ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার থেকে ফিরল মানবপাচারের শিকার অভিবাসীরা

লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন আরও ১৭৪ বাংলাদেশি

সংগৃহীত ছবি

 

লিবিয়ার তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর অবশেষে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরেছেন ১৭৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সার্বিক সহায়তায় মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা ৪৭ মিনিটে ‘বুরাক এয়ার’-এর একটি বিশেষ ফ্লাইটে তাঁরা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করেন। লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যৌথ কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

 

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফেরত আসা এসব অভিবাসীদের বড় একটি অংশ সমুদ্রপথে অবৈধ উপায়ে ইউরোপে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারী চক্রের প্ররোচনা ও সহায়তায় লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করেছিলেন। পরবর্তীকালে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার সময় তাঁরা বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হন এবং তাঁদের ঠাঁই হয় দেশটির তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে। আটক থাকা অবস্থায় তাঁদের অনেকেই লিবিয়ার বিভিন্ন এলাকায় নানা সময়ে অপহৃত হওয়া এবং চরম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন।

 

 

শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রত্যাবাসিত এসব নাগরিকদের অভ্যর্থনা জানান। সমুদ্রপথে অবৈধ অভিবাসনের ভয়াবহ ঝুঁকি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পরারাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এসব ফিরে আসা ব্যক্তিদের নিজেদের তিক্ত ও দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা সবার সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়।

 

 

এদিকে, দেশে ফেরা অভিবাসীদের পুনরেকত্রীকরণের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) পক্ষ থেকে প্রত্যেককে জরুরি পথখরচা, প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা এবং সাময়িক অবস্থানের জন্য অস্থায়ী বাসস্থানের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লিবিয়ার অন্যান্য ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে আটকে থাকা বাকি বাংলাদেশি নাগরিকদেরও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ দূতাবাস ও আইওএম যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার থেকে ফিরল মানবপাচারের শিকার অভিবাসীরা

লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন আরও ১৭৪ বাংলাদেশি

Update Time : ০৮:০৩:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

লিবিয়ার তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর অবশেষে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরেছেন ১৭৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সার্বিক সহায়তায় মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা ৪৭ মিনিটে ‘বুরাক এয়ার’-এর একটি বিশেষ ফ্লাইটে তাঁরা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করেন। লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যৌথ কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

 

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফেরত আসা এসব অভিবাসীদের বড় একটি অংশ সমুদ্রপথে অবৈধ উপায়ে ইউরোপে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারী চক্রের প্ররোচনা ও সহায়তায় লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করেছিলেন। পরবর্তীকালে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার সময় তাঁরা বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হন এবং তাঁদের ঠাঁই হয় দেশটির তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে। আটক থাকা অবস্থায় তাঁদের অনেকেই লিবিয়ার বিভিন্ন এলাকায় নানা সময়ে অপহৃত হওয়া এবং চরম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন।

 

 

শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রত্যাবাসিত এসব নাগরিকদের অভ্যর্থনা জানান। সমুদ্রপথে অবৈধ অভিবাসনের ভয়াবহ ঝুঁকি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পরারাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এসব ফিরে আসা ব্যক্তিদের নিজেদের তিক্ত ও দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা সবার সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়।

 

 

এদিকে, দেশে ফেরা অভিবাসীদের পুনরেকত্রীকরণের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) পক্ষ থেকে প্রত্যেককে জরুরি পথখরচা, প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা এবং সাময়িক অবস্থানের জন্য অস্থায়ী বাসস্থানের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লিবিয়ার অন্যান্য ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে আটকে থাকা বাকি বাংলাদেশি নাগরিকদেরও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ দূতাবাস ও আইওএম যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।