ঢাকা , শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সাতটি ধারায় অপরাধ প্রমাণ, দুই মৃত ব্যক্তিসহ চারজনকে অব্যাহতির সুপারিশ

বেইলি রোড ট্র্যাজেডি: ৪৬ জনের মৃত্যুতে ২২ রেস্টুরেন্ট মালিকের বিরুদ্ধে চার্জশিট

২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ১০টার দিকে গ্রীন কোজি কটেজ সাততলা ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

 

রাজধানীর বেইলি রোডের ‘গ্রীন কোজি কটেজ’ ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় ২২ জন রেস্টুরেন্ট স্বত্বাধিকারীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

 

 

দীর্ঘ তদন্ত শেষে আজ বৃহস্পতিবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক শাহ জালাল মুন্সী ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই প্রতিবেদন জমা দেন।

 

 

অভিযোগপত্রে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির (পেনাল কোড) সাতটি পৃথক ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন ‘চায়ের চুমুক’ কফিশপের স্বত্বাধিকারী আনোয়ারুল হক, আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের স্বত্বাধিকারী মো. রমজানুল হক নিহাদ ও ম্যানেজার মুন্সি হামিমুল আলম বিপুল। এ ছাড়া ‘কাচ্চি ভাই’, ‘খানাজ’ ও ‘তাওয়াজ’ রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মো. সোহেল সিরাজ, জেস্টি রেস্টুরেন্টের মোহর আলী পলাশ, ফুকো রেস্টুরেন্টের আব্দুল্লাহ আল মতিনসহ বিভিন্ন ফ্লোরের রেস্টুরেন্ট মালিক ও ম্যানেজারদের আসামি করা হয়েছে।

 

 

 

সিআইডি সূত্র জানায়, ভবনের নকশা বহির্ভূত ব্যবহার এবং অগ্নি নিরাপত্তার চরম অবহেলার কারণেই এই প্রাণহানি ঘটেছে। তবে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলেও মৃত্যুবরণ করায় স্পেস মালিক এ কে নাসিম হায়দার ও ক্যাপ্টেন সরদার মো. মিজানুর রহমানকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রেফতার হওয়া মো. আনোয়ার হোসেন সুমন এবং শফিকুর রহমান রিমনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় তাদেরও মামলার দায় থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে তদন্তকারী সংস্থা।

 

 

 

২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ১০টার দিকে বেইলি রোডের ওই সাততলা ভবনে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়লে ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে এবং পুড়ে নারী-শিশুসহ ৪৬ জন প্রাণ হারান। ঘটনার পর রমনা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন উপপরিদর্শক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম। পরবর্তীতে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। সিআইডির এই অভিযোগপত্র দাখিলের মাধ্যমে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিচারিক প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালো।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মহামারিতে রূপ নিতে পারে হাম: জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন এক অশনিসংকেত

সাতটি ধারায় অপরাধ প্রমাণ, দুই মৃত ব্যক্তিসহ চারজনকে অব্যাহতির সুপারিশ

বেইলি রোড ট্র্যাজেডি: ৪৬ জনের মৃত্যুতে ২২ রেস্টুরেন্ট মালিকের বিরুদ্ধে চার্জশিট

Update Time : ০৭:৩১:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ১০টার দিকে গ্রীন কোজি কটেজ সাততলা ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

 

রাজধানীর বেইলি রোডের ‘গ্রীন কোজি কটেজ’ ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় ২২ জন রেস্টুরেন্ট স্বত্বাধিকারীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

 

 

দীর্ঘ তদন্ত শেষে আজ বৃহস্পতিবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক শাহ জালাল মুন্সী ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই প্রতিবেদন জমা দেন।

 

 

অভিযোগপত্রে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির (পেনাল কোড) সাতটি পৃথক ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন ‘চায়ের চুমুক’ কফিশপের স্বত্বাধিকারী আনোয়ারুল হক, আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের স্বত্বাধিকারী মো. রমজানুল হক নিহাদ ও ম্যানেজার মুন্সি হামিমুল আলম বিপুল। এ ছাড়া ‘কাচ্চি ভাই’, ‘খানাজ’ ও ‘তাওয়াজ’ রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মো. সোহেল সিরাজ, জেস্টি রেস্টুরেন্টের মোহর আলী পলাশ, ফুকো রেস্টুরেন্টের আব্দুল্লাহ আল মতিনসহ বিভিন্ন ফ্লোরের রেস্টুরেন্ট মালিক ও ম্যানেজারদের আসামি করা হয়েছে।

 

 

 

সিআইডি সূত্র জানায়, ভবনের নকশা বহির্ভূত ব্যবহার এবং অগ্নি নিরাপত্তার চরম অবহেলার কারণেই এই প্রাণহানি ঘটেছে। তবে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলেও মৃত্যুবরণ করায় স্পেস মালিক এ কে নাসিম হায়দার ও ক্যাপ্টেন সরদার মো. মিজানুর রহমানকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রেফতার হওয়া মো. আনোয়ার হোসেন সুমন এবং শফিকুর রহমান রিমনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় তাদেরও মামলার দায় থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে তদন্তকারী সংস্থা।

 

 

 

২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ১০টার দিকে বেইলি রোডের ওই সাততলা ভবনে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়লে ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে এবং পুড়ে নারী-শিশুসহ ৪৬ জন প্রাণ হারান। ঘটনার পর রমনা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন উপপরিদর্শক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম। পরবর্তীতে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। সিআইডির এই অভিযোগপত্র দাখিলের মাধ্যমে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিচারিক প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালো।