ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
দিল্লির আদালতে ফয়সাল ও আলমগীরকে মুখোমুখি করবে এনআইএ

হাদি হত্যা: ভারতে দুই প্রধান অভিযুক্তের ১১ দিনের রিমান্ড

সংগৃহীত ছবি

 

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান দুই অভিযুক্ত ফয়সাল করিম এবং আলমগীর হোসেনকে ১১ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দিল্লির একটি আদালত।

 

 

মঙ্গলবার দিল্লির পাতিয়ালা হাউজ কোর্টের অতিরিক্ত সেশন জজ প্রশান্ত শর্মা উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)-এর আবেদনের প্রেক্ষিতে এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

 

 

এর আগে গত সোমবার অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ট্রানজিট রিমান্ডে পশ্চিমবঙ্গ থেকে দিল্লিতে নিয়ে যায় এনআইএ। তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না এবং সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের মাধ্যমে তারা ভারতে কেন আশ্রয় নিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

 

 

এনআইএ-এর সিনিয়র পাবলিক প্রসিকিউটর রাহুল ত্যাগী আদালতে জানান, অভিযুক্তরা কোনো বৈধ নথিপত্র ছাড়াই অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিল। ফলে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আন্তর্জাতিক কোনো সংযোগ বা বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা থাকার বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাদের বিশদ জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মূল পরিকল্পনাকারীদের সামনে আনা প্রয়োজন।

 

 

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, গত ৭ ও ৮ মার্চের মধ্যবর্তী সময়ে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ সীমান্ত এলাকা থেকে ফয়সাল ও আলমগীরকে গ্রেপ্তার করেছিল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। প্রথমে বিধাননগর মহকুমা আদালতে তাদের ১৪ দিনের এসটিএফ রিমান্ড দেওয়া হয়। সেই মেয়াদ শেষ হলে গত ২২ মার্চ তাদের ১২ দিনের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তীতে এই চাঞ্চল্যকর মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় এনআইএ তদন্তভার গ্রহণ করে।

 

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা হেলমেট পরিহিত দুর্বৃত্তরা ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনার মূল আসামিদের ভারতে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের পর এখন হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের ভাষণের পরপরই ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি

দিল্লির আদালতে ফয়সাল ও আলমগীরকে মুখোমুখি করবে এনআইএ

হাদি হত্যা: ভারতে দুই প্রধান অভিযুক্তের ১১ দিনের রিমান্ড

Update Time : ০৫:৩৪:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান দুই অভিযুক্ত ফয়সাল করিম এবং আলমগীর হোসেনকে ১১ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দিল্লির একটি আদালত।

 

 

মঙ্গলবার দিল্লির পাতিয়ালা হাউজ কোর্টের অতিরিক্ত সেশন জজ প্রশান্ত শর্মা উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)-এর আবেদনের প্রেক্ষিতে এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

 

 

এর আগে গত সোমবার অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ট্রানজিট রিমান্ডে পশ্চিমবঙ্গ থেকে দিল্লিতে নিয়ে যায় এনআইএ। তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না এবং সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের মাধ্যমে তারা ভারতে কেন আশ্রয় নিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

 

 

এনআইএ-এর সিনিয়র পাবলিক প্রসিকিউটর রাহুল ত্যাগী আদালতে জানান, অভিযুক্তরা কোনো বৈধ নথিপত্র ছাড়াই অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিল। ফলে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আন্তর্জাতিক কোনো সংযোগ বা বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা থাকার বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাদের বিশদ জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মূল পরিকল্পনাকারীদের সামনে আনা প্রয়োজন।

 

 

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, গত ৭ ও ৮ মার্চের মধ্যবর্তী সময়ে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ সীমান্ত এলাকা থেকে ফয়সাল ও আলমগীরকে গ্রেপ্তার করেছিল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। প্রথমে বিধাননগর মহকুমা আদালতে তাদের ১৪ দিনের এসটিএফ রিমান্ড দেওয়া হয়। সেই মেয়াদ শেষ হলে গত ২২ মার্চ তাদের ১২ দিনের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তীতে এই চাঞ্চল্যকর মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় এনআইএ তদন্তভার গ্রহণ করে।

 

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা হেলমেট পরিহিত দুর্বৃত্তরা ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনার মূল আসামিদের ভারতে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের পর এখন হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।