ঢাকা , শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বৈরুতে ড্রোন টহল ও বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়ে চরম আতঙ্ক

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি তাণ্ডব: জনাকীর্ণ হাসপাতালেও হামলার হুমকি

ছবি : রয়টার্স

 

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর ভয়াবহ ও নিরবচ্ছিন্ন হামলা এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের রূপ নিয়েছে। সিদোন ও নাবাতিয়াহসহ দক্ষিণ লেবাননের প্রতিটি প্রান্তে গত কয়েকদিন ধরে আগুনের বৃষ্টি ঝরছে। বাদ যাচ্ছে না চলন্ত যানবাহনও; সম্প্রতি একটি যাত্রীবাহী গাড়ির ওপর ড্রোন হামলা চালিয়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

 

১০ এপ্রিল রাতভর রাজধানী বৈরুতের আকাশে ইসরায়েলি নজরদারি ড্রোনের গুঞ্জন সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কায় প্রহর গুনছে শহরবাসী।

 

 

সংঘাতের এই চরম পর্যায়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরের বাসিন্দাদের অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই উচ্ছেদ আদেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ‘জনা’ শহরকেও। উল্লেখ্য, এই শহরটি বর্তমানে হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রধান আশ্রয়স্থল। জীবন বাঁচাতে যারা দক্ষিণ লেবানন থেকে পালিয়ে এসেছিলেন, তারা এখন আবারও এক অনিশ্চিত গন্তব্যের মুখে দাঁড়িয়েছেন।

 

 

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, জনা শহরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) পরিচালিত দুটি বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল অবস্থিত। ইসরায়েলের এই উচ্ছেদ নির্দেশের পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, ওই হাসপাতাল দুটিতে বর্তমানে ৪৫০ জন মুমূর্ষু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। হাসপাতালের কার্যক্রম এখন পূর্ণমাত্রায় চলছে এবং এই রোগীদের সরিয়ে নেওয়ার মতো বিকল্প কোনো চিকিৎসা ব্যবস্থা বা নিরাপদ স্থান লেবাননে অবশিষ্ট নেই। সংস্থাটি অবিলম্বে এই জীবনঘাতী নির্দেশ প্রত্যাহারের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

 

 

এদিকে লেবাননের স্বাস্থ্য খাত এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। গত বুধবারের হামলায় আহত ১,০০০-এরও বেশি মানুষের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। ওয়ার্ডগুলোতে তিল ধারণের জায়গা নেই, করিডোরগুলোতে কাতরাচ্ছেন যন্ত্রণার শিকার সাধারণ মানুষ।

 

একের পর এক মরদেহ আসায় নিহতের সংখ্যা গণনা এবং পরিচয় শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াও ধীর হয়ে পড়েছে। একদিকে বিরামহীন বোমা হামলা, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব—সব মিলিয়ে লেবানন এখন এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে, হাসপাতালের মতো সুরক্ষিত স্থানে হামলা বা উচ্ছেদ নির্দেশ যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

তরমুজের খোসা ও বীজে লুকিয়ে আছে মহৌষধি গুণ

বৈরুতে ড্রোন টহল ও বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়ে চরম আতঙ্ক

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি তাণ্ডব: জনাকীর্ণ হাসপাতালেও হামলার হুমকি

Update Time : ০৩:৪০:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

ছবি : রয়টার্স

 

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর ভয়াবহ ও নিরবচ্ছিন্ন হামলা এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের রূপ নিয়েছে। সিদোন ও নাবাতিয়াহসহ দক্ষিণ লেবাননের প্রতিটি প্রান্তে গত কয়েকদিন ধরে আগুনের বৃষ্টি ঝরছে। বাদ যাচ্ছে না চলন্ত যানবাহনও; সম্প্রতি একটি যাত্রীবাহী গাড়ির ওপর ড্রোন হামলা চালিয়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

 

১০ এপ্রিল রাতভর রাজধানী বৈরুতের আকাশে ইসরায়েলি নজরদারি ড্রোনের গুঞ্জন সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কায় প্রহর গুনছে শহরবাসী।

 

 

সংঘাতের এই চরম পর্যায়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরের বাসিন্দাদের অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই উচ্ছেদ আদেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ‘জনা’ শহরকেও। উল্লেখ্য, এই শহরটি বর্তমানে হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রধান আশ্রয়স্থল। জীবন বাঁচাতে যারা দক্ষিণ লেবানন থেকে পালিয়ে এসেছিলেন, তারা এখন আবারও এক অনিশ্চিত গন্তব্যের মুখে দাঁড়িয়েছেন।

 

 

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, জনা শহরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) পরিচালিত দুটি বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল অবস্থিত। ইসরায়েলের এই উচ্ছেদ নির্দেশের পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, ওই হাসপাতাল দুটিতে বর্তমানে ৪৫০ জন মুমূর্ষু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। হাসপাতালের কার্যক্রম এখন পূর্ণমাত্রায় চলছে এবং এই রোগীদের সরিয়ে নেওয়ার মতো বিকল্প কোনো চিকিৎসা ব্যবস্থা বা নিরাপদ স্থান লেবাননে অবশিষ্ট নেই। সংস্থাটি অবিলম্বে এই জীবনঘাতী নির্দেশ প্রত্যাহারের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

 

 

এদিকে লেবাননের স্বাস্থ্য খাত এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। গত বুধবারের হামলায় আহত ১,০০০-এরও বেশি মানুষের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। ওয়ার্ডগুলোতে তিল ধারণের জায়গা নেই, করিডোরগুলোতে কাতরাচ্ছেন যন্ত্রণার শিকার সাধারণ মানুষ।

 

একের পর এক মরদেহ আসায় নিহতের সংখ্যা গণনা এবং পরিচয় শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াও ধীর হয়ে পড়েছে। একদিকে বিরামহীন বোমা হামলা, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব—সব মিলিয়ে লেবানন এখন এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে, হাসপাতালের মতো সুরক্ষিত স্থানে হামলা বা উচ্ছেদ নির্দেশ যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে।