সংগৃহীত ছবি
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে বারুদের গন্ধ ছাপিয়ে এখন বইছে শান্তির সুবাতাস। দীর্ঘ ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত আর উৎকণ্ঠার পর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির ফলে আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে মুসলমানদের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান আল-আকসা মসজিদ। দীর্ঘ বিরতির পর মসজিদটি মুসল্লিদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে প্রথম জুমার নামাজে অংশ নেন এক লাখেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মানুষ।
জর্দানের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত সংস্থা ‘ইসলামিক ওয়াকফ’-এর বরাতে ইসরায়েল টাইমস জানায়, শুক্রবার সকাল থেকেই জেরুজালেমের অলিগলি পেরিয়ে মুসল্লিদের ঢল নামে আল-আকসা প্রাঙ্গণে। যুদ্ধ চলাকালীন নিরাপত্তার স্বার্থে দীর্ঘ দিন এখানে প্রবেশের ওপর কড়াকড়ি ও নিষেধাজ্ঞা ছিল।
তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যস্থতায় ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হওয়ায় সব বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, শুধু মূল মসজিদ নয়, বরং পুরো চত্বর কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধের ভয়াবহ প্রভাব পড়েছিল এই পবিত্র নগরীতে। যুদ্ধের সময় ইরান থেকে ছোঁড়া শত শত ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে অন্তত দুটি জেরুজালেমের ওল্ড সিটির সন্নিকটে আঘাত হানলে চরম নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়।
সেই সময় থেকে ৫০ জনের বেশি মানুষের সমাগমে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। ফলে এ বছর রমজানের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়েও মুসল্লিরা তাদের প্রিয় মসজিদে প্রবেশ করতে পারেননি। একই অবস্থা ছিল ইহুদিদের পবিত্র ‘ওয়েস্টার্ন ওয়াল প্লাজা’তেও।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর এই সুযোগ পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সাধারণ মুসল্লিরা। ৩০ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাঈদেহ আশা প্রকাশ করে বলেন, “আশা করি আল-আকসা আর কখনো বন্ধ হবে না। জেরুজালেম বা পশ্চিম তীর—যেখান থেকেই হোক, সব মুসলিমের জন্য এই দ্বার যেন চিরকাল খোলা থাকে।
” ৩৯ বছর বয়সী শরিফ মোহাম্মদ জানান, আল-আকসায় নামাজ আদায়ের অভিজ্ঞতা সব সময়ই ভিন্ন ও বিশেষ কিছু। অন্যদিকে ৫৫ বছর বয়সী প্রবীণ মুসল্লি আহমাদ আম্মার এই মুহূর্তটিকে একটি ‘অবর্ণনীয় অনুভূতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
জেরুজালেমের এই ঐতিহাসিক সমাগম কেবল ধর্মীয় আচার নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরার একটি বড় প্রতীক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

























