ঢাকা , রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের সিদ্ধান্ত থেকে পিছুটান

স্কুলে ‘বৈজ্ঞানিক লাইফস্টাইল’ কর্মসূচি স্থগিত করল মাউশি

সংগৃহীত ছবি

 

দেশের সকল মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজে ‘বৈজ্ঞানিক লাইফস্টাইল ডেভেলপমেন্ট এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম’ চালুর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা স্থগিত করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল স্বাক্ষরিত এক জরুরি অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়।

 

মাউশির অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৫ মার্চ একটি স্মারকের মাধ্যমে অধিদপ্তরের আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে নতুন আদেশের মাধ্যমে পূর্বের সেই নির্দেশনাটি স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

 

এর আগে গত ৮ মার্চ প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশনায় ‘কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন’ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত একটি ম্যানুয়ালের ভিত্তিতে দেশের সব মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে এই কর্মসূচি পালিত হবে। এ লক্ষ্যে শিক্ষা বিভাগ ও কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়েছিল। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে একদিনের বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজনের কথা ছিল।

 

নির্দেশনা অনুযায়ী, স্কুল ও কলেজের প্রধানরা কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের প্রশিক্ষকদের সাথে সমন্বয় করে এই কর্মসূচি পালনের কথা ছিল। এমনকি প্রশিক্ষণের সুফল ধরে রাখতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে একটি ‘মনিটরিং পুল’ গঠনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল, যারা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অনুশীলন তদারকি করবে। মাউশি তখন স্পষ্ট করে জানিয়েছিল যে, নির্ধারিত ম্যানুয়ালের বাইরে অন্য কোনো কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা যাবে না এবং প্রতি বছর নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য এই প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা ছিল।

 

তবে কী কারণে হঠাৎ করে এই কার্যক্রম স্থগিত করা হলো, সে বিষয়ে শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, একটি নির্দিষ্ট বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া নিয়ে জনমনে বা শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে বিতর্কের সৃষ্টি হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মহামারিতে রূপ নিতে পারে হাম: জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন এক অশনিসংকেত

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের সিদ্ধান্ত থেকে পিছুটান

স্কুলে ‘বৈজ্ঞানিক লাইফস্টাইল’ কর্মসূচি স্থগিত করল মাউশি

Update Time : ০৬:১২:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

দেশের সকল মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজে ‘বৈজ্ঞানিক লাইফস্টাইল ডেভেলপমেন্ট এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম’ চালুর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা স্থগিত করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল স্বাক্ষরিত এক জরুরি অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়।

 

মাউশির অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৫ মার্চ একটি স্মারকের মাধ্যমে অধিদপ্তরের আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে নতুন আদেশের মাধ্যমে পূর্বের সেই নির্দেশনাটি স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

 

এর আগে গত ৮ মার্চ প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশনায় ‘কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন’ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত একটি ম্যানুয়ালের ভিত্তিতে দেশের সব মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে এই কর্মসূচি পালিত হবে। এ লক্ষ্যে শিক্ষা বিভাগ ও কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়েছিল। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে একদিনের বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজনের কথা ছিল।

 

নির্দেশনা অনুযায়ী, স্কুল ও কলেজের প্রধানরা কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের প্রশিক্ষকদের সাথে সমন্বয় করে এই কর্মসূচি পালনের কথা ছিল। এমনকি প্রশিক্ষণের সুফল ধরে রাখতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে একটি ‘মনিটরিং পুল’ গঠনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল, যারা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অনুশীলন তদারকি করবে। মাউশি তখন স্পষ্ট করে জানিয়েছিল যে, নির্ধারিত ম্যানুয়ালের বাইরে অন্য কোনো কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা যাবে না এবং প্রতি বছর নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য এই প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা ছিল।

 

তবে কী কারণে হঠাৎ করে এই কার্যক্রম স্থগিত করা হলো, সে বিষয়ে শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, একটি নির্দিষ্ট বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া নিয়ে জনমনে বা শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে বিতর্কের সৃষ্টি হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।