ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নৌ ও বিমান শক্তি ধ্বংসের দাবির পাল্টা জবাব তেহরানের; চরম উত্তেজনা

ট্রাম্পের ভাষণের পরপরই ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি

ছবি : সংগৃহীত

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতির উদ্দেশে দেওয়া বিশেষ ভাষণ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মাথায় ইসরায়েল অভিমুখে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশসীমায় শনাক্ত করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসরায়েলের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাআয়রণ ডোমঅ্যারোসক্রিয় করা হয়েছে এবং নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

হামলার ঠিক আগ মুহূর্তে হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, চলমান যুদ্ধে ইরানের নৌ ও বিমান শক্তি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের অনেকেই ইতিমধ্যে নিহত হয়েছেন। তিনি দম্ভোক্তি করে বলেন, “ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা এখন তলানিতে। মার্কিন নাগরিকরা এখন আর পারমাণবিক আতঙ্কে নেই।তবে ট্রাম্পের এই দাবিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই ইরান সরাসরি ইসরায়েলের দিকে নতুন করে এই আক্রমণ চালাল। আইডিএফের এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “হুমকি প্রতিহত করতে আমাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী নিরলস কাজ করছে।

 

নিজের ভাষণে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিশেষ করে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারাঅসাধারণ কাজকরেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র কখনোই তাদের বিপদে একা ছেড়ে দেবে না। ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে নাএমন হুঁশিয়ারি পুনর্ব্যক্ত করে ট্রাম্প বলেন, “ইরান বিভিন্ন দেশের ওপর হামলা চালিয়েছে, যা প্রমাণ করে তারা বিশ্ব শান্তির জন্য কতটা বিপজ্জনক।

 

এ সময় ট্রাম্প এক অভাবনীয় ঘোষণা দিয়ে বলেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে দ্রুত আটক করতে পারায় তিনি মার্কিন সেনাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। তাঁর দাবি, এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্বজুড়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এসেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার সম্পর্ক এখন উন্নতির দিকে। এছাড়া তিনি তাঁর প্রথম মেয়াদে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাঁকেবোমা হামলার মূল পরিকল্পনাকারীহিসেবে অভিহিত করেন।

 

ইরান যুদ্ধকে যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যঅপরিহার্যদাবি করে ট্রাম্প বলেন, এই জানমালের বিনিয়োগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটিসফল বিনিয়োগহিসেবে গণ্য হবে। তবে সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের ভাষণের পরপরই ইরানের এই পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রমাণ করে যে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত প্রশমনের পরিবর্তে এক ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ইরানের এই হামলার পর ওয়াশিংটন ও তেল আবিব কী ধরণের পাল্টা ব্যবস্থা নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব সম্প্রদায়।

 

সূত্র: আল জাজিরা

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের ভাষণের পরপরই ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি

নৌ ও বিমান শক্তি ধ্বংসের দাবির পাল্টা জবাব তেহরানের; চরম উত্তেজনা

ট্রাম্পের ভাষণের পরপরই ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি

Update Time : ১১:১৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতির উদ্দেশে দেওয়া বিশেষ ভাষণ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মাথায় ইসরায়েল অভিমুখে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশসীমায় শনাক্ত করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসরায়েলের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাআয়রণ ডোমঅ্যারোসক্রিয় করা হয়েছে এবং নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

হামলার ঠিক আগ মুহূর্তে হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, চলমান যুদ্ধে ইরানের নৌ ও বিমান শক্তি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের অনেকেই ইতিমধ্যে নিহত হয়েছেন। তিনি দম্ভোক্তি করে বলেন, “ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা এখন তলানিতে। মার্কিন নাগরিকরা এখন আর পারমাণবিক আতঙ্কে নেই।তবে ট্রাম্পের এই দাবিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই ইরান সরাসরি ইসরায়েলের দিকে নতুন করে এই আক্রমণ চালাল। আইডিএফের এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “হুমকি প্রতিহত করতে আমাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী নিরলস কাজ করছে।

 

নিজের ভাষণে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিশেষ করে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারাঅসাধারণ কাজকরেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র কখনোই তাদের বিপদে একা ছেড়ে দেবে না। ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে নাএমন হুঁশিয়ারি পুনর্ব্যক্ত করে ট্রাম্প বলেন, “ইরান বিভিন্ন দেশের ওপর হামলা চালিয়েছে, যা প্রমাণ করে তারা বিশ্ব শান্তির জন্য কতটা বিপজ্জনক।

 

এ সময় ট্রাম্প এক অভাবনীয় ঘোষণা দিয়ে বলেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে দ্রুত আটক করতে পারায় তিনি মার্কিন সেনাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। তাঁর দাবি, এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্বজুড়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এসেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার সম্পর্ক এখন উন্নতির দিকে। এছাড়া তিনি তাঁর প্রথম মেয়াদে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাঁকেবোমা হামলার মূল পরিকল্পনাকারীহিসেবে অভিহিত করেন।

 

ইরান যুদ্ধকে যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যঅপরিহার্যদাবি করে ট্রাম্প বলেন, এই জানমালের বিনিয়োগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটিসফল বিনিয়োগহিসেবে গণ্য হবে। তবে সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের ভাষণের পরপরই ইরানের এই পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রমাণ করে যে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত প্রশমনের পরিবর্তে এক ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ইরানের এই হামলার পর ওয়াশিংটন ও তেল আবিব কী ধরণের পাল্টা ব্যবস্থা নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব সম্প্রদায়।

 

সূত্র: আল জাজিরা