সংগৃহীত ছবি
স্প্যানিশ ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনা মানেই রোমাঞ্চ আর মাঠের বাইরের অন্তহীন আলোচনা। তবে এবারের আলোচনার কেন্দ্রে কোনো ম্যাচ নয়, বরং ক্লাবটির ভবিষ্যতের আক্রমণভাগ নিয়ে তৈরি হয়েছে এক বিশাল ধোঁয়াশা।
কাতালান ক্লাবটির অন্দরে এখন একটাই প্রশ্ন—ভবিষ্যতের কাণ্ডারি হিসেবে তারা কি নরওয়েজিয়ান গোলমেশিন আর্লিং হালান্ডকে দলে ভেড়াবে, নাকি ঘরের ছেলে লামিনে ইয়ামালের ওপরই অটল আস্থা রাখবে? এই দুই মহাতারকাকে ঘিরে বার্সার ট্রান্সফার রাজনীতি এখন উত্তাল।
বার্সেলোনার আক্রমণভাগের ধার বাড়াতে আর্লিং হালান্ডকে আদর্শ মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে গোলবন্যার জোয়ার বইয়ে দেওয়া এই স্ট্রাইকারকে ন্যু ক্যাম্পে আনা সভাপতি হোয়ান লাপোর্তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। তবে স্বপ্ন আর বাস্তবতার মাঝে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বিশাল অঙ্কের ট্রান্সফার ফি এবং আকাশচুম্বী বেতন।
ক্লাবের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিতে ডেকোর মতো কর্মকর্তাদের কাছে হালান্ডকে পাওয়া অনেকটা ‘অসম্ভব মিশন’ বলে মনে হলেও, ইউরোপীয় ফুটবলের পরিবর্তিত পরিস্থিতি নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে চলমান আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে ক্লাবটি বড় শাস্তির মুখে পড়তে পারে, এমনকি প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমন হওয়াও অসম্ভব নয়। এর সঙ্গে পেপ গার্দিওলার সম্ভাব্য বিদায়ঘণ্টা হালান্ডকে ক্লাব ছাড়তে প্ররোচিত করতে পারে, যার সুযোগ নিতে ওত পেতে আছে বার্সা।
তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। হালান্ডকে আনার এই তোড়জোড় পরোক্ষভাবে প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে তরুণ তুর্কি লামিনে ইয়ামালের ভবিষ্যৎ নিয়ে। এক সময় বার্সা কর্তৃপক্ষ ভেবেছিল, লিওনেল মেসির যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে ইয়ামালই হবে ক্লাবের পোস্টার বয়। গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে তার জাদুকরী পারফরম্যান্স সেই ধারণাকে আরও পোক্ত করেছিল।
কিন্তু চলতি মৌসুমে ইয়ামালের ফর্ম এবং ধারাবাহিকতা নিয়ে ক্লাবের ভেতরেই কিছুটা সংশয় তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, ইয়ামাল কি পারবেন একক কাঁধে বার্সার আক্রমণভাগের ভার বইতে? নাকি একজন অভিজ্ঞ এবং বিধ্বংসী স্ট্রাইকারের ছায়াতলে তাকে বিকশিত হওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত?
বার্সেলোনার নীতিনির্ধারকরা এখন এক কঠিন দোরাচলের সামনে দাঁড়িয়ে। একদিকে হালান্ডের মতো পরীক্ষিত গোলদাতা, যাকে দলে নিতে বিশাল ঋণের ঝুঁকি নিতে হতে পারে; অন্যদিকে ইয়ামাল, যার মধ্যে রয়েছে ক্লাবের ডিএনএ কিন্তু অভিজ্ঞতার অভাব স্পষ্ট। ভবিষ্যতের জন্য বার্সা কি নতুন কোনো গ্লোবাল সুপারস্টারের দিকে ঝুঁকবে, নাকি নিজেদের লা মাসিয়া থেকে উঠে আসা প্রতিভার ওপর বাজি ধরবে—এই সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে আগামী এক দশকে বার্সেলোনার সাফল্যের মানচিত্র।

ক্রীড়া ডেস্ক 























