ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে চার নভোচারীর ঐতিহাসিক মহাকাশযাত্রা; নতুন দিগন্তে বিজ্ঞান

৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানবজাতি: আর্টেমিস-২ এর সফল যাত্রা

ছবি : সংগৃহীত

 

মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক স্বর্ণাক্ষরে লেখা অধ্যায়ের সূচনা হলো আজ। দীর্ঘ ৫৪ বছরের বিরতি ভেঙে আবারও চাঁদের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমাল মানুষ। বুধবার (১ এপ্রিল) ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে নাসার বিশালাকার এবং বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী রকেটে চড়ে মহাকাশে যাত্রা শুরু করেছেন চার অভিজ্ঞ নভোচারী।আর্টেমিসমিশনের এই ঐতিহাসিক উৎক্ষেপণ কেবল নাসার জন্য নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য এক নতুন যুগের দ্বার উন্মোচন করল।

 

স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে চার নভোচারীকে নিয়ে আকাশ কাঁপিয়ে এবং মেঘের বুক চিরে সগৌরবে উপরে উঠে যায় কমলাসাদা রঙের শক্তিশালী এসএলএস (SLS) রকেটটি। এই বিশেষ অভিযাত্রী দলে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের রিড উইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কক এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন। বহু বছরের অপেক্ষা, অগুনতি কারিগরি জটিলতা আর বিশাল বাজেটের চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত সফলভাবে উৎক্ষেপিত হলো আর্টেমিস২। রকেটটি পৃথিবী ছাড়ার সাথে সাথেই কন্ট্রোল রুমে থাকা নাসার বিজ্ঞানী ও উপস্থিত হাজারো দর্শনার্থী বাঁধভাঙা উল্লাসে ফেটে পড়েন।

 

যাত্রার আগ মুহূর্তে এক সংক্ষিপ্ত কিন্তু আবেগঘন বক্তব্যে কানাডীয় নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন এই অভিযানের গভীর তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমরা কেবল নিজেদের ব্যক্তিগত স্বপ্নের পেছনে ছুটছি না, আমরা সমগ্র মানবজাতির প্রতিনিধি হয়ে চাঁদে যাচ্ছি। এটি আমাদের সম্মিলিত সাহসের প্রতিফলন।উৎক্ষেপণের চূড়ান্ত ক্ষণে লঞ্চ ডিরেক্টর চার্লি ব্ল্যাকওয়েলথম্পসন নভোচারীদের উদ্দেশে বেতার বার্তায় বলেন, “রিড, ভিক্টর, ক্রিস্টিনা এবং জেরেমিআপনারা এই অভিযানে কয়েক প্রজন্মের স্বপ্ন ও বিশ্বের অগণিত মানুষের শুভকামনা বহন করছেন। আপনাদের যাত্রা সফল হোক, এগিয়ে চলুক আর্টেমিস২।

 

আর্টেমিস২ মূলত একটি অত্যন্ত জটিল পরীক্ষামূলক মিশন। এই মহাকাশযানটি এর আগে কখনো মানুষ বহন না করায় প্রাথমিক ধাপে এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জীবনদায়ী প্রযুক্তির নির্ভরযোগ্যতা খুঁটিয়ে দেখবেন নভোচারীরা। প্রায় ১০ দিনের এই রোমাঞ্চকর মিশনে তারা চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করবেন এবং পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে গভীর মহাকাশে মানুষের টিকে থাকার সক্ষমতা যাচাই করবেন। তবে এই পর্যায়ে তারা চাঁদের মাটিতে সরাসরি অবতরণ করবেন না।

 

অভিযান চলাকালে মহাকাশযানটির ম্যানুয়াল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং ডকিং সিমুলেশনসহ বিভিন্ন কারিগরি সক্ষমতা যাচাই করা হবে। এই মিশনের প্রতিটি মুহূর্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বিজ্ঞানীরা। কারণ, আর্টেমিস২ এর সাফল্যের ওপরই সরাসরি নির্ভর করছে পরবর্তী মিশনআর্টেমিস’, যেখানে কয়েক দশকের ব্যবধানে আবারও চাঁদের মাটিতে সরাসরি মানুষের পা রাখার পথ প্রশস্ত হবে। এই মাহেন্দ্রক্ষণটি প্রমাণ করল যে, অজানাকে জানার নেশায় মানুষ কখনোই দমে যায় না।

 

সূত্র: আল জাজিরা

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের ভাষণের পরপরই ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি

কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে চার নভোচারীর ঐতিহাসিক মহাকাশযাত্রা; নতুন দিগন্তে বিজ্ঞান

৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানবজাতি: আর্টেমিস-২ এর সফল যাত্রা

Update Time : ১১:০০:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত

 

মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক স্বর্ণাক্ষরে লেখা অধ্যায়ের সূচনা হলো আজ। দীর্ঘ ৫৪ বছরের বিরতি ভেঙে আবারও চাঁদের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমাল মানুষ। বুধবার (১ এপ্রিল) ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে নাসার বিশালাকার এবং বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী রকেটে চড়ে মহাকাশে যাত্রা শুরু করেছেন চার অভিজ্ঞ নভোচারী।আর্টেমিসমিশনের এই ঐতিহাসিক উৎক্ষেপণ কেবল নাসার জন্য নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য এক নতুন যুগের দ্বার উন্মোচন করল।

 

স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে চার নভোচারীকে নিয়ে আকাশ কাঁপিয়ে এবং মেঘের বুক চিরে সগৌরবে উপরে উঠে যায় কমলাসাদা রঙের শক্তিশালী এসএলএস (SLS) রকেটটি। এই বিশেষ অভিযাত্রী দলে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের রিড উইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কক এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন। বহু বছরের অপেক্ষা, অগুনতি কারিগরি জটিলতা আর বিশাল বাজেটের চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত সফলভাবে উৎক্ষেপিত হলো আর্টেমিস২। রকেটটি পৃথিবী ছাড়ার সাথে সাথেই কন্ট্রোল রুমে থাকা নাসার বিজ্ঞানী ও উপস্থিত হাজারো দর্শনার্থী বাঁধভাঙা উল্লাসে ফেটে পড়েন।

 

যাত্রার আগ মুহূর্তে এক সংক্ষিপ্ত কিন্তু আবেগঘন বক্তব্যে কানাডীয় নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন এই অভিযানের গভীর তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমরা কেবল নিজেদের ব্যক্তিগত স্বপ্নের পেছনে ছুটছি না, আমরা সমগ্র মানবজাতির প্রতিনিধি হয়ে চাঁদে যাচ্ছি। এটি আমাদের সম্মিলিত সাহসের প্রতিফলন।উৎক্ষেপণের চূড়ান্ত ক্ষণে লঞ্চ ডিরেক্টর চার্লি ব্ল্যাকওয়েলথম্পসন নভোচারীদের উদ্দেশে বেতার বার্তায় বলেন, “রিড, ভিক্টর, ক্রিস্টিনা এবং জেরেমিআপনারা এই অভিযানে কয়েক প্রজন্মের স্বপ্ন ও বিশ্বের অগণিত মানুষের শুভকামনা বহন করছেন। আপনাদের যাত্রা সফল হোক, এগিয়ে চলুক আর্টেমিস২।

 

আর্টেমিস২ মূলত একটি অত্যন্ত জটিল পরীক্ষামূলক মিশন। এই মহাকাশযানটি এর আগে কখনো মানুষ বহন না করায় প্রাথমিক ধাপে এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জীবনদায়ী প্রযুক্তির নির্ভরযোগ্যতা খুঁটিয়ে দেখবেন নভোচারীরা। প্রায় ১০ দিনের এই রোমাঞ্চকর মিশনে তারা চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করবেন এবং পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে গভীর মহাকাশে মানুষের টিকে থাকার সক্ষমতা যাচাই করবেন। তবে এই পর্যায়ে তারা চাঁদের মাটিতে সরাসরি অবতরণ করবেন না।

 

অভিযান চলাকালে মহাকাশযানটির ম্যানুয়াল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং ডকিং সিমুলেশনসহ বিভিন্ন কারিগরি সক্ষমতা যাচাই করা হবে। এই মিশনের প্রতিটি মুহূর্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বিজ্ঞানীরা। কারণ, আর্টেমিস২ এর সাফল্যের ওপরই সরাসরি নির্ভর করছে পরবর্তী মিশনআর্টেমিস’, যেখানে কয়েক দশকের ব্যবধানে আবারও চাঁদের মাটিতে সরাসরি মানুষের পা রাখার পথ প্রশস্ত হবে। এই মাহেন্দ্রক্ষণটি প্রমাণ করল যে, অজানাকে জানার নেশায় মানুষ কখনোই দমে যায় না।

 

সূত্র: আল জাজিরা