবার সকালে ফজলু হকের পক্ষের লোকজন দাবি তোলেন, মামলায় বিরোধপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা পুকুরটিতে তাদেরও স্বত্ব ও জায়গা রয়েছে। এ দাবিকে কেন্দ্র করে সকালে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে প্রথমে তীব্র তর্কাতর্কি শুরু হয়।
তর্কাতর্কির একপর্যায়ে দুপুরের দিকে উভয় পক্ষের শত শত লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, টেঁটা ও বল্লম নিয়ে নাসিরনগর-সরাইল-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা। সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষের ছোঁড়া টেঁটা সরাসরি নাজিমুদ্দিনের মাথায় বিদ্ধ হয় এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থান স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সংঘর্ষে আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। নিহতের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে নাসিরনগর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বুড়িশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমিন জানান, জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পরিবারের মধ্যে অসন্তোষ চলছিল, যা শেষ পর্যন্ত এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে রূপ নিল। নাসিরনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাহান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়েছে। মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।














