ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্যাকটেরিয়া নয়, রাসায়নিক রূপান্তরেই রঙ বদলের ইঙ্গিত

কড়াইয়েই গরুর মাংস সবুজ, মিলল বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

সংগৃহীত ছবি

 

রান্নার কড়াইয়ে দেওয়ার মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে লাল গরুর মাংস উজ্জ্বল সবুজ রঙের হয়ে যাওয়ার পর খুলনার পাইকগাছায় যে তীব্র রহস্য ও তোলপাড় তৈরি হয়েছিল, তার বৈজ্ঞানিক জট অবশেষে খুলতে শুরু করেছে। নমুনা পরীক্ষার পর বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) জানিয়েছে, ওই মাংসে কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক কিংবা রং উৎপাদনকারী ব্যাকটেরিয়ার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

 

 

বিএফএসএর প্রধান কার্যালয়ের পরীক্ষাগারে নমুনা বিশ্লেষণের পর গত ২৭ আগস্ট সংস্থার খাদ্য বিশ্লেষক নাজিয়া সুলতানা স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাংসে পচনের কোনো দুর্গন্ধ বা আঠালো ভাবও ছিল না। ফ্রিজে দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের পর উচ্চ তাপমাত্রায় রান্নার সময় মাংসের ভেতরের ‘মায়োগ্লোবিন’ বা হিম-রঞ্জক পদার্থের প্রাকৃতিক গাঠনিক রূপান্তর ঘটতে পারে। এই রাসায়নিক পরিবর্তনের কারণেই মাংসের লাল রং হঠাৎ অস্বাভাবিক সবুজ আকৃতি ধারণ করেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

 

ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল গত ২২ জুলাই সকালে। পাইকগাছা পৌর মাংস বাজারের ব্যবসায়ী ইসমাইল কসাইয়ের কাছ থেকে স্থানীয় মডার্ন বেকারির কর্মচারীরা পিকনিকের জন্য ৩ কেজি ৯০০ গ্রাম গরুর মাংস কেনেন। তবে কড়াইয়ে মাংস তোলার মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে পুরো কড়াইয়ের মাংস সবুজ রঙে রূপ নেয় এবং ধোয়ার পানি কালচে হয়ে যায় বলে অভিযোগ তোলেন তারা। আতঙ্কিত কর্মচারীরা বিষয়টি নিয়ে সরাসরি পাইকগাছা থানায় যান। পরবর্তীতে স্থানীয় বাজারে নিম্নমানের মাংস বা ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহারের গুজব ছড়িয়ে পড়লে জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয়।

 

 

যদিও বিক্রেতা ইসমাইল কসাই শুরু থেকেই দাবি করে আসছিলেন যে, একই পশুর মাংস সেদিন অন্য আরও অনেক ক্রেতার কাছে বিক্রি করা হয়েছিল এবং কারও কাছ থেকে কোনো অভিযোগ আসেনি। তিনি কোনো কেমিক্যাল ব্যবহারের কথাও অস্বীকার করেন। অবশেষে বিএফএসএ খুলনা কার্যালয়ের সংগৃহীত নমুনার ল্যাব রিপোর্ট আসার পর ক্ষতিকর জীবাণু বা ভেজালের গুজব উবে গেছে এবং ঘটনাটির পেছনে থাকা প্রাকৃতিক-রাসায়নিক কারণটি স্পষ্ট হয়েছে।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্যাকটেরিয়া নয়, রাসায়নিক রূপান্তরেই রঙ বদলের ইঙ্গিত

কড়াইয়েই গরুর মাংস সবুজ, মিলল বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

Update Time : ০৯:৩২:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

রান্নার কড়াইয়ে দেওয়ার মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে লাল গরুর মাংস উজ্জ্বল সবুজ রঙের হয়ে যাওয়ার পর খুলনার পাইকগাছায় যে তীব্র রহস্য ও তোলপাড় তৈরি হয়েছিল, তার বৈজ্ঞানিক জট অবশেষে খুলতে শুরু করেছে। নমুনা পরীক্ষার পর বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) জানিয়েছে, ওই মাংসে কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক কিংবা রং উৎপাদনকারী ব্যাকটেরিয়ার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

 

 

বিএফএসএর প্রধান কার্যালয়ের পরীক্ষাগারে নমুনা বিশ্লেষণের পর গত ২৭ আগস্ট সংস্থার খাদ্য বিশ্লেষক নাজিয়া সুলতানা স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাংসে পচনের কোনো দুর্গন্ধ বা আঠালো ভাবও ছিল না। ফ্রিজে দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের পর উচ্চ তাপমাত্রায় রান্নার সময় মাংসের ভেতরের ‘মায়োগ্লোবিন’ বা হিম-রঞ্জক পদার্থের প্রাকৃতিক গাঠনিক রূপান্তর ঘটতে পারে। এই রাসায়নিক পরিবর্তনের কারণেই মাংসের লাল রং হঠাৎ অস্বাভাবিক সবুজ আকৃতি ধারণ করেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

 

ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল গত ২২ জুলাই সকালে। পাইকগাছা পৌর মাংস বাজারের ব্যবসায়ী ইসমাইল কসাইয়ের কাছ থেকে স্থানীয় মডার্ন বেকারির কর্মচারীরা পিকনিকের জন্য ৩ কেজি ৯০০ গ্রাম গরুর মাংস কেনেন। তবে কড়াইয়ে মাংস তোলার মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে পুরো কড়াইয়ের মাংস সবুজ রঙে রূপ নেয় এবং ধোয়ার পানি কালচে হয়ে যায় বলে অভিযোগ তোলেন তারা। আতঙ্কিত কর্মচারীরা বিষয়টি নিয়ে সরাসরি পাইকগাছা থানায় যান। পরবর্তীতে স্থানীয় বাজারে নিম্নমানের মাংস বা ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহারের গুজব ছড়িয়ে পড়লে জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয়।

 

 

যদিও বিক্রেতা ইসমাইল কসাই শুরু থেকেই দাবি করে আসছিলেন যে, একই পশুর মাংস সেদিন অন্য আরও অনেক ক্রেতার কাছে বিক্রি করা হয়েছিল এবং কারও কাছ থেকে কোনো অভিযোগ আসেনি। তিনি কোনো কেমিক্যাল ব্যবহারের কথাও অস্বীকার করেন। অবশেষে বিএফএসএ খুলনা কার্যালয়ের সংগৃহীত নমুনার ল্যাব রিপোর্ট আসার পর ক্ষতিকর জীবাণু বা ভেজালের গুজব উবে গেছে এবং ঘটনাটির পেছনে থাকা প্রাকৃতিক-রাসায়নিক কারণটি স্পষ্ট হয়েছে।