ছবি : রয়টার্স
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে উত্তেজনা যেন থামছেই না। এবার দক্ষিণ লেবাননে হামলার জন্য প্রস্তুত থাকা একটি শক্তিশালী রকেট লঞ্চার ধ্বংস করার দাবি করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে রকেট ছোড়ার ঠিক আগ মুহূর্তে অত্যন্ত নিপুণভাবে অভিযান চালিয়ে এটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বলে জানানো হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম বিবিসির বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সফল অভিযানের দাবি আইডিএফ-এর আইডিএফ-এর অফিশিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, তাদের গোয়েন্দা নজরদারিতে দক্ষিণ লেবাননের জুয়াইয়া এলাকায় একটি রকেট লঞ্চারের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। লঞ্চারটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় ছিল এবং যে কোনো সময় ইসরায়েলি জনপদে বড় ধরনের হামলার আশঙ্কা ছিল। তবে সেই সুযোগ দেওয়ার আগেই আইডিএফ-এর বিমান হামলা বা বিশেষ অভিযানে এটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়। বিবৃতিতে হামলার একটি ভিডিও ফুটেজও সংযুক্ত করা হয়েছে, যা সোশ্যাল মিডিয়া ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।
জটিল ভূ-রাজনীতি ও অনিশ্চয়তা এই হামলাটি এমন এক সময়ে সম্পন্ন হলো যখন সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এই চুক্তির ছায়া লেবাননের ওপর পড়বে কি না—তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের ময়দানে যখন পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে, তখন কূটনৈতিক টেবিলের সিদ্ধান্তগুলো কার্যকর করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।
কূটনৈতিক তৎপরতা বনাম সংঘাত সম্প্রতি পাকিস্তানে দুই পক্ষের মধ্যে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা কোনো ফলপ্রসূ সিদ্ধান্ত ছাড়াই ব্যর্থ হয়েছে। এরপর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিরতি কতটুকু টিকবে, তা নিয়ে নতুন করে সংশয় তৈরি হয়েছে। একদিকে যেমন পাল্টাপাল্টি হামলার খবর আসছে, অন্যদিকে পর্দার আড়ালে চলছে জোরদার কূটনৈতিক তৎপরতা। জানা গেছে, আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সীমান্তে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং যুদ্ধের বিস্তার রোধ করাই হবে এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য। তবে জুয়াইয়া এলাকায় আইডিএফ-এর এই সাম্প্রতিক অভিযান ওয়াশিংটন বৈঠকের আবহকে কতটা প্রভাবিত করবে, তা এখন দেখার বিষয়। যদি কূটনৈতিক সমাধান না আসে, তবে এই অঞ্চলে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হতে পারে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 






















