ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হত্যাচেষ্টা মামলায় ডিবি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন নাকচ

সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন রিমান্ড ও জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে প্রেরণ

রাজধানীর লালবাগ থানায় দায়েরকৃত একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল, ২০২৬) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা শুনানি শেষে তার রিমান্ড ও জামিন—উভয় আবেদনই নামঞ্জুর করে এই আদেশ প্রদান করেন।

 

 

এর আগে, সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ রোডের নিজ বাসভবন থেকে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আটকের পর তাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পরবর্তীতে লালবাগ থানায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

 

 

মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে দুই দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের লালবাগ জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহসীন উদ্দীন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তার জামিন চেয়ে আবেদন করেন। আদালত উভয় পক্ষের যুক্তি তর্ক শুনানি শেষে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন।

 

 

আদালতে পুলিশের দাবি ও মামলার প্রেক্ষাপট:

 

 

পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে জমা দেওয়া রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শেখ হাসিনা ও সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ অন্যান্য আসামিরা বিগত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রধান কুশিলব ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আবেদনে আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী মামলার ঘটনা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন। তাই মামলার রহস্য উদঘাটন এবং পলাতক অন্যান্য আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করার জন্য তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন ছিল।

 

 

আদালতে প্রসিকিউশন পক্ষ দাবি করে যে, ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী জামিনে মুক্তি পেলে মামলার তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে পারেন কিংবা স্থায়ীভাবে আত্মগোপনে চলে যেতে পারেন। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে তার বয়সের বিষয় এবং শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে জামিনের প্রার্থনা করেন। আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে কোনো আবেদনই মঞ্জুর না করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে এই হত্যাচেষ্টা মামলাটি অন্যতম।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপ স্বপ্নে নেইমারের শেষ বাজি, পুনরায় অস্ত্রোপচার

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হত্যাচেষ্টা মামলায় ডিবি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন নাকচ

সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন রিমান্ড ও জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে প্রেরণ

Update Time : ০৪:৩৩:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

রাজধানীর লালবাগ থানায় দায়েরকৃত একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল, ২০২৬) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা শুনানি শেষে তার রিমান্ড ও জামিন—উভয় আবেদনই নামঞ্জুর করে এই আদেশ প্রদান করেন।

 

 

এর আগে, সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ রোডের নিজ বাসভবন থেকে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আটকের পর তাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পরবর্তীতে লালবাগ থানায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

 

 

মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে দুই দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের লালবাগ জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহসীন উদ্দীন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তার জামিন চেয়ে আবেদন করেন। আদালত উভয় পক্ষের যুক্তি তর্ক শুনানি শেষে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন।

 

 

আদালতে পুলিশের দাবি ও মামলার প্রেক্ষাপট:

 

 

পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে জমা দেওয়া রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শেখ হাসিনা ও সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ অন্যান্য আসামিরা বিগত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রধান কুশিলব ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আবেদনে আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী মামলার ঘটনা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন। তাই মামলার রহস্য উদঘাটন এবং পলাতক অন্যান্য আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করার জন্য তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন ছিল।

 

 

আদালতে প্রসিকিউশন পক্ষ দাবি করে যে, ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী জামিনে মুক্তি পেলে মামলার তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে পারেন কিংবা স্থায়ীভাবে আত্মগোপনে চলে যেতে পারেন। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে তার বয়সের বিষয় এবং শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে জামিনের প্রার্থনা করেন। আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে কোনো আবেদনই মঞ্জুর না করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে এই হত্যাচেষ্টা মামলাটি অন্যতম।