সংগৃহীত ছবি
জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে বিভাগীয় নামকরণের চিরচেনা বিতর্ককে আবারও সামনে নিয়ে এলেন কুমিল্লা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার সময় তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে দাবি জানান, কুমিল্লাকে ‘কুমিল্লা’ নামেই বিভাগ ঘোষণা করতে হবে। অন্য কোনো কাল্পনিক বা ভৌগোলিক নামে নয়, বরং ঐতিহ্যের খাতিরেই এই জেলার নাম অক্ষুণ্ণ রাখার দাবি জানান তিনি।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ খন্দকার মোশাররফ কুমিল্লার ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “কুমিল্লা অত্যন্ত ঐতিহাসিক একটি জেলা। শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং জাতীয় অর্থনীতিতে কুমিল্লার অবদান অনস্বীকার্য। এই জনপদের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি কুমিল্লাকে বিভাগ করা। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা জল্পনা-কল্পনা চললেও নামকরণের মারপ্যাঁচে তা আটকে আছে।”
তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, “সাবেক স্বৈরাচারী সরকার কুমিল্লা নামে বিভাগ না করার জন্য অদ্ভুত সব অজুহাত দাঁড় করিয়েছিল। তাদের দাবি ছিল কুমিল্লার ‘কু’ শব্দটি নাকি নেতিবাচক। এমন খোঁড়া যুক্তিতে তারা ‘ময়নামতি’ বা ‘মেঘনা’ নামে বিভাগ করার পায়তারা করেছিল। কুমিল্লার আপামর জনতা দল-মত নির্বিশেষে সেই হঠকারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে। বিগত সরকার সমাধানের আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত জনগণের আবেগের মূল্যায়ন না করেই বিদায় নিয়েছে।”
সংসদ অধিবেশনে ড. মোশাররফ আরও উল্লেখ করেন যে, ২০১৭ সালে কুমিল্লাকে ‘ময়নামতি’ এবং ২০২২ সালে ‘মেঘনা’ নামে বিভাগ করার প্রস্তাব গৃহীত হলেও কুমিল্লার মানুষ তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছিল। তিনি বর্তমান সংসদকে উদ্দেশ্য করে বলেন, কুমিল্লার মানুষের প্রাণের দাবি বাস্তবায়নে আর দেরি করা উচিত নয়।
বিভাগীয় শহরের নাম জেলার নামেই হতে হবে। উল্লেখ্য, বিভাগীয় নামকরণের এই ইস্যুটি দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার স্থানীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ড. মোশাররফের এই জোরালো দাবি এখন সরকারের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই দেখার বিষয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক 
























