লাইলী আক্তার। ছবি : সংগৃহীত
অনৈতিক সম্পর্ক দেখে ফেলায় ২০২১ সালে এক শিশুকে নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় সাড়ে চার বছর কারাভোগ করে মাসখানেক আগে জামিনে মুক্ত হন লাইলী আক্তার। তবে জামিনে বের হয়েই ফের এক রোমহর্ষক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়ালেন তিনি। কুমিল্লার দেবীদ্বারে ভাড়া বাসা নেওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় গৃহকর্ত্রী ফরিদা ইয়াসমিনকে (৫০) কুপিয়ে হত্যা করে লাশ ১৩ টুকরো করে পলিথিনে মুড়ে গুম করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
শনিবার (৮ আগস্ট) ও রবিবার (৯ আগস্ট) দুই দফায় দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর গ্রাম থেকে পলিথিনে মোড়ানো গৃহকর্ত্রী ফরিদা ইয়াসমিনের ১৩ খণ্ড লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত লাইলী আক্তারকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করার পর ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটিত হতে শুরু করে।
নিহত ফরিদা ইয়াসমিনের স্বামী মফিজুল ইসলাম জাহাজে চাকরি করেন এবং দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় তিনি বাড়িতে একা থাকতেন। গত ১ আগস্ট বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নেন লাইলী। অভিযোগ রয়েছে, গত শুক্রবার রাতে ফরিদা ইয়াসমিন ঘরে একা থাকার সুযোগে লাইলী তার সহযোগী আমির হোসেন, সোহেল রানা ও রবিউল ইসলামকে ডেকে আনে। তারা ঘরে ঢুকে ফরিদাকে কুপিয়ে হত্যা করার পর লাশ ১৩ টুকরো করে পলিথিন ব্যাগে মুড়ে বাড়ির পেছনে ও ডোবায় ফেলে দেয়। এরপর ঘর থেকে ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও ৭ লাখ টাকা লুট করে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করে ঘাতকরা।
শনিবার সকাল থেকে মা ফরিদা ইয়াসমিনের ফোন বন্ধ পেয়ে স্বজনেরা বাড়িতে এসে লাইলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার কথাবার্তায় চরম অসংগতি দেখা দেয় এবং বারান্দা ধোয়ামোছা করতে দেখে তাদের সন্দেহ বাড়ে। পরবর্তীতে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির পেছনে পলিথিনে মোড়ানো খণ্ড-বিখণ্ড লাশ দেখতে পেয়ে লাইলীকে আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১৪ নভেম্বর অনৈতিক সম্পর্কের ঘটনা দেখে ফেলায় নিজ প্রেমিক আমির হোসেনের শিশু কন্যাসন্তান ফাহিমাকে গলা কেটে হত্যা করে খালে পুঁতে রেখেছিল এই লাইলী। সেই মামলায় চার বছরের বেশি সময় কারাগারে থেকে মাত্র এক মাস আগে জামিনে বের হয় সে।
এ নিয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান এবং সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. শাহীন জানান, নিহত ফরিদা ইয়াসমিনের স্বামী বাদী হয়ে ৪ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লাইলী হত্যার দায় স্বীকার করেছে। মূলত টাকা ও স্বর্ণালংকারের লোভেই এমন নৃশংসতা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।














