ঢাকা , বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
অবৈধ যুদ্ধের চূড়ান্ত অবসান চান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ইরান, সংঘাত অব্যাহত

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরায়েলের রামাত গান শহরে একটি ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে কাজ করছেন জরুরি কর্মীরা । ছবি – রয়টার্স

 

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত মরুভূমিতে বারুদের গন্ধ আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত আক্রমণের মুখে যুদ্ধের ৩৬তম দিনে দাঁড়িয়েও একচুল নতিস্বীকার করেনি ইরান।

 

বরং সম্প্রতি তিনটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ও একটি অত্যাধুনিক ড্রোন ভূপাতিত করার পর ওয়াশিংটনের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের স্পষ্ট বার্তা—সাময়িক কোনো বিরতি নয়, বরং চাপিয়ে দেওয়া এই ‘অবৈধ যুদ্ধের’ একটি চূড়ান্ত ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধান চায় তারা।

 

 

শনিবার (৪ এপ্রিল) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির এই অনমনীয় অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে। আরাগচি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান এমন একটি চুক্তি নিশ্চিত করতে চায় যা দেশটির সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধের অবসান ঘটাবে।

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি মার্কিন গণমাধ্যমের সমালোচনা করে বলেন, ইরানের অবস্থানকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তেহরান কেবল সাময়িক স্বস্তি নয়, বরং স্থিতিশীল শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

 

 

যুদ্ধের ময়দানে গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মার্কিন বাহিনীর ওপর ব্যাপক বিপর্যয় নেমে আসে। ইরানের আকাশসীমা ও সামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়ে তিনটি মার্কিন যুদ্ধবিমান এবং একটি হাই-টেক ড্রোন ধ্বংস করা হয়। এই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির পরপরই নড়েচড়ে বসে বাইডেন প্রশাসন।

 

 

আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, পরিস্থিতি সামাল দিতেই ওয়াশিংটন তেহরানকে ৪৮ ঘণ্টার জন্য অস্ত্রবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু ইরান সেই প্রস্তাবকে কৌশলগত চাল হিসেবে অভিহিত করে তা নাকচ করে দেয়।

 

 

এদিকে আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের সমর্থন ও ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন আরাগচি। ইসলামাবাদ সফর নিয়ে ছড়ানো গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “ইসলামাবাদ সফর প্রত্যাখ্যান করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।” পাকিস্তানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি মুসলিম দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের ওপর জোর দেন।

 

 

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের ওপর সশস্ত্র হামলা শুরু করে। এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো এবং ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে একের পর এক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।

 

 

যুদ্ধের ডামাডোলে ইরান বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে নজিরবিহীন অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্বনেতারা উৎকণ্ঠা প্রকাশ করলেও ইরান নিজের অবস্থানে অটল থেকে ‘চূড়ান্ত ফয়সালা’র অপেক্ষায় রয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

জন্মদিনে ‘পশু’ অবতারে আল্লু অর্জুন: হায়দরাবাদে তুলকালাম

অবৈধ যুদ্ধের চূড়ান্ত অবসান চান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ইরান, সংঘাত অব্যাহত

Update Time : ০৬:৪৭:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরায়েলের রামাত গান শহরে একটি ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে কাজ করছেন জরুরি কর্মীরা । ছবি – রয়টার্স

 

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত মরুভূমিতে বারুদের গন্ধ আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত আক্রমণের মুখে যুদ্ধের ৩৬তম দিনে দাঁড়িয়েও একচুল নতিস্বীকার করেনি ইরান।

 

বরং সম্প্রতি তিনটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ও একটি অত্যাধুনিক ড্রোন ভূপাতিত করার পর ওয়াশিংটনের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের স্পষ্ট বার্তা—সাময়িক কোনো বিরতি নয়, বরং চাপিয়ে দেওয়া এই ‘অবৈধ যুদ্ধের’ একটি চূড়ান্ত ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধান চায় তারা।

 

 

শনিবার (৪ এপ্রিল) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির এই অনমনীয় অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে। আরাগচি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান এমন একটি চুক্তি নিশ্চিত করতে চায় যা দেশটির সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধের অবসান ঘটাবে।

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি মার্কিন গণমাধ্যমের সমালোচনা করে বলেন, ইরানের অবস্থানকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তেহরান কেবল সাময়িক স্বস্তি নয়, বরং স্থিতিশীল শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

 

 

যুদ্ধের ময়দানে গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মার্কিন বাহিনীর ওপর ব্যাপক বিপর্যয় নেমে আসে। ইরানের আকাশসীমা ও সামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়ে তিনটি মার্কিন যুদ্ধবিমান এবং একটি হাই-টেক ড্রোন ধ্বংস করা হয়। এই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির পরপরই নড়েচড়ে বসে বাইডেন প্রশাসন।

 

 

আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, পরিস্থিতি সামাল দিতেই ওয়াশিংটন তেহরানকে ৪৮ ঘণ্টার জন্য অস্ত্রবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু ইরান সেই প্রস্তাবকে কৌশলগত চাল হিসেবে অভিহিত করে তা নাকচ করে দেয়।

 

 

এদিকে আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের সমর্থন ও ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন আরাগচি। ইসলামাবাদ সফর নিয়ে ছড়ানো গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “ইসলামাবাদ সফর প্রত্যাখ্যান করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।” পাকিস্তানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি মুসলিম দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের ওপর জোর দেন।

 

 

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের ওপর সশস্ত্র হামলা শুরু করে। এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো এবং ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে একের পর এক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।

 

 

যুদ্ধের ডামাডোলে ইরান বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে নজিরবিহীন অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্বনেতারা উৎকণ্ঠা প্রকাশ করলেও ইরান নিজের অবস্থানে অটল থেকে ‘চূড়ান্ত ফয়সালা’র অপেক্ষায় রয়েছে।