ঢাকা , শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
জরাজীর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকিতে পাঠদান, একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

নাজিরপুরে ক্লাস চলাকালে ফ্যান ছিঁড়ে দুই শিক্ষার্থী রক্তাক্ত

সংগৃহীত ছবি

 

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় জরাজীর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালীন মাথার ওপর চলন্ত বৈদ্যুতিক পাখা ছিঁড়ে পড়ে দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার শ্রীরামকাঠী ইউনিয়নের ৮১ নম্বর জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

 

আহত দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়েছে।

 

আহত শিক্ষার্থীরা হলো— জয়পুর গ্রামের সঞ্জীব সমাদ্দারের ছেলে সৌভিক সমাদ্দার (১১) এবং একই এলাকার রেজাউল মাঝির মেয়ে রাবেয়া খাতুন (১১)। তারা দুজনেই ওই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।

 

 

বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে বিদ্যালয়ের একটি পুরাতন ও জরাজীর্ণ ভবনের কক্ষে প্রায় ২৫ জন শিক্ষার্থী গণিত ক্লাসে অংশ নিচ্ছিল। পাঠদান চলাকালীন হঠাৎ সিলিংয়ে থাকা চলন্ত বৈদ্যুতিক পাখাটি ছিঁড়ে সরাসরি সৌভিক সমাদ্দারের মাথার ওপর পড়ে। এতে তার মাথা ফেটে রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং সে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এ সময় পাখার একটি ভাঙা অংশ রাবেয়া খাতুনের মাথায় আঘাত করলে সেও আহত হয়।

 

 

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সহকারী শিক্ষিকা রিক্তা মন্ডল জানান, “আমি শিক্ষার্থীদের অঙ্ক করতে দিয়েছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে তাকিয়ে দেখি ফ্যানটি খুলে ওদের ওপর পড়েছে।” তাৎক্ষণিকভাবে অন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. অতনু হালদার জানান, সৌভিকের মাথায় আঘাত অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। অন্যদিকে, রাবেয়া খাতুনকে নাজিরপুরেই ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

 

 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা স্নিগ্ধা রানী মন্ডল জানান, ভবনটি পুরাতন ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষার্থীর চাপের কারণে সেখানে ক্লাস নিতে তারা বাধ্য হচ্ছিলেন। তবে ভবনটি যে এতটা অনিরাপদ ছিল তা আগে অনুধাবন করা যায়নি বলে তিনি দাবি করেন।

 

এদিকে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাকিম জানান, জরাজীর্ণ ভবনের বিষয়টি এলজিইডি ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। এই ঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা দ্রুত জরাজীর্ণ ভবন সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মহামারিতে রূপ নিতে পারে হাম: জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন এক অশনিসংকেত

জরাজীর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকিতে পাঠদান, একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

নাজিরপুরে ক্লাস চলাকালে ফ্যান ছিঁড়ে দুই শিক্ষার্থী রক্তাক্ত

Update Time : ০৭:১২:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় জরাজীর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালীন মাথার ওপর চলন্ত বৈদ্যুতিক পাখা ছিঁড়ে পড়ে দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার শ্রীরামকাঠী ইউনিয়নের ৮১ নম্বর জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

 

আহত দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়েছে।

 

আহত শিক্ষার্থীরা হলো— জয়পুর গ্রামের সঞ্জীব সমাদ্দারের ছেলে সৌভিক সমাদ্দার (১১) এবং একই এলাকার রেজাউল মাঝির মেয়ে রাবেয়া খাতুন (১১)। তারা দুজনেই ওই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।

 

 

বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে বিদ্যালয়ের একটি পুরাতন ও জরাজীর্ণ ভবনের কক্ষে প্রায় ২৫ জন শিক্ষার্থী গণিত ক্লাসে অংশ নিচ্ছিল। পাঠদান চলাকালীন হঠাৎ সিলিংয়ে থাকা চলন্ত বৈদ্যুতিক পাখাটি ছিঁড়ে সরাসরি সৌভিক সমাদ্দারের মাথার ওপর পড়ে। এতে তার মাথা ফেটে রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং সে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এ সময় পাখার একটি ভাঙা অংশ রাবেয়া খাতুনের মাথায় আঘাত করলে সেও আহত হয়।

 

 

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সহকারী শিক্ষিকা রিক্তা মন্ডল জানান, “আমি শিক্ষার্থীদের অঙ্ক করতে দিয়েছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে তাকিয়ে দেখি ফ্যানটি খুলে ওদের ওপর পড়েছে।” তাৎক্ষণিকভাবে অন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. অতনু হালদার জানান, সৌভিকের মাথায় আঘাত অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। অন্যদিকে, রাবেয়া খাতুনকে নাজিরপুরেই ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

 

 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা স্নিগ্ধা রানী মন্ডল জানান, ভবনটি পুরাতন ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষার্থীর চাপের কারণে সেখানে ক্লাস নিতে তারা বাধ্য হচ্ছিলেন। তবে ভবনটি যে এতটা অনিরাপদ ছিল তা আগে অনুধাবন করা যায়নি বলে তিনি দাবি করেন।

 

এদিকে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাকিম জানান, জরাজীর্ণ ভবনের বিষয়টি এলজিইডি ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। এই ঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা দ্রুত জরাজীর্ণ ভবন সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।