ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনা ধ্বংসের মাধ্যমে ইরানি অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা

ইরানের জ্বালানি খাতে ইসরায়েলের বিধ্বংসী হামলা

সংগৃহীত ছবি

 

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের প্রধান পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এই হামলাকে ইরানের অর্থনীতি ও সামরিক সক্ষমতার ওপর এক মারাত্মক আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) জানিয়েছে, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দিতে তারা ‘পূর্ণ শক্তি’ প্রয়োগ শুরু করেছে। এই হামলার ফলে ইরানের মোট পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদনের প্রায় অর্ধেকই এখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম।

 

 

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এক দাপ্তরিক বিবৃতিতে এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইরানের আসালুয়েহে অবস্থিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে।

 

উল্লেখ্য যে, এই একটিমাত্র স্থাপনা থেকেই ইরানের মোট পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের প্রায় ৫০ শতাংশ উৎপাদিত হতো। এর আগে গত সপ্তাহেও অনুরূপ আরেকটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দুটি কারখানা সম্মিলিতভাবে ইরানের মোট পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করত। ফলে এই হামলা দেশটির বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ প্রায় রুদ্ধ করে দিয়েছে।

 

 

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাৎজ আরও দাবি করেন, এই সুপরিকল্পিত হামলায় ইরানি অর্থনীতিতে কয়েক হাজার কোটি ডলারের সমপরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প মূলত দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ডসের (IRGC) আয়ের প্রধান উৎস, যা তাদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ও আঞ্চলিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিও সম্প্রতি দুটি প্রধান পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানিতে হামলার খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

 

 

এই সংঘাতের প্রেক্ষাপট আরও জটিল হয়ে উঠেছে কূটনৈতিক ব্যর্থতার কারণে। এর আগে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে একটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব দেওয়া হলেও ইরান তা নাকচ করে দেয়। তেহরান জানিয়েছিল, আগের ১৫-দফা প্রস্তাব তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় এবং তারা পাল্টা জবাব দেওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

 

 

এই অনড় অবস্থানের মধ্যেই ইসরায়েলের এমন বিধ্বংসী হামলা মধ্যপ্রাচ্যে একটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। জ্বালানি খাতের এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা ইরানের জন্য এখন এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনা ধ্বংসের মাধ্যমে ইরানি অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা

ইরানের জ্বালানি খাতে ইসরায়েলের বিধ্বংসী হামলা

Update Time : ০৯:০৯:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের প্রধান পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এই হামলাকে ইরানের অর্থনীতি ও সামরিক সক্ষমতার ওপর এক মারাত্মক আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) জানিয়েছে, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দিতে তারা ‘পূর্ণ শক্তি’ প্রয়োগ শুরু করেছে। এই হামলার ফলে ইরানের মোট পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদনের প্রায় অর্ধেকই এখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম।

 

 

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এক দাপ্তরিক বিবৃতিতে এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইরানের আসালুয়েহে অবস্থিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে।

 

উল্লেখ্য যে, এই একটিমাত্র স্থাপনা থেকেই ইরানের মোট পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের প্রায় ৫০ শতাংশ উৎপাদিত হতো। এর আগে গত সপ্তাহেও অনুরূপ আরেকটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দুটি কারখানা সম্মিলিতভাবে ইরানের মোট পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করত। ফলে এই হামলা দেশটির বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ প্রায় রুদ্ধ করে দিয়েছে।

 

 

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাৎজ আরও দাবি করেন, এই সুপরিকল্পিত হামলায় ইরানি অর্থনীতিতে কয়েক হাজার কোটি ডলারের সমপরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প মূলত দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ডসের (IRGC) আয়ের প্রধান উৎস, যা তাদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ও আঞ্চলিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিও সম্প্রতি দুটি প্রধান পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানিতে হামলার খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

 

 

এই সংঘাতের প্রেক্ষাপট আরও জটিল হয়ে উঠেছে কূটনৈতিক ব্যর্থতার কারণে। এর আগে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে একটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব দেওয়া হলেও ইরান তা নাকচ করে দেয়। তেহরান জানিয়েছিল, আগের ১৫-দফা প্রস্তাব তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় এবং তারা পাল্টা জবাব দেওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

 

 

এই অনড় অবস্থানের মধ্যেই ইসরায়েলের এমন বিধ্বংসী হামলা মধ্যপ্রাচ্যে একটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। জ্বালানি খাতের এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা ইরানের জন্য এখন এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।