ঢাকা , রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক; শিক্ষকদের পেশাদারিত্বের আহ্বান

আগামীর পরীক্ষায় কোনো নকল চলবে না: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

 

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে একসময় শিক্ষকরাই নকলের সংস্কৃতি শুরু করেছিলেন, আবার তাঁরাই তা কঠোরভাবে বন্ধ করেছিলেন। কিন্তু গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশজুড়ে পুনরায় নকলে সয়লাব হয়ে যায়। তিনি স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এখন থেকে বাংলাদেশে নকল করে পরীক্ষা দেওয়ার আর কোনো সুযোগ থাকবে না এবং এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে শিক্ষকদের ভূমিকা হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড সম্মেলন কক্ষে বোর্ড কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

শিক্ষামন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে শিক্ষকদের মর্যাদাকে উঁচুতে তুলে ধরে বলেন, “একজন পুলিশ সদস্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করেন, জেলা প্রশাসক জেলা শাসন করেন, কিন্তু আগামী দিনের প্রকৃত বাংলাদেশ গড়ার কারিগর হলেন শিক্ষকরা। দেশনায়ক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমার প্রতি আস্থা রেখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন। এই মন্ত্রণালয় আমার জন্য একটি এবাদতখানা। তেমনি শিক্ষকরা যদি একজন শিক্ষার্থীকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন, তবে সেটি তাঁদের জন্যসদকায়ে জারিয়াহিসেবে গণ্য হবে। তাই আপনাদের জন্য শিক্ষাদান একটি পবিত্র দায়িত্ব।

 

অতীতের সমালোচনা করে এহসানুল হক মিলন বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে পরীক্ষার হলগুলোতে শিক্ষকরাই নকল সরবরাহে লিপ্ত থাকতেন। তিনি অভিযোগ করেন, তখন শিক্ষকদের হাতে দুটি কলম থাকতো- একটি কালো এবং একটি লাল। কালো কলম দিয়ে তাঁরা শিক্ষার্থীদের উত্তর লিখে দিতেন। তিনি ঘোষণা করেন, “এখন থেকে সেই যুগ শেষ। আগামীর প্রতিটি পরীক্ষা হবে সম্পূর্ণ নকলমুক্ত। শিক্ষকরা আর শিক্ষার্থীদের উত্তর বলে দিতে পারবেন না।

 

আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে মন্ত্রী জানান, প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রকে বাধ্যতামূলকভাবে সিসি (ক্লোজ সার্কিট) ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। শুধু পরীক্ষার সময় নয়, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থায়ীভাবে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ দেন তিনি। এতে করে শিক্ষা কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে তিনি মনে করেন।

 

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শামসুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ আবুল বাশার এবং স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষকদের পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে কোনো প্রকার আপস করা হবে না।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মহামারিতে রূপ নিতে পারে হাম: জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন এক অশনিসংকেত

প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক; শিক্ষকদের পেশাদারিত্বের আহ্বান

আগামীর পরীক্ষায় কোনো নকল চলবে না: শিক্ষামন্ত্রী

Update Time : ০৬:৪৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত

 

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে একসময় শিক্ষকরাই নকলের সংস্কৃতি শুরু করেছিলেন, আবার তাঁরাই তা কঠোরভাবে বন্ধ করেছিলেন। কিন্তু গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশজুড়ে পুনরায় নকলে সয়লাব হয়ে যায়। তিনি স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এখন থেকে বাংলাদেশে নকল করে পরীক্ষা দেওয়ার আর কোনো সুযোগ থাকবে না এবং এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে শিক্ষকদের ভূমিকা হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড সম্মেলন কক্ষে বোর্ড কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

শিক্ষামন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে শিক্ষকদের মর্যাদাকে উঁচুতে তুলে ধরে বলেন, “একজন পুলিশ সদস্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করেন, জেলা প্রশাসক জেলা শাসন করেন, কিন্তু আগামী দিনের প্রকৃত বাংলাদেশ গড়ার কারিগর হলেন শিক্ষকরা। দেশনায়ক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমার প্রতি আস্থা রেখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন। এই মন্ত্রণালয় আমার জন্য একটি এবাদতখানা। তেমনি শিক্ষকরা যদি একজন শিক্ষার্থীকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন, তবে সেটি তাঁদের জন্যসদকায়ে জারিয়াহিসেবে গণ্য হবে। তাই আপনাদের জন্য শিক্ষাদান একটি পবিত্র দায়িত্ব।

 

অতীতের সমালোচনা করে এহসানুল হক মিলন বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে পরীক্ষার হলগুলোতে শিক্ষকরাই নকল সরবরাহে লিপ্ত থাকতেন। তিনি অভিযোগ করেন, তখন শিক্ষকদের হাতে দুটি কলম থাকতো- একটি কালো এবং একটি লাল। কালো কলম দিয়ে তাঁরা শিক্ষার্থীদের উত্তর লিখে দিতেন। তিনি ঘোষণা করেন, “এখন থেকে সেই যুগ শেষ। আগামীর প্রতিটি পরীক্ষা হবে সম্পূর্ণ নকলমুক্ত। শিক্ষকরা আর শিক্ষার্থীদের উত্তর বলে দিতে পারবেন না।

 

আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে মন্ত্রী জানান, প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রকে বাধ্যতামূলকভাবে সিসি (ক্লোজ সার্কিট) ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। শুধু পরীক্ষার সময় নয়, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থায়ীভাবে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ দেন তিনি। এতে করে শিক্ষা কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে তিনি মনে করেন।

 

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শামসুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ আবুল বাশার এবং স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষকদের পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে কোনো প্রকার আপস করা হবে না।