ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ভুট্টা ক্ষেত থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার, এলাকায় চরম উত্তেজনা

ডিমলায় স্কুলছাত্রীকে ৫ ঘণ্টা আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

সংগৃহীত ছবি

 

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে টানা পাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে পাশবিক কায়দায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের তালতলা সরকারপাড়া গ্রামে ঘটে যাওয়া এই লোমহর্ষক ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) রাতে ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শওকত আলী সরকার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

 

অভিযুক্ত দুই যুবক হলেন— তালতলা সরকারপাড়া গ্রামের রবিউল ইসলাম শুকারুর ছেলে কাজল রানা (২১) এবং বরকত আলীর ছেলে মুন্না ইসলাম মান্নান (২৪)।

 

 

মামলার এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই কিশোরী দীর্ঘদিন ধরে তালতলা সরকারপাড়া গ্রামে তার নানির বাড়িতে থেকে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে পড়াশোনা আসছিল। ঘটনার দিন রবিবার (৫ এপ্রিল) সকালে তার মা ও নানি চিকিৎসার প্রয়োজনে রংপুরে ডাক্তার দেখাতে যান। বাড়িতে একা থাকার সুযোগে দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে অভিযুক্ত কাজল ও মুন্না জোরপূর্বক মেয়েটিকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর পার্শ্ববর্তী একটি নির্জন ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে তার মুখে কাপড় বেঁধে আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষণ করে তারা পালিয়ে যায়।

 

 

এদিকে সন্ধ্যা হয়ে গেলেও মেয়েটি বাড়িতে না ফেরায় স্থানীয় প্রতিবেশীরা তাকে খুঁজতে শুরু করেন। দীর্ঘ সময় পর গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় ভুট্টা ক্ষেত থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। রাত ৮টার দিকে তার নানি ও মা রংপুর থেকে ফিরে ঘটনাটি জানতে পারেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে রবিবার দিবাগত রাতেই ডিমলা থানায় ওই দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন।

 

 

ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শওকত আলী সরকার জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে এবং ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

 

 

তিনি আরও জানান, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত কাজল ও মুন্না আত্মগোপনে রয়েছে। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে এবং বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এই নজিরবিহীন ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও মানবাধিকার কর্মীরা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ভুট্টা ক্ষেত থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার, এলাকায় চরম উত্তেজনা

ডিমলায় স্কুলছাত্রীকে ৫ ঘণ্টা আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

Update Time : ১২:৪৬:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে টানা পাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে পাশবিক কায়দায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের তালতলা সরকারপাড়া গ্রামে ঘটে যাওয়া এই লোমহর্ষক ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) রাতে ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শওকত আলী সরকার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

 

অভিযুক্ত দুই যুবক হলেন— তালতলা সরকারপাড়া গ্রামের রবিউল ইসলাম শুকারুর ছেলে কাজল রানা (২১) এবং বরকত আলীর ছেলে মুন্না ইসলাম মান্নান (২৪)।

 

 

মামলার এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই কিশোরী দীর্ঘদিন ধরে তালতলা সরকারপাড়া গ্রামে তার নানির বাড়িতে থেকে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে পড়াশোনা আসছিল। ঘটনার দিন রবিবার (৫ এপ্রিল) সকালে তার মা ও নানি চিকিৎসার প্রয়োজনে রংপুরে ডাক্তার দেখাতে যান। বাড়িতে একা থাকার সুযোগে দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে অভিযুক্ত কাজল ও মুন্না জোরপূর্বক মেয়েটিকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর পার্শ্ববর্তী একটি নির্জন ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে তার মুখে কাপড় বেঁধে আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষণ করে তারা পালিয়ে যায়।

 

 

এদিকে সন্ধ্যা হয়ে গেলেও মেয়েটি বাড়িতে না ফেরায় স্থানীয় প্রতিবেশীরা তাকে খুঁজতে শুরু করেন। দীর্ঘ সময় পর গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় ভুট্টা ক্ষেত থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। রাত ৮টার দিকে তার নানি ও মা রংপুর থেকে ফিরে ঘটনাটি জানতে পারেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে রবিবার দিবাগত রাতেই ডিমলা থানায় ওই দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন।

 

 

ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শওকত আলী সরকার জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে এবং ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

 

 

তিনি আরও জানান, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত কাজল ও মুন্না আত্মগোপনে রয়েছে। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে এবং বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এই নজিরবিহীন ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও মানবাধিকার কর্মীরা।