ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে প্রাণহানি, শনাক্ত ৯০০ ছাড়াল

দেশে হামের ভয়াবহ বিস্তার, এক দিনে ১২ মৃত্যু

ছবি : সংগৃহীত

 

রাজধানীসহ সারা দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই রোগে আক্রান্ত হয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। অর্থাৎ এক দিনেই মোট ১২ জন এই মরণব্যাধির শিকার হয়েছেন। রোববার (৫ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা বিভাগে একজন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে একজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ ছড়িয়েছে উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর পরিসংখ্যানে। এ সময়ে খুলনা বিভাগে ৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ৩ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ২ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়া এবং পুষ্টিহীনতার কারণে শিশুদের মধ্যে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে।

 

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৪ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের জীবাণু পাওয়া গেছে। এ ছাড়া সারা দেশে আরও ৯৭৪ জনকে সন্দেহভাজন হাম রোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে চলতি বছরের ৫ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯২৯ জনে। অন্যদিকে, সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা ৫ হাজার ৪৭০ জনে পৌঁছেছে, যা গত কয়েক বছরের তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩ হাজার ৩৮০ জন রোগী। তবে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডগুলোতে অসংখ্য রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং দুর্গম অঞ্চলগুলোতে সংক্রমণের হার বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। টিকা না নেওয়া শিশুরা এই রোগের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সচেতনতার অভাবে সাধারণ জ্বরের সঙ্গে হামকে গুলিয়ে ফেলছেন অভিভাবকরা, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

 

সরকারের পক্ষ থেকে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি ও সচেতনতামূলক প্রচার শুরু করা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে নিয়মিত ইপিআই কর্মসূচির পাশাপাশি ক্র্যাশ প্রোগ্রাম জোরদার করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জনসাধারণকে পরামর্শ দিয়েছে, শরীরে তীব্র জ্বর ও লালচে দানা দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে। দ্রুত চিকিৎসা এবং ভিটামিনএ ক্যাপসুল সেবন হামজনিত জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনতে পারে।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপ স্বপ্নে নেইমারের শেষ বাজি, পুনরায় অস্ত্রোপচার

গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে প্রাণহানি, শনাক্ত ৯০০ ছাড়াল

দেশে হামের ভয়াবহ বিস্তার, এক দিনে ১২ মৃত্যু

Update Time : ০৯:৩০:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত

 

রাজধানীসহ সারা দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই রোগে আক্রান্ত হয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। অর্থাৎ এক দিনেই মোট ১২ জন এই মরণব্যাধির শিকার হয়েছেন। রোববার (৫ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা বিভাগে একজন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে একজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ ছড়িয়েছে উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর পরিসংখ্যানে। এ সময়ে খুলনা বিভাগে ৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ৩ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ২ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়া এবং পুষ্টিহীনতার কারণে শিশুদের মধ্যে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে।

 

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৪ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের জীবাণু পাওয়া গেছে। এ ছাড়া সারা দেশে আরও ৯৭৪ জনকে সন্দেহভাজন হাম রোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে চলতি বছরের ৫ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯২৯ জনে। অন্যদিকে, সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা ৫ হাজার ৪৭০ জনে পৌঁছেছে, যা গত কয়েক বছরের তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩ হাজার ৩৮০ জন রোগী। তবে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডগুলোতে অসংখ্য রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং দুর্গম অঞ্চলগুলোতে সংক্রমণের হার বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। টিকা না নেওয়া শিশুরা এই রোগের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সচেতনতার অভাবে সাধারণ জ্বরের সঙ্গে হামকে গুলিয়ে ফেলছেন অভিভাবকরা, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

 

সরকারের পক্ষ থেকে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি ও সচেতনতামূলক প্রচার শুরু করা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে নিয়মিত ইপিআই কর্মসূচির পাশাপাশি ক্র্যাশ প্রোগ্রাম জোরদার করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জনসাধারণকে পরামর্শ দিয়েছে, শরীরে তীব্র জ্বর ও লালচে দানা দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে। দ্রুত চিকিৎসা এবং ভিটামিনএ ক্যাপসুল সেবন হামজনিত জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনতে পারে।