আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সম্পূর্ণ নকলমুক্ত এবং প্রশ্ন ফাঁসের কলঙ্কমুক্ত রাখতে নজিরবিহীন কঠোর অবস্থানের কথা ঘোষণা করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পরীক্ষায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা নকলের প্রমাণ পাওয়া গেলে কেবল সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীই নয়, কেন্দ্রে দায়িত্বরত শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শনিবার মন্ত্রণালয়ের এক সভায় মন্ত্রী স্পষ্ট জানান, মেধার প্রকৃত লড়াই নিশ্চিত করতে এবার থেকে পরীক্ষার খাতায় কোনো ধরনের ‘গ্রেস মার্ক’ বা অনুকম্পার সুযোগ থাকবে না। ছাত্রছাত্রীরা যা লিখবে, তার ভিত্তিতেই তারা নম্বর পাবে। অযোগ্যদের দয়া-দাক্ষিণ্য দেখিয়ে পার করে দেওয়ার সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “আমরা আর কোনো অটোপাস চাই না।”
পরীক্ষাকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছে মন্ত্রণালয়। শিক্ষামন্ত্রী জানান, দুর্গম চরাঞ্চল, উপকূলীয় এলাকা এবং পাহাড়ঘেরা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা বসানো হবে। এই কেন্দ্রগুলো কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে ‘লাইভ মনিটরিং’ সিস্টেমের মাধ্যমে তদারকি করা হবে। প্রয়োজনে অতীতে আলোচিত ‘হেলিকপ্টার মিশন’ পুনরায় চালু করা হবে, যার মাধ্যমে মন্ত্রী বা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ টিম তাৎক্ষণিকভাবে দেশের যেকোনো কেন্দ্রে আকস্মিক পরিদর্শন চালাবেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ও ডিজিটাল জালিয়াতি রুখতে প্রতিটি পয়েন্টে নিরাপত্তাব্যবস্থা কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। প্রশ্নপত্র মুদ্রণ থেকে শুরু করে বিতরণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি এখন ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের আওতায় আনা হচ্ছে। এছাড়াও দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর বিশেষ বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আগামী ২১ এপ্রিল থেকে সারা দেশে একযোগে শুরু হতে যাচ্ছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে শিক্ষা বোর্ডগুলোর কাছে ইতিমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা চাওয়া হয়েছে। কোনো কেন্দ্রে অস্বাভাবিক গতিবিধি বা অনিয়মের সংকেত পাওয়া গেলে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন।

























