ঢাকা , শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিক্ষার মান তদারকিতে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছেন এহছানুল হক মিলন

শ্রেণিকক্ষ ও পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানোর ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

সংগৃহীত ছবি

 

দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ ও পরীক্ষাকেন্দ্রে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা বসানোর ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, ডিজিটাল এই তদারকি ব্যবস্থার মাধ্যমে ঘরে বসেই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করা হবে।

 

শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের রাজশাহী অঞ্চলের কেন্দ্রসচিবদের সঙ্গে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “বর্তমান প্রযুক্তির যুগে যদি ঘরে বসে পুরো পৃথিবী দেখা সম্ভব হয়, তবে পরীক্ষাকেন্দ্র দেখা কেন সম্ভব হবে না? আমি প্রতিটি ক্লাসরুমের কার্যক্রম দেখতে চাই—শিক্ষকরা কী পড়াচ্ছেন এবং ছাত্ররা কী করছে। আমাদের কঠোর মনিটরিং বা তদারকি করতেই হবে, এর কোনো বিকল্প নেই।

 

” তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, সিসি ক্যামেরা কেবল পরীক্ষার হলের জন্য নয়, বরং প্রতিদিনের পাঠদান প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করার জন্য ব্যবহার করা হবে। সম্প্রতি পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের ক্লাস না হওয়া এবং শিক্ষকদের পাল্টা অভিযোগের প্রেক্ষাপটে মন্ত্রী এই কঠোর তদারকি ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ক্যামেরা থাকলে রেকর্ডিং থাকবে, তখন কেউ আর দায় এড়াতে পারবে না।”

 

 

শিক্ষা খাতের বরাদ্দ নিয়ে মন্ত্রী আশার বাণী শুনিয়েছেন। তিনি জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবার বাজেটে শিক্ষা খাতে পাঁচ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এহছানুল হক মিলনের মতে, এই বরাদ্দ গতবারের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। তবে বরাদ্দের অর্থ সঠিক কাজে লাগানোই বড় চ্যালেঞ্জ।

 

তিনি বলেন, “বিগত বাজেটে আমরা দেখেছি টাকা খরচ করতে না পেরে ফেরত যাচ্ছে। এবার সেই সুযোগ থাকবে না। আমরা পর্যায়ক্রমে শিক্ষা খাতের বাজেট আরও বৃদ্ধি করতে চাই যাতে অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়।”

 

 

মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী কেন্দ্রসচিবদের আসন্ন পরীক্ষাগুলোতে ইলেকট্রনিক ডিভাইসের অপব্যবহার রোধে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা বা রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে বসেই যেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের ক্লাসগুলো দেখা যায়, সেই লক্ষ্যেই ক্লাসরুমগুলোতে সিসি ক্যামেরা পদ্ধতি পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে। এর ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও মনোযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং সামগ্রিক শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রেণিকক্ষ ও পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানোর ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

শিক্ষার মান তদারকিতে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছেন এহছানুল হক মিলন

শ্রেণিকক্ষ ও পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানোর ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

Update Time : ০৮:১২:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ ও পরীক্ষাকেন্দ্রে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা বসানোর ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, ডিজিটাল এই তদারকি ব্যবস্থার মাধ্যমে ঘরে বসেই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করা হবে।

 

শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের রাজশাহী অঞ্চলের কেন্দ্রসচিবদের সঙ্গে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “বর্তমান প্রযুক্তির যুগে যদি ঘরে বসে পুরো পৃথিবী দেখা সম্ভব হয়, তবে পরীক্ষাকেন্দ্র দেখা কেন সম্ভব হবে না? আমি প্রতিটি ক্লাসরুমের কার্যক্রম দেখতে চাই—শিক্ষকরা কী পড়াচ্ছেন এবং ছাত্ররা কী করছে। আমাদের কঠোর মনিটরিং বা তদারকি করতেই হবে, এর কোনো বিকল্প নেই।

 

” তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, সিসি ক্যামেরা কেবল পরীক্ষার হলের জন্য নয়, বরং প্রতিদিনের পাঠদান প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করার জন্য ব্যবহার করা হবে। সম্প্রতি পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের ক্লাস না হওয়া এবং শিক্ষকদের পাল্টা অভিযোগের প্রেক্ষাপটে মন্ত্রী এই কঠোর তদারকি ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ক্যামেরা থাকলে রেকর্ডিং থাকবে, তখন কেউ আর দায় এড়াতে পারবে না।”

 

 

শিক্ষা খাতের বরাদ্দ নিয়ে মন্ত্রী আশার বাণী শুনিয়েছেন। তিনি জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবার বাজেটে শিক্ষা খাতে পাঁচ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এহছানুল হক মিলনের মতে, এই বরাদ্দ গতবারের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। তবে বরাদ্দের অর্থ সঠিক কাজে লাগানোই বড় চ্যালেঞ্জ।

 

তিনি বলেন, “বিগত বাজেটে আমরা দেখেছি টাকা খরচ করতে না পেরে ফেরত যাচ্ছে। এবার সেই সুযোগ থাকবে না। আমরা পর্যায়ক্রমে শিক্ষা খাতের বাজেট আরও বৃদ্ধি করতে চাই যাতে অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়।”

 

 

মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী কেন্দ্রসচিবদের আসন্ন পরীক্ষাগুলোতে ইলেকট্রনিক ডিভাইসের অপব্যবহার রোধে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা বা রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে বসেই যেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের ক্লাসগুলো দেখা যায়, সেই লক্ষ্যেই ক্লাসরুমগুলোতে সিসি ক্যামেরা পদ্ধতি পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে। এর ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও মনোযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং সামগ্রিক শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।