সংগৃহীত ছবি
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গুম ও অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন বরগুনার সাবেক যুবদল নেতা মশিউর রহমান মামুন। সোমবার (৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তিনি এই লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ডিবি পুলিশের একটি গাড়িতে করে ট্রাইব্যুনালে আসেন মামুন এবং চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের সঙ্গে দীর্ঘ এক ঘণ্টা বৈঠক করেন।
বৈঠক শেষে অশ্রুসজল চোখে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মামুন তার বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০১৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ব্যাংকক যাওয়ার পথে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে সাদা পোশাকধারী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়ে যায়।
এরপর দীর্ঘ ছয় মাস তাকে একটি অন্ধকার ও গোপন স্থানে চোখ ও হাত বেঁধে আটকে রাখা হয়। মামুন বলেন, “গুম অবস্থায় আমার ওপর যে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, তার চিহ্ন আমি আজও বয়ে বেড়াচ্ছি। আমি আগে নিয়মিত দৌড়াতাম, খেলাধুলা করতাম; আর এখন ঠিকমতো হাঁটতেও পারি না।”
মামুনের অভিযোগ অনুযায়ী, টানা ছয় মাস গুম রাখার পর ২০১৫ সালের ২৩ আগস্ট তাকে ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে তাকে আদালতে তুলে রিমান্ডে নেওয়া হয় এবং প্রায় দুই বছর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি থাকতে হয়। উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেও শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির কারণে তিনি দীর্ঘ সময় স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি।
বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে বসবাসরত মামুন জানান, শেখ হাসিনাসহ তৎকালীন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নির্দেশেই তার ওপর এই জুলুম চালানো হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত অন্যান্য কর্মকর্তাদের নাম এখনই প্রকাশ না করলেও তিনি এই নিষ্ঠুরতার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক 





















