ছবি : সংগৃহীত
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে আজ যখন এক লাখ ৩২ হাজার দর্শক গ্যালারিতে গর্জন তুলবেন, তখন ভারতের সামনে লক্ষ্য কেবল একটি—ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি নয়, বরং ইতিহাসের পরিবর্তন। আজ রোববার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে ভারত। ঘরের মাঠে ভারত পরিষ্কার ফেভারিট হলেও পরিসংখ্যান আর ইতিহাসের কিছু ‘অভিশাপ’ স্বাগতিকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলছে।
ভারতের জন্য আজকের ম্যাচটি কেবল একটি ট্রফি জয়ের লড়াই নয়, বরং বেশ কিছু রেকর্ড ভাঙার লড়াই। গত ৯টি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কোনো স্বাগতিক দেশ শিরোপা জিততে পারেনি। ২০১২ সালে শ্রীলঙ্কা ফাইনালে উঠলেও তাদের স্বপ্নভঙ্গ করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আজ সূর্যকুমার যাদবের দল কি পারবে সেই আক্ষেপ ঘোচাতে? শুধু তাই নয়, এখন পর্যন্ত কোনো দল টানা দুইবার টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ভারতের সামনে সুযোগ রয়েছে প্রথম দল হিসেবে এই কীর্তি গড়ার।
তবে ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় ধাঁধার নাম ‘রোববার’। পরিসংখ্যান বলছে, ভারত এ পর্যন্ত যে কটি বিশ্বকাপ জিতেছে, তার কোনোটিই রোববার ছিল না। অন্যদিকে, ২০০৩ ও ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং ২০১৪ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল তারা হেরেছে এই অভিশপ্ত রোববারে। এমনকি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগের তিন দেখায় একবারও জয়ের মুখ দেখেনি ভারত। আইসিসি ইভেন্টের ফাইনালে কিউইদের বিপক্ষে ভারতের রেকর্ডও সুখকর নয়। ২০০০ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং ২০২১ সালের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে এই নিউজিল্যান্ডের কাছেই হেরেছিল ভারত। যদিও ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয় তাদের আত্মবিশ্বাস জোগাবে।
ভেন্যু আহমেদাবাদ নিয়েও রয়েছে তিক্ত স্মৃতি। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে এই মাঠেই অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ভারতীয় দর্শকদের স্তব্ধ করে দিয়েছিলেন। এবার একই হুমকি দিয়েছেন কিউই অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। এমনকি চলতি আসরে ভারতের একমাত্র হারটি এসেছে এই মাঠেই। তবে এবার ভাগ্য বদলাতে বদ্ধপরিকর টিম ইন্ডিয়া। কুসংস্কার বা অতীত ইতিহাসকে পেছনে ফেলে হার্দিক পান্ডিয়া ও সূর্যকুমাররা তৈরি নতুন কোনো গল্প লিখতে। রিজার্ভ ডে–র ঝামেলা না থাকলে আজ রাতেই জানা যাবে, ভারত কি পারবে ঘরের মাঠে ইতিহাস বদলে চ্যাম্পিয়ন হতে, নাকি নিউজিল্যান্ডের ৩–০ রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ হবে?

স্পোর্টস ডেস্ক 















